পুজোর ছুটিতে দার্জিলিং ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে নতুন আকর্ষণ। কার্শিয়ং থেকে মহানদী পর্যন্ত চালু হয়েছে দুটি নতুন টয়ট্রেন পরিষেবা। স্টিম ইঞ্জিনের ঐতিহ্যবাহী অভিজ্ঞতা পেতে পারবেন ‘রেড পান্ডা এক্সপ্রেস’-এ, আর ডিজেল ইঞ্জিন চালিত ‘মুক্তধারা’য় চড়েও ঘুরে আসা যাবে পাহাড়ি পথে। নির্দিষ্ট সময়সূচি ও ভাড়া-সহ এই নতুন পরিষেবাগুলি পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বাড়তি বিকল্প এনে দিল।
কার্শিয়ং থেকে চালু দুই নতুন টয়ট্রেন পরিষেবা
পুজোর মরশুমে পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে কার্শিয়ং ও মহানদী স্টেশনের মধ্যে দুটি নতুন টয়ট্রেন পরিষেবা চালু করেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই পরিষেবাগুলি প্রতিদিন চালানোর কথা জানানো হয়েছে।পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রেলপথ, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং টয়ট্রেনের ঐতিহ্যবাহী যাত্রা—সব মিলিয়ে এই পরিষেবাগুলি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পুজোর ছুটিতে যাঁরা পাহাড়ে বেড়াতে যাবেন, তাঁদের জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ।
স্টিম ইঞ্জিনে ‘রেড পান্ডা এক্সপ্রেস’, ভাড়া ১,৫০০ টাকা
নতুন পরিষেবার অন্যতম আকর্ষণ স্টিম ইঞ্জিন চালিত ‘রেড পান্ডা এক্সপ্রেস’। কার্শিয়ং স্টেশন থেকে দুপুর ১২টায় ছাড়বে এই টয়ট্রেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টোয় আবার কার্শিয়ংয়ে ফিরে আসবে।এই যাত্রার ভাড়া ধার্য করা হয়েছে ১,৫০০ টাকা। স্টিম ইঞ্জিনের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে পাহাড়ি রেলপথে ভ্রমণ করতে যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এই পরিষেবা বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
‘মুক্তধারা’য় পাহাড় ভ্রমণ, ভাড়া ১,০০০ টাকা
দ্বিতীয় নতুন পরিষেবাটির নাম ‘মুক্তধারা’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নাটকের নাম অনুসারে এই ডিজেল ইঞ্জিন চালিত টয়ট্রেনের নামকরণ করা হয়েছে।
ট্রেনটি কার্শিয়ং স্টেশন থেকে বিকেল ৩টে ১৫ মিনিটে ছাড়বে। মহানদী স্টেশন ঘুরে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে কার্শিয়ংয়ে ফিরে আসবে। এই পরিষেবার ভাড়া ১,০০০ টাকা।
অর্থাৎ, পর্যটকেরা নিজেদের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী স্টিম ইঞ্জিনের ‘রেড পান্ডা এক্সপ্রেস’ অথবা ডিজেল ইঞ্জিনের ‘মুক্তধারা’ বেছে নিতে পারবেন।
দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করতেই উদ্যোগ
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর জানিয়েছেন, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এই দুটি নতুন পরিষেবা চালু করা হয়েছে। পুজোর মরশুমে পর্যটকদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন বহুদিন ধরেই পাহাড়ের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। নতুন পরিষেবা চালু হওয়ায় কার্শিয়ং ও মহানদী ঘিরে পর্যটকদের জন্য আরও একটি ভ্রমণ বিকল্প তৈরি হল।
গিদ্দা পাহাড়েও কি থামবে টয়ট্রেন?
কার্শিয়ং অঞ্চলের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে গিদ্দা পাহাড়কে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে গিদ্দা পাহাড়েও টয়ট্রেনের স্টপেজ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।তবে এই স্টপেজ চালুর বিষয়টি এখনও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আপাতত নতুন দুই পরিষেবায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি সম্পর্কে রেলের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
পুজোর মরশুমে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য সুখবর। কার্শিয়ং ও মহানদী স্টেশনের মধ্যে দুটি নতুন টয়ট্রেন পরিষেবা চালু করেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। নতুন পরিষেবার মধ্যে রয়েছে স্টিম ইঞ্জিন চালিত ‘রেড পান্ডা এক্সপ্রেস’ এবং ডিজেল ইঞ্জিন চালিত ‘মুক্তধারা’। প্রতিদিন চলবে এই দুই ট্রেন। একদিকে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা—পুজোর ছুটিতে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ বাড়াতে চলেছে এই উদ্যোগ।










