কানপুরে কাঁচা বাড়ি ধসে বাবা ও তিন মেয়ের মৃত্যু, গুরুতর আহত চতুর্থ মেয়ে হাসপাতালে

কানপুরের ঘাটমপুরের হিরনি গ্রামে কাঁচা বাড়ি ধসে মুकेশ সিং ও তাঁর তিন মেয়ে মায়া, নীতু ও পল্লবীর মৃত্যু হয়েছে। চতুর্থ মেয়ে কাজল ওরফে লক্ষ্মী গুরুতর আহত অবস্থায় হ্যালেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কানপুরে কাঁচা বাড়ি ধসে বাবা ও তিন মেয়ের মৃত্যু, গুরুতর আহত চতুর্থ মেয়ে হাসপাতালে
Photo Credit / Attribution: Google

কানপুরের ঘাটমপুর এলাকার হিরনি গ্রামে রবিবার কাঁচা বাড়ি ধসে একই পরিবারের বাবা ও তিন মেয়ের মৃত্যু হয়। সোমবার মুकेশ সিং বৈশ্য ও তাঁর তিন মেয়ে মায়া, নীতু এবং পল্লবীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে গ্রামবাসীরা তাঁদের মরদেহ মুসানগর ঘাটে নিয়ে যান। পরিবারের চতুর্থ মেয়ে কাজল ওরফে লক্ষ্মী গুরুতর আহত অবস্থায় কানপুরের হ্যালেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনাটি রবিবার সকালে সाढ़ থানা এলাকার হিরনি গ্রামে ঘটে। প্রায় ৪৫ বছর বয়সী মুकेশ সিং বৈশ্য পরিবারের সঙ্গে একটি কাঁচা বাড়িতে থাকতেন। বৃষ্টির মধ্যে তাঁদের দুইতলা কাঁচা বাড়িটি হঠাৎ ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় মুकेশ তাঁর চার মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। বাড়ি ধসে পুরো পরিবার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

বাড়ি ধসের শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মুकेশ সিং এবং তাঁর মেয়ে মায়া, নীতু ও পল্লবীকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা হয়। তাঁদের কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা চারজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের বড় মেয়ে কাজল ওরফে লক্ষ্মীও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন। তিনি গভীরে আটকে থাকায় প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে কানপুরের হ্যালেট হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, কাজলের বিয়ে ডিসেম্বর মাসে ঠিক হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল। দুর্ঘটনার পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রবিবার গভীর রাতে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রাত প্রায় ২টার সময় চারটি মরদেহ হিরনি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এরপর সোমবার সকালে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়।

সোমবার সকাল প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে একই বাড়ি থেকে মুकेশ সিং এবং তাঁর তিন মেয়ে মায়া, নীতু ও পল্লবীর চারটি শবযাত্রা বের হয়। বহু গ্রামবাসী, নারী ও প্রতিবেশী শেষযাত্রায় অংশ নেন। গ্রামবাসীরা মরদেহে কাঁধ দেন এবং পরিবারের পাশে থাকেন।

চারটি মরদেহ প্রশাসনের দেওয়া যানবাহনে যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত মুসানগর ঘাটে শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর গ্রামবাসীরা উদ্ধার ও ত্রাণব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, বাড়ি ধসের খবর দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছিল। ফলে প্রাথমিক উদ্ধারকাজ তাঁদের নিজেদেরই শুরু করতে হয়। তাঁরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চাপা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রাণ ও তদন্তের কাজ শুরু করে।

কাজলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দুর্ঘটনার পর প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে গুরুতর আহত কাজলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কানপুরের হ্যালেট হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গ্রামবাসীদের মতে, গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির কারণে কাঁচা বাড়িগুলোর দেয়াল ও ছাদ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যেই রবিবার সকালে দুইতলা কাঁচা বাড়িটি হঠাৎ ধসে পড়ে এবং পরিবারের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।

ঘটনার পর কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ত্রাণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপলব্ধ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত কাজলের জন্য দৈব দুর্যোগ ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সহায়তার দাবিও জানানো হয়েছে। প্রশাসন শেষকৃত্যের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় সহায়তা করেছে।

মুकेশ সিংয়ের তিন মেয়ে মায়া, নীতু ও পল্লবীর মৃত্যু হয়েছে এবং কাজল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হিরনি গ্রামের এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত কাজলের চিকিৎসা চলছে।

Leave a comment