চাকরিজীবনের শেষে যখন মাসিক বেতন বন্ধ হয়ে যায়, তখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়ায় নিয়মিত আয়ের উৎস। চিকিৎসা, সংসার খরচ এবং অন্যান্য আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে অবসর-পরবর্তী সময়ে একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রয়োজন মেটাতেই ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বা LIC নিয়ে এসেছে ‘সরল পেনশন যোজনা’, যেখানে একবার বিনিয়োগ করলেই আজীবন নির্দিষ্ট পেনশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।
এককালীন বিনিয়োগ, আজীবন পেনশন
‘সরল পেনশন যোজনা’ একটি সিঙ্গল প্রিমিয়াম অ্যানুইটি প্ল্যান। অর্থাৎ এই স্কিমে বারবার টাকা জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পলিসি নেওয়ার সময় একবার নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা করলেই নিয়মিত পেনশন পাওয়া শুরু হয়। এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ভবিষ্যতের আয় নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারেন।
বাজারের ওঠানামার প্রভাব নেই
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হল, পেনশনের পরিমাণ শুরুতেই নির্ধারিত হয়ে যায় এবং তা সারাজীবন অপরিবর্তিত থাকে। শেয়ার বাজারের উত্থান-পতন বা সুদের হার কমা-বাড়ার কোনও প্রভাব এই পেনশনের উপর পড়ে না। ফলে বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত আয়ের নিশ্চয়তা পান।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই প্রকল্পে ৪০ থেকে ৮০ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিকরা বিনিয়োগ করতে পারেন। পলিসি ব্যক্তিগতভাবে অথবা স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে কেনার সুযোগও রয়েছে। এতে পরিবারভিত্তিক আর্থিক সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়।
পেনশন নেওয়ার একাধিক বিকল্প
বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সুবিধামতো পেনশন গ্রহণের সময়সীমা বেছে নিতে পারেন। মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক কিংবা বার্ষিক—চার ধরনের বিকল্পই উপলব্ধ। ফলে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আয়ের ধরণ নির্বাচন করা যায়।
বিনিয়োগের কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই
এই স্কিমে বছরে ন্যূনতম ১২,০০০ টাকার পেনশন নিশ্চিত করতে হবে। তবে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনও সীমা নির্ধারিত নেই। ফলে যাঁদের হাতে বড় অঙ্কের অবসরকালীন তহবিল রয়েছে, তাঁরা বেশি বিনিয়োগ করে আরও বেশি পেনশন পেতে পারেন।
নমিনির জন্যও রয়েছে সুরক্ষা
শুধু পেনশনই নয়, এই প্রকল্প পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়টিও মাথায় রেখেছে। পলিসিধারীর মৃত্যু হলে জমা করা মূল অর্থ মনোনীত ব্যক্তিকে বা নমিনিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বজায় থাকে।
ঋণ ও সারেন্ডারের সুবিধাও রয়েছে
পলিসি চালুর ছয় মাস পর নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এটি সারেন্ডার করা যায়। এছাড়া জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে এই পলিসির বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। ফলে প্রয়োজনে বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
৪০ লক্ষ টাকায় কত পেনশন?
LIC-এর ক্যালকুলেশন অনুযায়ী, ৪০ বছর বয়সী কোনও ব্যক্তি যদি এককালীন প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে তিনি বছরে প্রায় ২.৬২ লক্ষ টাকা পেনশন পেতে পারেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ২১,৮০০ টাকার নিয়মিত আয় নিশ্চিত হতে পারে। এই আয় আজীবন একই থাকবে।
অবসরের পর নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা চান? তাহলে LIC-এর ‘সরল পেনশন যোজনা’ হতে পারে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প। এককালীন বিনিয়োগের মাধ্যমে আজীবন গ্যারান্টিযুক্ত পেনশন পাওয়ার সুযোগ দেয় এই স্কিম। ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে ২১ হাজার টাকারও বেশি আয় হতে পারে।












