ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসকে প্রথম দ্য হান্ড্রেড শিরোপা এনে দিলেন টিম সিফার্ট ও লিয়াম ডসন

দ্য হান্ড্রেড মেনস কম্পিটিশন ২০২৬-এর ফাইনালে ট্রেন্ট রকেটসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। টিম সিফার্ট ৭২ রান করেন এবং লিয়াম ডসনের ছক্কায় ম্যানচেস্টার লক্ষ্য তাড়া করে জয় নিশ্চিত করে।

লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্য হান্ড্রেড মেনস কম্পিটিশন ২০২৬-এর ফাইনালে ট্রেন্ট রকেটসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ম্যানচেস্টার ১৯.৩ বলে ১৬২/৫ রান করে এবং দুই বল বাকি থাকতেই ম্যাচ শেষ করে।

ম্যানচেস্টারের এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এর আগে দুইবার ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। ২০২৬ মরশুমে ম্যানচেস্টার অরিজিনালসের নাম পরিবর্তন করে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস করা হয়। নতুন নামে প্রথম মরশুমেই দলটি শিরোপা জিতে নেয়।

ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের জয়ের অন্যতম প্রধান অবদান নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার টিম সিফার্টের। তিনি ৩৮ বলে ৭২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও ৪টি চার। মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন সিফার্ট।

শুরু থেকেই ট্রেন্ট রকেটসের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে দ্রুত রান তোলেন সিফার্ট। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যানচেস্টারকে লক্ষ্য তাড়ায় শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়। সিফার্ট আউট হওয়ার পর ম্যাচে চাপ তৈরি হলেও তাঁর ইনিংস দলকে জয়ের প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

সিফার্ট আউট হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য ম্যানচেস্টার চাপে পড়ে। শেষ পর্যায়ে দ্রুত রান প্রয়োজন ছিল এবং ট্রেন্ট রকেটসের বোলাররা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন।

মোহাম্মদ আমির পরপর হেনরিক ক্লাসেন ও মাইকেল ব্রেসওয়েলকে আউট করে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন। এরপর বেন স্যান্ডারসন টানা দুটি ডট বল করে ম্যানচেস্টারের ওপর চাপ তৈরি করেন।

শেষ তিন বলে ম্যানচেস্টারের প্রয়োজন ছিল তিন রান। সেই পরিস্থিতিতে লিয়াম ডসন পরের বলটি মিড-উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কায় পাঠান। ওই শটের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার ১৯.৩ বলে ১৬২/৫ রান করে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ১০০ বলে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করে ট্রেন্ট রকেটস। শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও মাঝের ওভার এবং শেষ পর্যায়ে দ্রুত রান তুলে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে দলটি।

এনেরিন ডোনাল্ড ১৯ বলে ৩৮ রান করেন। লুইস গ্রেগরি ১৬ বলে ৩২ রান করেন এবং মিচেল স্যান্টনার অপরাজিত ২০ রান করেন। তাঁদের ইনিংসের সাহায্যে ম্যানচেস্টারের সামনে ১৫৯ রানের লক্ষ্য দেয় ট্রেন্ট রকেটস।

ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের বোলাররা ট্রেন্ট রকেটসকে বড় স্কোরে পৌঁছাতে দেয়নি। আফগানিস্তানের স্পিনার নূর আহমেদ দলের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন। তিনি ৩৩ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন।

নূর আহমেদের বোলিং ট্রেন্ট রকেটসের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সনি বেকার ২টি উইকেট নিয়ে ম্যানচেস্টারকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন। বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে তৈরি হওয়া স্কোর শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টারের ব্যাটাররা তাড়া করে নেয়।

৭২ রানের ইনিংস চলাকালে ৩৩ রানে আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান টিম সিফার্ট। তিনি বলটি লেগ সাইডে খেলেছিলেন এবং ফিন অ্যালেন বাউন্ডারির কাছে ক্যাচ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অ্যালেন বলটি মাঠের ভেতরে ফেরত পাঠালেও রিপ্লেতে দেখা যায়, তাঁর পা বাউন্ডারি রোপে স্পর্শ করেছিল। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পর সেটিকে ছক্কা দেওয়া হয়। ফলে জীবনদান পান সিফার্ট এবং এরপর আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন।

লক্ষ্য তাড়ার শুরুতে অধিনায়ক জোস বাটলারও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ১৪ বলে ২৩ রান করেন এবং ৩টি ছক্কা মারেন।

বাটলার ও সিফার্ট ম্যানচেস্টারকে দ্রুত শুরু এনে দেন। বাটলার আউট হওয়ার পর সিফার্ট আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে দলকে লক্ষ্যের কাছে নিয়ে যান। এরপর মিডল অর্ডার চাপ সামলে ইনিংস ধরে রাখে এবং শেষ পর্যন্ত ডসনের ছক্কায় ম্যানচেস্টার শিরোপা নিশ্চিত করে।

ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের জন্য এটি দ্য হান্ড্রেডের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ শিরোপা। দলটি আগে ম্যানচেস্টার অরিজিনালস নামে প্রতিযোগিতায় অংশ নিত। ২০২৬ মরশুম থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নাম পরিবর্তন করে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস করা হয়।

নাম ও পরিচয় পরিবর্তনের পর প্রথম মরশুমেই দলটি শিরোপা জেতে। এর আগে ২০২২ সালে এবং আরও একবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি জিততে পারেনি দলটি। এবার ফাইনালে লক্ষ্য তাড়া করে শিরোপা নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার।এই মরশুমে ট্রেন্ট রকেটসের কাছে পুরুষ ও মহিলা—দুই বিভাগেই শিরোপা জয়ের সুযোগ ছিল। তাদের মহিলা দল ফাইনালে সানরাইজার্স লিডসকে হারিয়ে মহিলা বিভাগে শিরোপা জিতেছিল।

এরপর পুরুষ দল ফাইনালে উঠলেও ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের কাছে ৫ উইকেটে হেরে যায়। ফলে একই দিনে পুরুষ ও মহিলা—দুই বিভাগেই শিরোপা জয়ের সুযোগ শেষ হয়ে যায়।

 

Leave a comment