ঝাড়খণ্ডে শুক্রবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা, ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সতর্কতা

ঝাড়খণ্ডে শুক্রবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাঁচি-সহ বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পশ্চিম সিংভূমে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডে শুক্রবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা, ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সতর্কতা
Photo Credit / Attribution: Google

ঝাড়খণ্ডে বর্ষার কার্যকলাপ এখনও পুরোপুরি থামেনি। রাজধানী রাঁচি-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় শুক্রবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, কয়েকটি এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বজ্রপাতের আশঙ্কায় মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে মৌসুমি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লেও বঙ্গোপসাগর থেকে ক্রমাগত আসা আর্দ্র বাতাসকে ধরা হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি এখন দুর্বল হয়েছে, তবে রাজ্যের উপর পর্যাপ্ত আর্দ্রতা রয়েছে। এর জেরে বিভিন্ন এলাকায় মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার রাজ্যের কয়েকটি অংশে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। শনিবারও আবহাওয়ার পরিস্থিতি একই রকম থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবার পালামু, গড়ওয়া, চতরা, গুমলা, সিমডেগা এবং পশ্চিম সিংভূমের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া চলার কারণে মানুষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে খোলা মাঠ, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি এবং দুর্বল নির্মাণের জায়গা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় ঘরের ভিতরে থাকা নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে।

এই বর্ষা মরশুমে পশ্চিম সিংভূমে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের জেলাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। ১ জুন থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে ১০৩৫.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ৭১৪.৩ মিলিমিটার। অর্থাৎ জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, ১ জুন থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত গোটা ঝাড়খণ্ডে ৬৩৬.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ৭১১.৭ মিলিমিটার হওয়ার কথা ছিল। ফলে রাজ্যে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম হয়েছে।

জেলাভিত্তিক বৃষ্টিপাতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পশ্চিম সিংভূমে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হলেও কয়েকটি জেলায় এখনও বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। দেবঘরে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৬ শতাংশ কম এবং বোকারোতে ২৬ শতাংশ কম বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। কোডারমা-সহ আরও কয়েকটি জেলায়ও স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টি কম হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের কয়েকটি অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও রেকর্ড হয়েছে। উপলব্ধ আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে হান্টারগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫৮.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে একাধিক জেলায় তাপমাত্রাতেও ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বহরাগোড়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। নামকুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী দিনগুলিতে বৃষ্টির কার্যকলাপ পুরোপুরি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কয়েকটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের ঝুঁকিও বজায় থাকবে।

রাজধানী রাঁচিতেও আকাশ মেঘলা থাকা এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সময় শহরের নিচু এলাকায় জল জমতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় কাঁচা রাস্তা এবং নিচু এলাকায় যাতায়াতও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিম সিংভূমে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টির কারণে নদী-নালা এবং জলাশয়ের জলস্তরের উপরও নজর রাখা হচ্ছে। যেসব এলাকায় ধারাবাহিক বৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে মানুষকে নদী এবং দ্রুত স্রোতযুক্ত নালার কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের জন্য কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি উপকারী হতে পারে। তবে ধারাবাহিকভাবে ভারী বৃষ্টি হলে জমিতে জল জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্থানীয় স্তরে জলনিকাশির ব্যবস্থা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর মানুষকে বজ্রবিদ্যুৎ ও বজ্রপাতের সময় অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে। খোলা জায়গায় থাকা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখতেও বলা হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডে আপাতত বর্ষার প্রভাব বজায় রয়েছে। মৌসুমি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লেও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পর্ব চলতে পারে। শুক্রবার ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

Leave a comment