লোকনাথ বাবার জন্মতিথি জন্মাষ্টমীকে ঘিরে প্রতি বছরই কচুয়া ধামে ভক্তদের ঢল নামে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা তো বটেই, ভিন্রাজ্য থেকেও বহু মানুষ এখানে পুজো ও দর্শনের জন্য আসেন। এবারও কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর সম্ভাব্য সমাগমের কথা মাথায় রেখে উৎসবের আগেই নিরাপত্তা ও পরিষেবা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে।
জন্মাষ্টমীর তিন দিন কচুয়ায় বাড়বে ভিড়
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার অন্যতম পরিচিত তীর্থস্থান কচুয়া ধাম। লোকনাথ বাবার জন্মতিথি উপলক্ষে প্রতি বছর এখানে বড় আকারে উৎসব হয়। এবার ২, ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর—এই তিন দিন কচুয়া ধামে পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়বে বলে প্রশাসনের তরফে অনুমান করা হচ্ছে।ইতিমধ্যেই মন্দির চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। ভক্তদের যাতায়াত যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায়, সেই দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তায় নাইট ভিশন সিসিটিভি
বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। লোকনাথ মিশন ও প্রশাসনের উদ্যোগে মন্দির চত্বরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হচ্ছে নাইট ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরা।দিনের পাশাপাশি রাতেও নজরদারি চালানো যাবে এই ক্যামেরার মাধ্যমে। ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ভক্তদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে বিশাল বাঁশের ব্যারিকেড
শুধু ক্যামেরা নয়, পুণ্যার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেও একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মন্দির চত্বরে তৈরি করা হচ্ছে বড় বাঁশের ব্যারিকেড।ভিড়ের চাপের সময় যাতে মানুষ এলোমেলোভাবে চলাচল না করেন এবং দর্শনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেজন্য নির্দিষ্ট পথ তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে।
দুধপুকুর থেকে ভোগের জায়গা, চলছে পরিষ্কারের কাজ
উৎসব উপলক্ষে শুধু নিরাপত্তা নয়, পরিষেবা ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের দুধপুকুর, ভোগ রান্নার স্থান-সহ একাধিক জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের যাতে পরিষেবা পেতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রস্তুতি। বিপুল ভিড়ের মধ্যে কোনও পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হচ্ছে মেডিক্যাল ক্যাম্পও।
বেণীমাধবের বাড়িতেও ভক্তদের আনাগোনা
কচুয়া ধামে লোকনাথ বাবার মন্দির দর্শনের পাশাপাশি আরও একটি ঐতিহাসিক স্থান ভক্তদের আকর্ষণ করে। লোকনাথ বাবার বাল্যবন্ধু বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটক যান।ফলে জন্মাষ্টমীর সময় শুধু মন্দির নয়, কচুয়া ধাম সংলগ্ন এলাকাতেও মানুষের চাপ বাড়ে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আশপাশের এলাকাতেও পরিষেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রশাসন
জন্মাষ্টমীর আগে ধীরে ধীরে উৎসবের চেহারা নিতে শুরু করেছে কচুয়া ধাম। সম্ভাব্য কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগমকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা পরিষেবা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।লক্ষ্য একটাই—লোকনাথ বাবার জন্মতিথিতে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা যাতে কোনওরকম সমস্যায় না পড়ে শান্তিপূর্ণভাবে পুজো ও দর্শন করতে পারেন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে তাই ব্যস্ত প্রশাসন ও লোকনাথ মিশন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার কচুয়া ধামে এবারও বিপুল পুণ্যার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা। সেই ভিড় সামলাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন ও লোকনাথ মিশন। মন্দির চত্বরে বসানো হচ্ছে নাইট ভিশন সিসিটিভি, তৈরি হচ্ছে বাঁশের ব্যারিকেড। পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে মেডিক্যাল ক্যাম্প ও অন্যান্য পরিষেবা।





