কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে শুধু মন্দিরে পুজো দিয়ে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা বদলে ফেলুন। পুজো ও দর্শনের পাশাপাশি হাতে একটু সময় থাকলে তারাপীঠ এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখা যায়। বিশেষ তিথিকে কেন্দ্র করে তারাপীঠে যেমন ভক্তির আবহ তৈরি হয়, তেমনই আশপাশের এলাকাতেও রয়েছে বহু পুরনো ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন।
কবে কৌশিকী অমাবস্যা?
চলতি বছর পঞ্জিকা অনুযায়ী কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হবে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। তিথি থাকবে ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত। এই সময় তারাপীঠে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তাই এই সময় বীরভূমে গেলে আগে থেকেই যাতায়াত ও থাকার পরিকল্পনা করে নেওয়া ভালো। মন্দির দর্শনের পাশাপাশি আশপাশের জায়গাগুলি ঘুরে দেখলে সফর আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
আটলা গ্রাম—সাধক বামদেবের জন্মভিটে
তারাপীঠের কাছেই রয়েছে আটলা গ্রাম। সাধক বামদেবের জন্মস্থান হিসেবে এই গ্রামের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এখানে তাঁর পুরনো বাড়ির স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে।তারাপীঠের আধ্যাত্মিক পরিবেশের বাইরে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে আটলা গ্রাম ঘুরে দেখতে পারেন। ধর্মীয় ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এই জায়গাটি ভক্তদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের।
ডাবুকেশ্বর শিবমন্দির—উঁচু শিবমন্দিরের টানে
তারাপীঠের আশপাশে ঘোরার তালিকায় রাখতে পারেন ডাবুক গ্রাম। এই গ্রামেই রয়েছে ডাবুকেশ্বর শিবমন্দির, যা বীরভূমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সুউচ্চ শিবমন্দির হিসেবে পরিচিত।মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা লোককথা ও ইতিহাস। কথিত আছে, কৈলাসানন্দ স্বামী নামে এক সন্ন্যাসীর উদ্যোগে মন্দির নির্মাণের কাজ হয়েছিল। ১২৮৭ বঙ্গাব্দে মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হয় বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি গ্রামের পরিবেশও পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।
ছিন্নমস্তা মন্দির—তারাপীঠের একেবারে কাছেই
তারাপীঠের মূল মন্দির থেকে খুব অল্প সময়ের পথেই রয়েছে ছিন্নমস্তা মন্দির। ফলে সময় কম থাকলেও এই স্থানটি ঘুরে দেখা সম্ভব।দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী ছিন্নমস্তার এই মন্দিরের সঙ্গে তন্ত্রসাধনার ঐতিহ্যও জড়িত। মন্দির প্রাঙ্গণে থাকা পঞ্চমুণ্ডী আসনকে ঘিরেও রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস। আধ্যাত্মিক পরিবেশ অনুভব করতে চাইলে তারাপীঠ সফরে এই জায়গাটি তালিকায় রাখতে পারেন।
মুণ্ডমালিনী তলা—হেঁটেই পৌঁছে যাওয়া যায়
তারাপীঠ মন্দিরের কাছেই রয়েছে মুণ্ডমালিনী তলা। তারাপীঠ ব্রিজের পাশের রাস্তা ধরে কয়েক মিনিট হাঁটলেই এখানে পৌঁছনো যায়।এখানে মা কালী মুণ্ডমালিনী রূপে পূজিত হন। তারাপীঠের তন্ত্রসাধনা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে এই স্থানটিরও বিশেষ যোগ রয়েছে। মূল মন্দির দর্শনের পর অল্প সময়ের মধ্যে ঘুরে দেখার জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক জায়গা।
এক সফরে চার জায়গা ঘোরার সুযোগ
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে গেলে মূল আকর্ষণ অবশ্যই মা তারার মন্দির। তবে হাতে সময় থাকলে আশপাশের এই জায়গাগুলিও ঘুরে দেখতে পারেন। আটলার ঐতিহ্য, ডাবুকেশ্বরের প্রাচীন মন্দির, ছিন্নমস্তার আধ্যাত্মিক পরিবেশ এবং মুণ্ডমালিনী তলার ধর্মীয় গুরুত্ব—সব মিলিয়ে তৈরি হতে পারে বৈচিত্র্যময় একটি ছোট ট্রিপ।
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে প্রতি বছরই ভক্ত ও পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে বীরভূমের তারাপীঠ। তবে শুধু মা তারার মন্দিরে পুজো দিয়ে ফিরে না এসে আশপাশের কয়েকটি দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখতে পারেন। সাধক বামদেবের স্মৃতিবিজড়িত আটলা গ্রাম থেকে ডাবুকেশ্বর শিবমন্দির, ছিন্নমস্তা মন্দির থেকে মুণ্ডমালিনী তলা—ছোট্ট সফরেই মিলবে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ।




