তিস্তার উপর ৬ লেনের নতুন সেতু! করোনেশন ব্রিজের বিকল্পে বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ

সেবকের কাছে তিস্তা নদীর উপর তৈরি হবে নতুন ৬ লেনের সেতু। করোনেশন ব্রিজের বিকল্প এই প্রকল্পে বদলাতে পারে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, সিকিম ও উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগে আসতে চলেছে বড় বদল। সেবকের কাছে তিস্তা নদীর উপর করোনেশন ব্রিজের বিকল্প হিসেবে যে নতুন সেতুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেটিই এবার আরও বড় পরিসরে তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চার লেনের পরিবর্তে সেতুটিকে ছয় লেনের হাইওয়ে হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পের জন্য নতুন টেন্ডারও প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চার লেন নয়, এবার ছয় লেনের সেতু

প্রস্তাবিত নতুন সেতুটি তৈরি হবে NH-10-এর প্রায় ৫৯১.৩১০ কিলোমিটার অংশ থেকে তিস্তা নদীর উপর দিয়ে। শুধু নদীর উপর সেতু নির্মাণ নয়, এর সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাও তৈরি করা হবে।ভবিষ্যতে যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে—এই বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রকল্পের পরিকাঠামো চার লেন থেকে বাড়িয়ে ছয় লেন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলানো সহজ হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নতুন সেতু?

সেবকের করোনেশন ব্রিজ উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। শিলিগুড়ি থেকে পাহাড় ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই রুটের গুরুত্ব অপরিসীম।নতুন সেতু তৈরি হলে পুরনো সেতুর উপর যান চলাচলের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে পর্যটনের মরশুমে যখন দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম ও ডুয়ার্সের দিকে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়, তখন অতিরিক্ত সড়ক পরিকাঠামো যানজট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

দুর্যোগের সময়েও হতে পারে বিকল্প পথ

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাস্তায় বর্ষাকালে ধস, অতিবৃষ্টি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। NH-10-এ কোনও সমস্যা তৈরি হলে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।নতুন সেতু ও সংযোগকারী রাস্তা তৈরি হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে যান চলাচল সচল রাখার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর বাস্তবে কীভাবে বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত নকশা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর।

পাহাড়-সমতলের যোগাযোগে কী প্রভাব পড়তে পারে?

শুধু পর্যটকদের যাতায়াত নয়, পাহাড় ও সমতলের মধ্যে পণ্য পরিবহণেও এই প্রকল্পের প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরিবহণের সময় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।শিলিগুড়ি হয়ে দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম এবং ডুয়ার্সের সঙ্গে যোগাযোগ আরও মসৃণ হলে পর্যটন শিল্পও উপকৃত হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতেও সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গেও বাড়বে যোগাযোগ?

শিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই অঞ্চলের সড়ক পরিকাঠামো শক্তিশালী হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।ছয় লেনের নতুন সেতু ও সংযোগকারী রাস্তা ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ সামলাতে পারলে উত্তরবঙ্গের পরিবহণ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

শুধু সেতু নয়, বড় পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পকে শুধু একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব কিছুটা কম করে দেখা হবে। করোনেশন ব্রিজের উপর নির্ভরতা কমানো, পর্যটনের সময় যানজট নিয়ন্ত্রণ, পাহাড়-সমতলের যোগাযোগ মজবুত করা এবং ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হয়ে উঠতে পারে।তবে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, নির্মাণের সময়সীমা এবং কবে সাধারণের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণা থেকেই স্পষ্ট হবে।

উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেবকের কাছে তিস্তা নদীর উপর প্রস্তাবিত নতুন সেতুটি চার লেনের পরিবর্তে এবার ছয় লেনের হাইওয়ে হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক করোনেশন ব্রিজের বিকল্প হিসেবে এই সেতু তৈরি হলে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং পাহাড়, কালিম্পং, সিকিম, ডুয়ার্স ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে।

Leave a comment