Patashpur Flood: চারদিকে শুধু জল আর জল, কোমরজল পেরিয়ে মানুষের দরজায় পুলিশ সুপার! ত্রাণ-ওষুধ নিয়ে বিপন্নদের পাশে জেলা পুলিশ

টানা বৃষ্টিতে পটাশপুরের একাধিক গ্রাম জলমগ্ন। কোমরজল পেরিয়ে ত্রাণ, পানীয় জল ও ওষুধ নিয়ে দুর্গতদের পাশে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। জানুন পুরো খবর।

পটাশপুর: চারদিকে থইথই জল। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও আবার কোমর ছুঁইছুঁই জল। যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত। এমন দুর্যোগের দিনে যখন ঘর থেকে বেরোনোটাই কঠিন, তখনই মানুষের দরজায় হাজির পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুরের জলমগ্ন পটাশপুরে জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার নেতৃত্বে শুরু হয়েছে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ। পুলিশের এই উদ্যোগে বিপদের দিনে নতুন করে ভরসা পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পটাশপুর

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের একাধিক গ্রামে জল ঢুকে পড়েছে। কোথাও রাস্তা জলের তলায়, কোথাও আবার বাড়ির চারপাশে জমেছে জল। ফলে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত থমকে গিয়েছে।বহু জলমগ্ন এলাকা বাইরের যোগাযোগ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাবার, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গত পরিবারগুলির কাছে।

কোমরজল পেরিয়ে মানুষের দুয়ারে পুলিশ

এই পরিস্থিতিতেই সরাসরি মাঠে নেমেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ দল জলমগ্ন গ্রামগুলিতে পৌঁছে যাচ্ছে। কোথাও হাঁটুসমান জল, কোথাও আরও বেশি জল পেরিয়েই দুর্গত পরিবারের দরজায় পৌঁছচ্ছেন পুলিশকর্মীরা।শুধু ত্রাণসামগ্রী দিয়ে ফিরে আসা নয়, স্থানীয় মানুষের সমস্যার কথাও সরাসরি শুনছেন পুলিশ আধিকারিকরা। কোথায় খাবারের প্রয়োজন, কোথায় ওষুধ দরকার, কোথায় বিদ্যুৎ বা আলোর সমস্যা—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

খাবার, জল থেকে শুরু করে ওষুধ—সবই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে

জলবন্দি পরিবারগুলির জন্য শুকনো খাবার, পানীয় জলের বোতল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। জলমগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও আলোর সমস্যা তৈরি হওয়ায় সেই সংক্রান্ত জরুরি সহায়তার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, মহিলা ও শিশুদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের জন্য দুধ ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা এবং প্রবীণদের প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিপদের দিনে পুলিশের পাশে থাকার বার্তা

দুর্যোগের সময় পুলিশকে এভাবে সরাসরি মানুষের পাশে দেখতে পেয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের কাছে এই উদ্যোগ শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং বিপদের সময়ে প্রশাসন পাশে রয়েছে—এই বার্তাও দিচ্ছে।জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার কথাতেও সেই আশ্বাসই উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বন্যা পরিস্থিতিতে বিপন্ন মানুষের পাশে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও রয়েছে। জলবন্দি এলাকাগুলিতে ঘুরে মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলবে ত্রাণকাজ

পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জল না নামা পর্যন্ত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য আধিকারিকরাও জলমগ্ন এলাকাগুলি পরিদর্শন করছেন।দুর্যোগের কঠিন সময়ে পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকা পটাশপুরের বহু জলবন্দি পরিবারের কাছে স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

টানা বৃষ্টিতে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন। এমন পরিস্থিতিতে জলবন্দি মানুষের কাছে পৌঁছে ত্রাণ, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার নেতৃত্বে পুলিশকর্মীরা দুর্গম এলাকা ঘুরে মানুষের সমস্যার কথাও শুনছেন।

Leave a comment