বারাণসীর রাজাতালাব এলাকায় এমএসসি ছাত্রী শ্রেয়া উপাধ্যায় হত্যা মামলায় প্রায় ২০ দিন ধরে পলাতক থাকা মূল অভিযুক্ত বিবেক চৌবে ওরফে নিখিলকে সোমবার সকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত পুলিশ দলের দিকে গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে তার পায়ে গুলি লাগে এবং আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছ থেকে ৩১৫ বোরের দেশি পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে খবর আসে যে শ্রেয়া হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত জগতদেবপুর এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রাজাতালাব থানার পুলিশ দল সেখানে পৌঁছে এলাকা ঘেরাও করে। পুলিশ অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণ করতে বলে। অভিযোগ, সেই সময় বিবেক চৌবে পুলিশ দলের দিকে গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে তার পায়ে গুলি লাগে এবং সে আহত হয়ে পড়ে যায়। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে।
এডিসিপি রাজাতালাব নৃপেন্দ্র কুমারের মতে, বিবেক চৌবে শ্রেয়া উপাধ্যায় হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যার পেছনে বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের কথা জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, শ্রেয়ার বিয়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে ঠিক হওয়ার পর বিবেক ক্ষুব্ধ ছিল। অভিযোগ, সে শ্রেয়াকে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিল, কিন্তু শ্রেয়া এতে রাজি ছিলেন না। পুলিশের বক্তব্য, এই ক্ষোভ থেকেই সে তার সহযোগী পুণীত মিশ্রের সঙ্গে মিলে হত্যার ষড়যন্ত্র করে।
ঘটনাটি ১৮ আগস্ট ২০২৬-এর। পুলিশ ও উপলব্ধ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন শ্রেয়া উপাধ্যায় কলেজ যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২০ আগস্ট বারাণসীর বচ্ছাঁও-পশ্চিমপুরা এলাকায় একটি ভাড়া করা ঘরের বাথরুম থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তের সন্ধানে একাধিক দল মোতায়েন করা হয়।
তদন্তের সময় পুলিশ বিবেক চৌবের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায়। পুলিশের মতে, শ্রেয়ার বিয়ে অন্যত্র ঠিক হওয়ায় অভিযুক্ত ক্ষুব্ধ ছিল। এর আগেও পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছিল যে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর শ্রেয়ার আচরণ নিয়ে বিবেক সন্তুষ্ট ছিল না
মামলায় বিবেকের সহযোগী পুণীত মিশ্রকেও পুলিশ সংঘর্ষের পর গ্রেপ্তার করেছিল। পরে বিবেকের বাবা রাম সহায় চৌবের ভূমিকাও তদন্তে উঠে আসে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের মতে, এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত বিবেক চৌবের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে পুলিশ। হত্যার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, ঘটনায় কারা জড়িত ছিল এবং ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রায় ২০ দিন কোন ব্যক্তিদের সহায়তায় আত্মগোপন করে ছিল, তা জানার চেষ্টা করা হবে।
শ্রেয়া হত্যার পর থেকেই তার পরিবার অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিল। সেপ্টেম্বরের শুরুতেও পরিবার পুলিশের কাছে মূল অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। সেই সময় বিবেক চৌবে পুলিশের নাগালের বাইরে ছিল এবং তার সন্ধান চলছিল। এখন সংঘর্ষের পর তাকে গ্রেপ্তার করায় মামলায় পলাতক মূল অভিযুক্তকে ঘিরে পুলিশের তদন্ত এগিয়েছে।
এই মামলায় বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধ তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। উপলব্ধ পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, শ্রেয়ার বিয়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে ঠিক হয়ে গিয়েছিল এবং এই বিষয়েই বিবেক চৌবে ক্ষুব্ধ ছিল। পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্ত শ্রেয়াকে বিয়ে করতে চেয়েছিল এবং তার প্রত্যাখ্যান ও অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ার পর সে অপরাধমূলক পদক্ষেপ নেয়। তবে হত্যার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি এবং অভিযুক্তের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত সব বিষয়ের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পুলিশের পরবর্তী তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় হবে।
এর আগে ২৪ আগস্ট পুলিশ মামলার অভিযুক্ত পুণীত মিশ্রকে সংঘর্ষের সময় গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশের মতে, ওই অভিযানেও অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে এবং তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর মূল অভিযুক্ত বিবেক চৌবের ভূমিকা এবং হত্যার পেছনে বিয়ে সংক্রান্ত ক্ষোভের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর থেকেই পুলিশ বিবেকের সন্ধান চালিয়ে আসছিল।
এখন বিবেক চৌবের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ঘটনার ধারাবাহিকতা মিলিয়ে দেখা এবং প্রমাণ পরীক্ষা করার কাজ করছে। অভিযুক্তের পলাতক থাকার সময়কার অবস্থান, তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিদের এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। হত্যার আগে ও পরে অভিযুক্ত কার কার সঙ্গে যোগাযোগে ছিল এবং অন্য কেউ তাকে আত্মগোপন বা পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল কি না, তাও পুলিশ তদন্ত করবে।
মামলায় পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শ্রেয়াকে বিয়ে করতে চেয়েছিল এবং অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল। তবে কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত নির্ধারণ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার পরই হবে।
বর্তমানে আহত মূল অভিযুক্ত বিবেক চৌবের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। পুলিশ তার গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। পুলিশের মতে, তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং হাতে থাকা প্রমাণ পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে ঘটনার সম্পূর্ণ ধারাবাহিকতা তৈরি করছে।
প্রায় ২০ দিন পলাতক থাকার পর সংঘর্ষের সময় শ্রেয়া উপাধ্যায় হত্যা মামলার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে সে গুলি চালিয়েছিল এবং পাল্টা গুলিতে আহত হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যার ষড়যন্ত্র, ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং এতে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।











