ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার বারিয়াতু জাগীর গ্রামে একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা নগদ টাকার পাশাপাশি প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের সোনা-রুপোর গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। চুরির সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়ির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর আশপাশের লোকজনকে খবর দেওয়া হলে গ্রামের বহু মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
জানা গেছে, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোরেরা বাড়িতে ঢোকে। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর তারা বাড়ির ঘর ও আলমারি তল্লাশি করে নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার অন্যতম বিষয় ছিল, চোরেরা আশপাশের কয়েকটি বাড়ির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে প্রতিবেশী পরিবারের সদস্যরা রাতে বাড়ির বাইরে বেরোতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ যাতে চোরদের গতিবিধি দেখতে না পারে এবং চুরি চলাকালীন তাদের আটকানো বা পুলিশকে খবর দেওয়া কঠিন হয়, সেই উদ্দেশ্যেই দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা হয়েছিল।
সকালে প্রতিবেশীরা নিজেদের বাড়ির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে কোনওভাবে দরজা খোলার পর ঘটনাটি গ্রামের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারের দাবি, বাড়িতে রাখা গয়না ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা। এছাড়া কত নগদ টাকা চুরি হয়েছে, তা বাড়ির সামগ্রী ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করে। বাড়ির ভিতর ও আশপাশের এলাকায় তদন্ত চালানো হয় এবং চোরেরা কোন পথ দিয়ে বাড়িতে ঢুকেছিল ও কোন পথ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ গ্রামে ঢোকার সম্ভাব্য পথ এবং ঘটনার পর চোরেরা কোন দিকে পালিয়ে গিয়েছিল, সেটিও তদন্ত করছে। আশপাশের রাস্তা এবং সম্ভাব্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হতে পারে।
ঘটনার রাতে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গাড়িকে গ্রামের আশপাশে দেখা গিয়েছিল কি না, তা জানতে গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কোনও গ্রামবাসী সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে থাকলে তা চোরদের শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে।
পুলিশ চুরি যাওয়া গয়না ও নগদ টাকার সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে। চুরি হওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সেগুলি উদ্ধার হলে শনাক্ত করা যায়।
চোরেরা যেভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তাতে তাদের বাড়ি ও আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ এই বিষয়টিও তদন্ত করবে এবং সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে না।
আশপাশের বাড়ির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ চোরের সংখ্যা এবং তারা সকলে মিলে চুরি করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
ঘটনাস্থল থেকে আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনও প্রযুক্তিগত প্রমাণ পাওয়া গেলে তা তদন্তের জন্য পাঠানো হতে পারে। পুরনো চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের রেকর্ডও পুলিশ খতিয়ে দেখতে পারে।
ঘটনার পর গ্রামবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা রাতে গ্রামে পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, চোরেরা যদি প্রতিবেশী বাড়ির দরজাও বাইরে থেকে বন্ধ করতে পারে, তাহলে বড় ধরনের ঘটনাও ঘটাতে পারে।
পুলিশ গ্রামবাসীদের যে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধির তথ্য দ্রুত জানাতে বলেছে। রাতে গ্রামে অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াতের দিকে নজর রাখা এবং সন্দেহজনক গাড়ির তথ্য পুলিশকে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
বারিয়াতু জাগীর গ্রামের চুরির ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চোরদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য সম্ভাব্য সূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত তদন্ত এবং স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনায় প্রায় চার লাখ টাকার গয়না ও নগদ টাকা চুরির পাশাপাশি প্রতিবেশী বাড়ির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, চুরিতে কারা জড়িত ছিল, কীভাবে তারা বাড়ি সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিল এবং চুরি করা সামগ্রী কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।












