ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ ৫২ বছর বয়সে ক্যামেরন ও'রাইলিকে বিয়ে করলেন

ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ ৫২ বছর বয়সে আইরিশ-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী ক্যামেরন ও'রাইলিকে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে বিয়ে করেছেন। ১৩ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে।

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও প্রাক্তন ক্রিকেটার ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ ৫২ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সী আইরিশ-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী ক্যামেরন ও'রাইলির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে।

জেমিমা ও ক্যামেরন তাঁদের বিয়ের বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি। তবে ১৩ সেপ্টেম্বর জেমিমার ভাশুরের স্ত্রী জেমিমা জোন্স সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে এই বিয়ের খবর জানান। ইনস্টাগ্রামে নিজের স্বামী বেন গোল্ডস্মিথের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে তিনি জেমিমা ও ক্যামেরনের বিয়ের কথা উল্লেখ করেন।

জোন্স তাঁর পোস্টে জানান, তিনি জেমিমা ও ক্যামেরনের বিয়ে উদযাপন করছেন। এই পোস্টের পরই জেমিমার দ্বিতীয় বিয়ের খবর সামনে আসে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে শুরু করে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, বিয়েটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি জনসমক্ষে না এনে ব্যক্তিগত পরিসরেই রাখা হয়েছিল এবং বিয়ের আগে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি চলচ্চিত্র বা তথ্যচিত্র প্রকল্পে কাজ করার সময় জেমিমা ও ক্যামেরন ও'রাইলির পরিচয় হয়। ক্যামেরন ওই প্রকল্পের সঙ্গে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

কাজের সূত্রে প্রথমে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয় এবং পরে তা ব্যক্তিগত সম্পর্কে পরিণত হয়। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, দুজন এক বছরেরও বেশি সময় সম্পর্কে ছিলেন এবং বিষয়টি জনসমক্ষে আনেননি। এরপর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে জেমিমা বা ক্যামেরনের পক্ষ থেকে তাঁদের সম্পর্কের শুরু, প্রেমের সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জেমিমা গোল্ডস্মিথ ১৯৯৫ সালে ইমরান খানের সঙ্গে প্রথম বিয়ে করেন। তখন জেমিমার বয়স ছিল ২১ বছর এবং ইমরান খানের বয়স ছিল ৪২ বছর। ইমরান সেই সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচিত খেলোয়াড় ছিলেন এবং ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার দিকে এগোচ্ছিলেন।

দুজনের বয়সের পার্থক্য ছিল প্রায় ২১ বছর। তাঁদের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিও আলাদা ছিল। বিয়ের আগে এই সম্পর্ক নিয়ে জেমিমার পরিবারেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

বিয়ের পর জেমিমা ও ইমরান খানের দুই ছেলে হয়। তাঁদের নাম সুলেমান ঈসা খান এবং কাসিম খান।

প্রায় নয় বছর একসঙ্গে থাকার পর ইমরান খান ও জেমিমার ২০০৪ সালের জুন মাসে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর জেমিমা তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে লন্ডনে ফিরে যান।

পরে জেমিমা সংবাদমাধ্যম ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ক্ষেত্রে কাজ করেন। তিনি তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। ইমরান খানের সঙ্গে বিয়ের সময় এবং তার পরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন তুলনামূলকভাবে গোপন রেখেছেন।

ইমরান খান ও জেমিমার দুই ছেলেও তাঁদের বাবা-মায়ের কারণে জনজীবনে আলোচনায় থেকেছেন। বিবাহবিচ্ছেদের পরও সন্তানদের বিষয়ে জেমিমা ও ইমরানের যোগাযোগ বজায় ছিল।

ক্যামেরন ও'রাইলি আইরিশ মিডিয়া ব্যবসায়ী স্যার অ্যান্থনি ও'রাইলির ছেলে। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে মিডিয়া ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাজের জন্য তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

ক্যামেরন অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া সংস্থা APN News & Media-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা CEO ছিলেন। সংস্থাটি পরে ARN Media নামে পরিচিত হয়।

মিডিয়া ক্ষেত্রে কাজের পর ক্যামেরন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করেন। তিনি ‘বেয়ার্ড ক্যাপিটাল’ নামে একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থা শুরু করেন। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ক্যামেরনের আগের বিয়ে থেকে চার সন্তান রয়েছে। জেমিমার মতো ক্যামেরনেরও দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে পরিচিতি রয়েছে।

জেমিমা গোল্ডস্মিথ ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও বিলিয়নেয়ার স্যার জেমস গোল্ডস্মিথের মেয়ে। তাঁর মা লেডি অ্যানাবেল গোল্ডস্মিথ লন্ডনের পরিচিত সোশ্যালাইট ছিলেন।

স্যার জেমস গোল্ডস্মিথ ১৯৯৭ সালে মারা যান। জেমিমার মা লেডি অ্যানাবেল প্রায় এক বছর আগে মারা যান। জেমিমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনের ব্যবসায়িক ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।

জেমিমা নিজেও পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি মিডিয়া, চলচ্চিত্র এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কাজের জন্য পরিচিত।

ইমরান খানের সঙ্গে বিয়ের পর জেমিমা পাকিস্তানের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি মূলত লন্ডনে থাকেন এবং নিজের পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করেন।

জেমিমা বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান ও ইমরান খান সম্পর্কিত বিষয়েও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এর পরেও তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে সংবাদমাধ্যমের নজর থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

ইমরান খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর প্রায় দুই দশক ধরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কম তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্যামেরন ও'রাইলির সঙ্গে তাঁর বিয়ের খবর সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।

জেমিমা গোল্ডস্মিথ ও ক্যামেরন ও'রাইলি এখনও তাঁদের বিয়ে নিয়ে বিস্তারিত কোনও প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি। জেমিমা জোন্সের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের মাধ্যমেই মূলত বিয়ের তথ্য সামনে এসেছে।

তাই ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান, বিয়ের তারিখ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত বিবরণের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ সীমিত। বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুজন ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে বিয়ে করেছেন।

ইমরান খানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের প্রায় ২২ বছর পর জেমিমার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে। তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পরিচিত ক্রিকেটার ইমরান খানের সঙ্গে এবং দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে আইরিশ-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী ক্যামেরন ও'রাইলির সঙ্গে।

 

Leave a comment