বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা—ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি। তাঁদের জীবনের ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নিয়েই ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে থাকে। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের লন্ডনে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা? এবার এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের স্বামী চিকিৎসক ডঃ শ্রীরাম নেনে। তাঁর কথায়, জনপ্রিয়তার বিপুল চাপ থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার ইচ্ছাই এর অন্যতম কারণ হতে পারে।
লন্ডনে কেন থাকতে চান বিরাট-অনুষ্কা?
বিরাট-অনুষ্কার লন্ডনে থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে ডঃ নেনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টির সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।তাঁর দাবি, অতিরিক্ত জনপ্রিয়তার কারণে তারকা দম্পতির পক্ষে সাধারণ মানুষের মতো বাইরে বেরোনো, রেস্তোরাঁয় খাওয়া কিংবা সন্তানদের নিয়ে নিশ্চিন্তে সময় কাটানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
অনুষ্কার সঙ্গে পুরনো কথোপকথনের কথা জানালেন ডঃ নেনে
এক অনুষ্ঠানে বিরাট ও অনুষ্কার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডঃ নেনে তাঁদের প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা জানান। একইসঙ্গে অনুষ্কার সঙ্গে তাঁর একটি পুরনো কথোপকথনের কথাও তুলে ধরেন।ডঃ নেনের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্কা একবার তাঁকে জানিয়েছিলেন যে খ্যাতি ও মানুষের ভালোবাসা পাওয়াটা নিঃসন্দেহে আনন্দের। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার কারণে সাধারণজীবনের ছোট ছোট আনন্দ অনেক সময় উপভোগ করা সম্ভব হয় না।বাড়ির বাইরে পা রাখলেই ক্যামেরা, অনুরাগী এবং পরিচিত মানুষের ভিড়—এই পরিস্থিতি ব্যক্তিগত জীবনে চাপ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
তারকা দম্পতির ব্যক্তিগত জীবন কতটা কঠিন?
ডঃ নেনে নিজেও মাধুরী দীক্ষিতের স্বামী হিসেবে তারকাখ্যাতির অন্য দিকটি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর মতে, অনুরাগীদের ভালোবাসা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর মুহূর্তেও যদি বারবার ছবি তোলা বা সেলফির অনুরোধ আসে, তা অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।বিশেষ করে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।
সন্তানদের স্বাভাবিক পরিবেশে বড় করতে চান?
ডঃ নেনের মতে, বাবা-মা হিসেবে প্রত্যেকেই চান তাঁদের সন্তানরা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হয়ে উঠুক। লন্ডনে তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রেখে জীবন কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায় বলে মনে করেন তিনি।সেখানে বিরাট ও অনুষ্কা সন্তানদের নিয়ে বাইরে বেরোতে, পার্কে যেতে কিংবা দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ মুহূর্ত উপভোগ করতে পারেন—এমনটাই তাঁর বক্তব্য।
অনুষ্কার অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতিও কি কারণ?
অনুষ্কা শর্মা দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। ‘জিরো’-র পর তাঁকে নতুন কোনও পূর্ণাঙ্গ ছবিতে নিয়মিতভাবে দেখা যায়নি। যদিও ভারতীয় ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামীর জীবন অবলম্বনে তৈরি ‘চাকদা এক্সপ্রেস’-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।এছাড়াও সন্তানদের সময় দেওয়ার বিষয়টিকেও অনুষ্কার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হয়েছে। ফলে পরিবারকে কেন্দ্র করে তাঁর জীবনযাপনের পরিবর্তনও লন্ডনে থাকার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
বিরাটের ক্ষেত্রেও পরিবারের গুরুত্ব
অন্যদিকে, ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও বিরাট কোহলি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়ে বরাবরই গুরুত্ব দিয়েছেন। ম্যাচ বা ক্রিকেটীয় দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।তাই লন্ডনে থাকা নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও ডঃ নেনের কথায় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, তা হল—খ্যাতির বাইরে একটি তুলনামূলক স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন।
বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মার লন্ডনে থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেন তাঁরা ভারতে না থেকে বিদেশে সন্তানদের নিয়ে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন? এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মাধুরী দীক্ষিতের স্বামী ডঃ শ্রীরাম নেনে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে তারকা দম্পতির ব্যক্তিগত পরিসর এবং সন্তানদের স্বাভাবিক পরিবেশে বড় করে তোলার বিষয়টি।









