২৩ বছর পর নতুন রূপে ক্লক টাওয়ার, একই মঞ্চে শঙ্কর-গৌতম! শিলিগুড়িতে উন্নয়নের বার্তার সঙ্গে রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির

শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি মোড়ের ঐতিহ্যবাহী ক্লক টাওয়ার ২৩ বছর পর নতুন রূপে উদ্বোধন। একই মঞ্চে শঙ্কর ঘোষ ও গৌতম দেবের উপস্থিতিতে নজির রাজনৈতিক সৌজন্যের।

রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে, কিন্তু শহরের উন্নয়নের প্রশ্নে একসঙ্গে পথ চলার ছবি খুব বেশি দেখা যায় না। রবিবার শিলিগুড়িতে সেই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সংস্কার হওয়া পানিট্যাঙ্কি মোড়ের ঐতিহ্যবাহী ক্লক টাওয়ারের উদ্বোধনে একই মঞ্চে হাজির হলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং মেয়র গৌতম দেব। অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্তে ধরা পড়ল রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার অনন্য ছবি।

উন্নয়নের মঞ্চে একসঙ্গে দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ

শিলিগুড়ির রাজনৈতিক পরিসরে শঙ্কর ঘোষ ও গৌতম দেব দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। কিন্তু রবিবারের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিভাজনের কোনও ছাপ দেখা যায়নি। বরং উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই নেতাকে পাশাপাশি বসে আলোচনা করতে, অতিথিদের সম্মান জানাতে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়।এই দৃশ্য উপস্থিত নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকেই মনে করছেন, জনস্বার্থের প্রশ্নে এমন সৌজন্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।

স্কুটিতে শহর পরিক্রমা, তারপর অনুষ্ঠানে যোগ

রবিবার সকালে দার্জিলিং মেলে করে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছন শঙ্কর ঘোষ। নিজের পরিচিত জীবনযাত্রার ধারাবাহিকতায় চারচাকার গাড়ির বদলে স্কুটিতে চেপেই শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর সেবক রোডের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেয়র গৌতম দেব। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই নেতার আন্তরিক আচরণ সকলের নজর কেড়ে নেয়।

সৌজন্যের বার্তা দিল একই মঞ্চের ছবি

জাতীয় সঙ্গীতে একসঙ্গে কণ্ঠ মেলানো থেকে শুরু করে অতিথিদের সংবর্ধনা প্রদান—সব ক্ষেত্রেই দুই নেতাকে সমানভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে এই দৃশ্য অনেকের কাছেই স্বস্তির বার্তা হিসেবে ধরা পড়ে।অনুষ্ঠান চলাকালীন এবং পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সময়ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় ছিল। শঙ্কর ঘোষের সাংবাদিক বৈঠকের সময় গৌতম দেবকে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করতে দেখা যায়, যা উপস্থিতদের নজর এড়ায়নি।

২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান, নতুন রূপে ক্লক টাওয়ার

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পানিট্যাঙ্কি মোড়ের ঐতিহ্যবাহী ক্লক টাওয়ারের পুনর্নির্মাণের উদ্বোধন। শহরের অন্যতম পরিচিত এই স্থাপনা দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বড় ধরনের সংস্কারের মুখ দেখেনি।পরবর্তীতে শিলিগুড়ি পুরনিগম পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব লায়ন্স ক্লাবের হাতে তুলে দেয়। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় নতুন রূপে সাজানো ক্লক টাওয়ারের।উদ্বোধনের মুহূর্তে শঙ্কর ঘোষ ও গৌতম দেব একসঙ্গে ফিতে কেটে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। শহরের বহু বাসিন্দা এই মুহূর্তকে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন।

নাগরিকদের কাছে ইতিবাচক বার্তা

স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখে, তাহলে শহরের সার্বিক অগ্রগতি আরও দ্রুত হবে।

শিলিগুড়ির ঐতিহ্যবাহী পানিট্যাঙ্কি মোড়ের ক্লক টাওয়ার ২৩ বছর পর নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে দেখা গেল রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবকে। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে উন্নয়ন ও নাগরিক স্বার্থে দুই নেতার সৌহার্দ্যপূর্ণ উপস্থিতি শিলিগুড়ির মানুষের কাছে বিশেষ বার্তা বহন করেছে।

Leave a comment