মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ ১২ আগস্ট চুরাচাঁদপুর, काकचिंग, ইম্ফল পশ্চিম ও থৌবল জেলায় পৃথক অভিযানে পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ, রেডিও সেট এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
চুরাচাঁদপুর জেলার খেংজাং গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (UKNA)-এর সঙ্গে কথিতভাবে যুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। অভিযানের সময় দুজনকেই হেফাজতে নেওয়া হয়।
তল্লাশির সময় একটি AK রাইফেল ও তার ম্যাগাজিন, ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের ১২টি কার্তুজ, একটি ৯ মিমি পিস্তল ও তার ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি Baofeng রেডিও সেট এবং একটি Royal Enfield মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও যোগাযোগ সরঞ্জাম তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। দুই সন্দেহভাজনের কথিত সংগঠনের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল এবং তারা এলাকায় অন্য কোনো কার্যকলাপে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাদের যোগাযোগ, যাতায়াত এবং কথিত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।
কাকচিং জেলায় হিয়াংলাম আওয়াং লিকাই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৪৫ বছর বয়সি ওয়াহেংবাম আপোইচা মেইতেই ওরফে মাইকেলকে গ্রেফতার করেছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তাকে রেভলিউশনারি পিপলস ফ্রন্ট/পিপলস লিবারেশন আর্মি (RPF/PLA)-এর কথিত সক্রিয় ক্যাডার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গ্রেফতারের পর তার কথিত সাংগঠনিক ভূমিকা এবং অন্যান্য কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এই অভিযানের ক্ষেত্রে পাওয়া বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মণিপুরে সক্রিয় কথিত উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক এবং তাদের স্থানীয় যোগাযোগের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
মণিপুর পুলিশ ইম্ফল পশ্চিম জেলায় পৃথক অভিযানে ৩৮ বছর বয়সি লোংজাম অর্জুন ওরফে নাওবিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, সে কথিতভাবে জোর করে অর্থ আদায়ের কার্যকলাপে যুক্ত ছিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠন KCP (MJC)-এর সক্রিয় ক্যাডার।
সেকমাই থানার অধীন এলাকায় তার বর্তমান অবস্থান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কর্তৃপক্ষের মতে, অর্জুন মূলত সমরৌ মাখা লিকাইয়ের বাসিন্দা এবং কথিতভাবে সেনজাম চিরাং এলাকায় বসবাস করছিল।
কথিত তোলাবাজির কার্যকলাপে তার ভূমিকা কী ছিল এবং তার সঙ্গে আর কারা যুক্ত থাকতে পারে, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তদন্তের সময় তার যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
থৌবল জেলায়ও পৃথক অভিযান চালানো হয়। বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে থৌবল CDO-এর দলগুলি খোঁংজোম থানার অধীন সাপাম এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়।
অভিযানে ৪১ বছর বয়সি চোংথম প্রেমচন্দ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। কর্তৃপক্ষ তাকে কথিতভাবে জোর করে অর্থ আদায়ের কার্যকলাপে যুক্ত এবং KYKL-এর সক্রিয় ক্যাডার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কথিত তোলাবাজির কার্যকলাপ এবং সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করাই তদন্তের উদ্দেশ্য।
চুরাচাঁদপুর, কাকচিং, ইম্ফল পশ্চিম ও থৌবল জেলায় পৃথক অভিযানে পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী কথিত উগ্রপন্থী ও তোলাবাজি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের অস্ত্র, যোগাযোগের মাধ্যম এবং স্থানীয় যোগাযোগ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে।
চুরাচাঁদপুরের অভিযানে AK রাইফেল, ৭.৬২ মিমি কার্তুজ, ৯ মিমি পিস্তল এবং রেডিও সেট উদ্ধারের তথ্য সামনে এসেছে।
চুরাচাঁদপুরে দুই সন্দেহভাজনের কাছ থেকে AK রাইফেল, ৭.৬২ মিমি কার্তুজ এবং ৯ মিমি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত একটি রেডিও সেটও জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলি অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এসেছিল এবং সেগুলি কোন কার্যকলাপে ব্যবহারের জন্য ছিল, তা খতিয়ে দেখবে। তবে অস্ত্রগুলির ব্যবহার বা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে তাদের যোগসূত্র তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি।
মণিপুরে কথিত উগ্রপন্থী কার্যকলাপ এবং জোর করে অর্থ আদায়ের ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
১২ আগস্টের অভিযানে গ্রেফতার পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। কাউকে অভিযুক্ত বা কথিত ক্যাডার হিসেবে চিহ্নিত করার অর্থ আদালতে তার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হবে।
গ্রেফতারের পর তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল কি না অথবা তারা পৃথক নেটওয়ার্কের হয়ে কাজ করছিল কি না, তা জানতে চেষ্টা করছে সংস্থাগুলি।
জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আরও গ্রেফতার বা তল্লাশি অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কথিত উগ্রপন্থী ও জোর করে অর্থ আদায়ের নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ এবং তাদের স্থানীয় যোগাযোগ শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
মণিপুরের চার জেলায় এই অভিযান নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের অংশ। কর্তৃপক্ষের মতে, সন্দেহভাজন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত থাকবে।










