লখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদদলিত হয়ে ৭ মহিলা ভক্তের মৃত্যু, ১২ জনেরও বেশি আহত

बिहारमधील लखीसरायच्या अशोकधाम मंदिरात सावनच्या तिसऱ्या सोमवारी झालेल्या चेंगराचेंगरीत 7 महिला भाविकांचा मृत्यू झाला कडून घटनेची चौकशी सुरू आहे.
লখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদদলিত হয়ে ৭ মহিলা ভক্তের মৃত্যু, ১২ জনেরও বেশি আহত
Photo Credit / Attribution: Google

লখিসরাইয়ের বিখ্যাত অশোকধাম মন্দিরে শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার জলাভিষেকের জন্য আসা ভক্তদের ভিড়ে পদদলিত হয়ে ৭ জন মহিলা ভক্তের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় ১২ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। সকাল থেকেই ভগবান শিবের জলাভিষেকের জন্য হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে পৌঁছাচ্ছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ ভিড়ের চাপ বেড়ে পদদলিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ার একটি গুজব ভিড়ের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য অনেকে দৌড়াতে শুরু করেন। ভিড়ের চাপ বাড়ায় বহু ভক্ত একে অপরের ওপর পড়ে যান।

প্রশাসনের মতে, হঠাৎ ভিড় বেড়ে যাওয়া এবং ব্যারিকেডিং ভেঙে পড়াও ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মন্দির চত্বরে ভক্তের সংখ্যা হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়। একই সময়ে দুটি ট্রেন একসঙ্গে থামায় মন্দিরের দিকে আসা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ে। আগে থেকেই থাকা ভিড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

ভক্তদের সারি মন্দির চত্বরের বাইরে থেকে অশোকধাম হল্ট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যারিকেডিং করা হয়েছিল। তবে চাপ বাড়ার পর এক পাশের ব্যারিকেডিং ভেঙে যায়। এরপর সামনে এগোনোর চেষ্টায় মানুষ একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।

নিহতদের অধিকাংশই জলাভিষেকের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা ভক্ত ছিলেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করেন। পুলিশ ও প্রশাসনের দলও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করে।

আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে লখিসরাই সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বহু আহতের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। কয়েকজন আহতের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের দল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে, যাতে ফের কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।

শ্রাবণের সোমবার ও নাগপঞ্চমীর সংযোগ থাকায় অশোকধাম মন্দিরে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আকস্মিকভাবে ভিড় বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল।

প্রশাসন ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। হঠাৎ কোন কারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং কোন পরিস্থিতিতে ব্যারিকেডিং ভেঙে পড়ে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ার গুজবের সঙ্গে সম্পর্কিত পুরো ঘটনাক্রমও তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভিড়ের মধ্যে গুজব ছড়ানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। অনেকে আতঙ্কে দৌড়াতে শুরু করেন। পিছন থেকে আসা ভক্তদের সামনে কী ঘটছে সে সম্পর্কে তথ্য না থাকায় কয়েকজন পড়ে যান এবং তাঁদের ওপর অন্যরাও পড়তে থাকেন।

ঘটনার পর মন্দির চত্বরে থাকা ভক্ত ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। জলাভিষেকের জন্য মন্দিরে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের ঘটনার খবর পাওয়ার পর অনেকে তাঁদের আত্মীয়দের খুঁজতে শুরু করেন। হাসপাতালগুলিতেও মানুষের ভিড় হয়।

মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি মৃত ভক্তদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের যথাযথ ও দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

অশোকধাম মন্দির লখিসরাই জেলার একটি প্রধান ধর্মীয় স্থান। শ্রাবণ মাসে এখানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত আসেন। বিশেষ করে সোমবার ভগবান শিবের জলাভিষেকের জন্য দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে পৌঁছান। এবারও সকাল থেকেই মন্দিরে বিপুল ভিড় ছিল।

ঘটনার পর আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং মন্দির চত্বরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ছিল। উদ্ধার ও ত্রাণদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। মন্দির চত্বরে প্রবেশ ও বেরিয়ে আসার পথগুলিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

ঘটনার পর বড় ধর্মীয় আয়োজনগুলিতে ভিড় ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন আয়োজনে ভক্তের সংখ্যা, প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার পথ, ব্যারিকেডিং, চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি ব্যবস্থা, অ্যাম্বুলেন্সের প্রাপ্যতা এবং গুজব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিড়ের মধ্যে গুজব কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দৌড়ানোর পরিবর্তে প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশ মেনে চলা উচিত। আয়োজক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও যাতে কোনো গুজব ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ভক্তদের কাছে দ্রুত স্পষ্ট তথ্য পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তা আরও স্পষ্ট হবে। মৃতদের পরিচয় এবং আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তথ্য সংগ্রহ করছেন।

শ্রাবণের পবিত্র সোমবার জলাভিষেকের জন্য মন্দিরে যাওয়া ভক্তদের যাত্রা অশোকধাম মন্দিরের পদদলিত হওয়ার ঘটনায় পরিণত হয়। ঘটনায় ৭ জন মহিলা ভক্তের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ার গুজব, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ভিড় এবং ব্যারিকেডিং ভেঙে পড়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করেছে এবং ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।

Leave a comment