Hilsa Price: নিম্নচাপের পর দিঘায় ইলিশের জোয়ার! বাড়তে পারে জোগান, কমার সম্ভাবনা কতটা দাম? জানুন

বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের পর ফের সমুদ্রে দিঘার মৎস্যজীবীরা। অগাস্টের শেষে বাড়তে পারে ইলিশের জোগান, ফলে বাজারে কমতে পারে ইলিশের দাম। জানুন বিস্তারিত।

দিঘা: ইলিশপ্রেমীদের জন্য সুখবর আসতে পারে খুব শিগগিরই। বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের পর আবহাওয়ার পরিবর্তনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন দিঘার মৎস্যজীবীরা। তাঁদের ধারণা, বৃষ্টির জল সমুদ্রে মেশা এবং সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ার ফলে ইলিশের আনাগোনা বাড়তে পারে। ফলে অগাস্টের শেষদিকে দিঘা মোহনা মৎস্য নিলাম কেন্দ্রে ইলিশের জোগান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিম্নচাপের পর ফের সমুদ্রে ট্রলার

পরপর নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। ফলে বাধ্য হয়েই বেশ কিছু ট্রলারকে দ্রুত উপকূলে ফিরে আসতে হয়। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বুধবার থেকে ফের ইলিশের সন্ধানে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছে মৎস্যজীবীদের ট্রলার।মৎস্যজীবীদের বক্তব্য, নিম্নচাপের কারণে কয়েকদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও এই বিরতিই এবার তাঁদের জন্য লাভজনক হতে পারে। তাঁদের আশা, ফের সমুদ্রে গিয়ে ট্রলারগুলি ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ-সহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ নিয়ে ফিরবে।

বৃষ্টির জলে বদলেছে সমুদ্রের পরিস্থিতি?

আগস্টের শুরু থেকেই দিঘায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ উঠছিল। এমনকি নিম্নচাপের আগে সমুদ্রে যাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসা কয়েকটি ট্রলারেও বেশ ভালো পরিমাণে ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল।এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টির জল নদী-নালা হয়ে সমুদ্রে গিয়ে মিশেছে। মৎস্যজীবী ও মাছ ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, মিষ্টি জলের প্রবাহ এবং সমুদ্রের জলের তাপমাত্রার পরিবর্তন ইলিশের আনাগোনার পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

দিনে ২৫-৩০ টন থেকে বাড়তে পারে জোগান

দিঘা মোহনা মৎস্য নিলাম কেন্দ্রে নিম্নচাপের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টন ইলিশ উঠছিল বলে জানা যাচ্ছে। এবার সেই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশাবাদী মৎস্যজীবীরা।কেউ কেউ মনে করছেন, অগাস্টের শেষ সপ্তাহে দিঘায় ইলিশের জোগানে বড়সড় বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টন পর্যন্ত ইলিশ নিলাম কেন্দ্রে আসার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন মৎস্যজীবীদের একাংশ।

ইলিশ বাড়লে কি কমবে বাজারদর?

ইলিশের জোগান বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাজারদরে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়লে পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা নরম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সুবিধা ধীরে ধীরে খুচরো বাজারেও পৌঁছতে পারে।তবে ঠিক কতটা দাম কমবে, তা নির্ভর করবে মাছের পরিমাণ, ওজন, মান, চাহিদা এবং বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের উপর। তাই এখনই নির্দিষ্ট দাম বলা সম্ভব নয়। তবে মৎস্যজীবীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী যদি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইলিশ ওঠে, তাহলে ইলিশপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর মিলতে পারে।

মৎস্যজীবীদের মুখে আশার কথা

দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, নিম্নচাপের আগেও যথেষ্ট পরিমাণে ইলিশ উঠছিল। এমনকি কম সময় সমুদ্রে থাকার পর ফিরে আসা ট্রলারগুলিতেও ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের ট্রলার সমুদ্রে যাওয়ায় এবার আরও বেশি ইলিশ ওঠার আশা করা হচ্ছে।তাঁর মতে, সাময়িকভাবে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও নিম্নচাপ পরবর্তী পরিস্থিতি মৎস্যজীবীদের অনুকূলে যেতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপের জেরে কয়েকদিন সমুদ্রে মাছ ধরায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছিল। আবহাওয়া স্বাভাবিক হতেই ফের ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছেন দিঘার মৎস্যজীবীরা। তাঁদের আশা, নিম্নচাপের পর অনুকূল পরিবেশে বিপুল পরিমাণ ইলিশ উঠতে পারে। জোগান বাড়লে বাজারে ইলিশের দামও কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a comment