মা হওয়ার পর শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। কিন্তু তারকা অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ও মন্তব্যের চাপ অনেক সময় আরও বেশি হয়। এবার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই সেই বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন করিশ্মা তান্না। সন্তান জন্মের পর মানসিক ওঠাপড়া, শরীরের পরিবর্তন এবং নতুন মায়েদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা নজর কেড়েছে।
৪২-এ মা হলেন করিশ্মা
২০২৬ সালের ২৯ জুলাই পুত্রসন্তানের জন্ম দেন করিশ্মা তান্না। ছেলের নাম রাখা হয়েছে বেদ। মা হওয়ার পর জীবনের নতুন অধ্যায় উপভোগ করলেও প্রসব-পরবর্তী সময় যে একেবারেই সহজ নয়, সেটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্তান জন্মের আগেই পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন সম্পর্কে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলেন। তাঁর মতে, বিষয়টি বাস্তব এবংপ্রসবের পর অনেক মায়েরই নানা ধরনের মানসিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
‘যতই শক্তিশালী হন, এই সময়টা কষ্ট দেবে’
করিশ্মার কথায়, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে সুন্দর, কিন্তু এর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক নানা চ্যালেঞ্জও থাকে। প্রসবের পর হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কখনও খুব ভালো লাগতে পারে, আবার অল্প সময়ের মধ্যেই মন খারাপ হয়ে যেতে পারে।এমনকী বড় কোনও কারণ ছাড়াই কান্না পেয়ে যেতে পারে। তার উপর প্রসবের পর শরীর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই নবজাতকের যত্ন নিতে হয়। সব মিলিয়ে সময়টা নতুন মায়েদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে পারে বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
নতুন মায়েদের কী পরামর্শ করিশ্মার?
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন মায়েদের একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সন্তান জন্মের পর নিজের প্রতি অযথা কঠোর হওয়া উচিত নয়। নিজের শরীর বা মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে অপরাধবোধেও ভোগা উচিত নয়।করিশ্মার বক্তব্যের মূল কথা, এই সময়টায় নিজের উপর বিশ্বাস রাখা এবং নিজের যত্ন নেওয়াও জরুরি।
‘মা হওয়ার পর বুঝেছি প্রকৃত শক্তি কী’
মাতৃত্ব তাঁকে শক্তির নতুন অর্থ বুঝিয়েছে বলেও জানিয়েছেন করিশ্মা। তাঁর মতে, সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় একজন নারী যে শারীরিক কষ্ট ও যন্ত্রণা সহ্য করেন, সেটিই অসাধারণ শক্তির পরিচয়।তাই মা হওয়ার পর শরীরে যে পরিবর্তন আসে, সেটিকে শুধুমাত্র সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে বিচার না করে সেই শরীর কী অসাধারণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, সেটিও দেখা উচিত।
‘এটাই আমার সন্তান জন্মের পরের শরীর’
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ছবি পোস্ট করে প্রসব-পরবর্তী শরীরের পরিবর্তন নিয়েও সরাসরি কথা বলেছেন করিশ্মা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শরীর আগের তুলনায় নরম হয়েছে, আকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ওজনও বেড়েছে।তবে সেই পরিবর্তন নিয়ে লজ্জিত নন তিনি। বরং নিজের শরীরের এই নতুন রূপকে গ্রহণ করছেন বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
‘এই শরীর একটি জীবনের জন্ম দিয়েছে’
করিশ্মা তাঁর পোস্টে বোঝাতে চেয়েছেন, বাইরে থেকে কাউকে দেখে তাঁর শরীর সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় ফিরে গিয়েছে বলে মনে হলেও বাস্তবটা ভিন্ন হতে পারে।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শরীর এখনও ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এই শরীরই নয় মাস সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং পৃথিবীতে এনেছে। তাই ত্বক ঝুলে যাওয়া, শরীরের আকৃতি বদলে যাওয়া বা ওজন বৃদ্ধির মতো পরিবর্তনকে তিনি নিজের কাছে লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখছেন না।
‘নিজেকে বিচার করবেন না’
নতুন মায়েদের উদ্দেশে করিশ্মার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করা। প্রসবের পর প্রত্যেক নারীর শরীর একই গতিতে আগের অবস্থায় ফিরে যায় না।তাই সামাজিক প্রত্যাশা বা অন্যের মন্তব্যের কারণে নিজেকে বিচার কিংবা লজ্জিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই সময়ে মায়েদের প্রয়োজন ধৈর্য, সহানুভূতি এবং সম্মান।
শরীর ফিরে পাওয়ার তাড়াহুড়ো নয়
করিশ্মা জানিয়েছেন, তাঁর শরীর এখন নিজের গতিতেই ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে। অর্থাৎ সন্তান জন্মের পর দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে যাওয়ার চাপকে তিনি গুরুত্ব দিতে চাইছেন না।বরং মাতৃত্বের পর শরীরে যে স্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে মেনে নিয়েই এগোচ্ছেন অভিনেত্রী। তাঁর এই বক্তব্য নতুন মায়েদের শরীর নিয়ে তৈরি সামাজিক চাপের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
৪২ বছর বয়সে মা হয়েছেন অভিনেত্রী করিশ্মা তান্না। ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই পুত্রসন্তান বেদের জন্মের পর মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। নিজের শরীরের পরিবর্তন নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলামেলা বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী।








