স্টিমড থেকে কোথে, ঝোল থেকে ফ্রায়েড! মোমোর দুনিয়ায় সেরা এই শহর, নাম শুনলেই জিভে জল

স্টিমড, ফ্রায়েড, ঝোল, চিলি, কোথে থেকে ওপেন মোমো—নানা স্বাদের মোমোর জন্য কেন কাঠমান্ডু ‘মোমোর রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত, জানুন বিস্তারিত।

Momo Capital of the World: ভাপে তৈরি নরম মোমো, মুচমুচে ফ্রায়েড মোমো কিংবা ঝাল ঝোলের মধ্যে ডুবিয়ে দেওয়া ডাম্পলিং—মোমোর কত রকমই না স্বাদ! কিন্তু জানেন কি, এমন একটি শহর রয়েছে যেখানে মোমোকে শুধু খাবার হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই দেখা হয়? সেই শহর হল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু।

কাঠমান্ডুতেই মোমোর এত জনপ্রিয়তা কেন?

হিমালয় অঞ্চলে মোমোর জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। তিব্বত থেকে এই ডাম্পলিং নেপালে পৌঁছয় এবং সময়ের সঙ্গে কাঠমান্ডুর খাবারের জগতে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নেয়।

কাঠমান্ডুর তিব্বতি সম্প্রদায় মোমো তৈরির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ধরে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় নেওয়ার সম্প্রদায় নিজেদের স্বাদ ও রান্নার কৌশল দিয়ে এই খাবারে নতুন মাত্রা যোগ করে। পুর, মশলা এবং চাটনির বৈচিত্র্যের ফলে তৈরি হয় আলাদা নেপালি মোমো সংস্কৃতি।

শহরজুড়ে মোমোর রকমারি আয়োজন

কাঠমান্ডুতে মোমোর বৈচিত্র্যই খাদ্যপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। সাধারণ ভাপা মোমো থেকে শুরু করে ঝাল, মুচমুচে ও ঝোলের মোমো—পছন্দের অভাব নেই।

ভাপা মোমো

সবচেয়ে পরিচিত ধরন। সাধারণত গরম ভাপে রান্না করা মোমোর সঙ্গে ঝাল টমেটো-তিলের চাটনি পরিবেশন করা হয়।

ঝোল মোমো

মোমোর সঙ্গে থাকে মশলাদার ঝোল। টমেটো, তিল, চিনাবাদাম ও নানা মশলার ব্যবহার এই পদকে আলাদা স্বাদ দেয়।

চিলি মোমো

ঝালপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় থাকা এই মোমো পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ও কাঁচা লঙ্কার ঝাল-টক সসে মাখানো হয়।

কোথে মোমো

মোমোর এক পাশ কড়াইতে ভেজে নেওয়া হয়। ফলে বাইরে তৈরি হয় মুচমুচে স্তর, আর ভিতরটা থাকে নরম ও রসালো।

ফ্রায়েড মোমো

ডুবো তেলে ভেজে সোনালি ও ক্রিসপি করে পরিবেশন করা হয়। স্ট্রিট ফুডপ্রেমীদের মধ্যে এই ধরনের মোমোর চাহিদা যথেষ্ট।

ওপেন মোমো

এটি তুলনামূলক আধুনিক পরিবেশন পদ্ধতি। পুরোপুরি বন্ধ না করে মোমোর উপরে বিভিন্ন সস ও গার্নিশ দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয়।

শুধু মাংস নয়, পুরেও রয়েছে অজস্র বৈচিত্র্য

কাঠমান্ডুর মোমোর বিশেষত্ব শুধু রান্নার পদ্ধতিতে নয়, পুরেও। মাংসের পাশাপাশি সবজি, পনিরসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়।চাটনিতেও রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। টমেটো, ভাজা তিল, চিনাবাদাম, রসুন, আদা, নেপালি সিচুয়ান মরিচ বা ‘আদাতিমুর’ এবং কাঁচা লঙ্কার মিশ্রণে তৈরি চাটনি মোমোর স্বাদকে আরও তীব্র করে তোলে।

মোমো যখন শহরের খাদ্যসংস্কৃতির অংশ

তাই মোমোর স্বাদ চেখে দেখতে কাঠমান্ডুতে আসা খাদ্যপ্রেমীদের কাছে নিছক খাওয়াদাওয়া নয়, বরং শহরের স্থানীয় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করারও একটি উপায়।

মোমো এখন শুধু তিব্বত বা নেপালের খাবার নয়, গোটা এশিয়াতেই জনপ্রিয়। তবে এমন একটি শহর রয়েছে, যেখানে মোমো শুধুমাত্র জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড নয়, বরং শহরের খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু নানা ধরনের মোমো ও বিশেষ চাটনির জন্য খাদ্যপ্রেমীদের কাছে ‘মোমোর রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত।

Leave a comment