সুন্দরবনের মানুষ প্রতিদিন জীবিকার খোঁজে পা রাখেন বিপদের মুখে। নদী আর জঙ্গলের সেই অনিশ্চিত লড়াইয়ে ফের বাঘের হামলায় বিপর্যস্ত হয়েছে একাধিক পরিবার। শোক ও অনিশ্চয়তার এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে পৌঁছে সহমর্মিতার বার্তা দিলেন সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলি। আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
১৫ দিনে চারজন বাঘের হামলার শিকার
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি ও মৈপীঠ এলাকায় গত দু'সপ্তাহে একের পর এক বাঘের হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মাছ ধরতে এবং মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে মোট চারজন মৎস্যজীবী বাঘের আক্রমণের মুখে পড়েন।তাঁদের মধ্যে দু'জনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও দুই ব্যক্তির কোনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজদের সন্ধানে বনদফতরের তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও পরিবারের উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির বাড়িতে পৌঁছলেন কান্তি গাঙ্গুলি
রবিবার কুলতলির বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিহত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সিপিএমের প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিপিএম নেতা সাম্য গাঙ্গুলি, কুলতলির প্রাক্তন বিধায়ক রামশংকর হালদার এবং অন্যান্য দলীয় নেতারা।পরিবারগুলির সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন নেতারা। শোকাহত পরিবারগুলিকে মানসিকভাবে শক্ত থাকার বার্তাও দেন তাঁরা।
আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী প্রদান
নিহত মৎস্যজীবী গোপাল নস্করের পরিবারের অবস্থার কথা শুনে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কান্তি গাঙ্গুলি। জানা গিয়েছে, গোপাল নস্করের স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁদের একটি দুই বছরের সন্তান রয়েছে।পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি এক মাসের খাদ্যসামগ্রী, চাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসও তুলে দেন সিপিএম নেতৃত্ব। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জীবিকার প্রধান ভরসা হারিয়ে ফেলা পরিবারগুলির জন্য এই সহায়তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
শিশুদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস
শুধু আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকেননি কান্তি গাঙ্গুলি ও তাঁর সহযাত্রীরা। নিহত পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথাও ভাবা হয়েছে।পরিবারগুলির শিশুদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। কারণ উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর পর অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
বনদফতরের কাছে নিখোঁজদের সন্ধানের দাবি
পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার পর কান্তি গাঙ্গুলি বলেন, তাঁরা সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। একই সঙ্গে তিনি বনদফতরের কাছে নিখোঁজ দুই মৎস্যজীবীর সন্ধান দ্রুত করার দাবি জানান।সিপিএম নেতা সাম্য গাঙ্গুলিও রাজ্য সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, সুন্দরবনের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।
এলাকায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
সিপিএম নেতৃত্বকে এলাকায় দেখে খুশি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্গত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন অনেকে।স্থানীয়দের বক্তব্য, সুন্দরবনের মতো দুর্গম অঞ্চলে বাঘের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে সব রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সমানভাবে এগিয়ে আসা উচিত।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি ও মৈপীঠ এলাকায় গত ১৫ দিনে বাঘের হামলায় চার মৎস্যজীবী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে। নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন সিপিএমের প্রবীণ নেতা কান্তি গাঙ্গুলি। আর্থিক সহায়তা, এক মাসের খাদ্যসামগ্রী এবং শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মানবিক উদ্যোগের নজির গড়লেন তিনি ও দলের নেতারা।







