লিচু চাষেই লাখপতি! এগরার কৃষি বিশেষজ্ঞের আধুনিক পদ্ধতিতে বদলাচ্ছে গ্রামের অর্থনীতি

পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় লিচু চাষ করে বছরে লক্ষাধিক আয়! জানুন আধুনিক পদ্ধতি, খরচ ও লাভের হিসাব—কৃষকদের জন্য বড় সুযোগ।

গ্রামের ছোট্ট জমিই এখন সোনার খনি! পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার বাসিন্দা Madal Kumar Pal নিজের বাগানকে বানিয়েছেন পরীক্ষাগার। থাইল্যান্ড থেকে মুজাফফরপুর—বিভিন্ন প্রজাতির লিচু চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বাগানেই ‘ল্যাবরেটরি’, পরীক্ষায় সাফল্য কৃষি বিশেষজ্ঞের

বছরের পর বছর ধরে নিজের বাগানেই নানা ফল, ফুল ও সবজির চাষে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন মাদলবাবু। তাঁর লক্ষ্য—কম খরচে বেশি ফলন। বাইরে রাজ্যের ফল স্থানীয় মাটিতে ফলিয়ে সফল হয়েছেন তিনি, যা এখন অন্য কৃষকদের কাছেও উদাহরণ হয়ে উঠছে।

থাইল্যান্ড থেকে মুজাফফরপুর—এক বাগানে নানা প্রজাতির লিচু

নিজের বাগানে থাইল্যান্ড, চায়না, বম্বে ও মুজাফফরপুর—বিভিন্ন ধরনের লিচুর চাষ করেছেন তিনি। প্রতিটি গাছ আলাদা যত্নে বড় করা হয়েছে। ফলে স্বাদে যেমন বৈচিত্র্য, তেমনই বাজারে চাহিদাও তুঙ্গে। ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে কিনছেন এই লিচু।

কম খরচে বেশি লাভ, পরিকল্পনাই সাফল্যের মূল মন্ত্র

ছোট জায়গায় পরিকল্পিত চাষ করায় খরচ অনেকটাই কমেছে। নিজেই সার দেওয়া, সেচ ও পরিচর্যার কাজ করায় শ্রমিক খরচও কম। জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়ে তিনি ফলনের গুণগত মানও বাড়িয়েছেন। ফলে বাজারে বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে।

লিচু চাষে বিনিয়োগ ও আয়—কতটা লাভজনক?

একটি লিচুর চারা লাগাতে খরচ পড়ে প্রায় ২০০–৩০০ টাকা। প্রথম বছরে কিছুটা বেশি খরচ হলেও, দ্বিতীয় বছর থেকে তা কমতে থাকে। ৩–৫ বছরের মধ্যে গাছে ফল আসে। সঠিক পরিচর্যায় প্রতি গাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এক একর জমিতে বছরে কয়েক লক্ষ টাকা আয় সম্ভব বলেই দাবি তাঁর।

পুষ্টিগুণে ভরপুর লিচু, বাজারে বাড়ছে চাহিদা

লিচু শুধু সুস্বাদুই নয়, এতে রয়েছে ভিটামিন A, B, C-সহ নানা খনিজ উপাদান। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এই ফলের চাহিদা অনেক বেশি। ফলে বাজারে সহজেই ভালো দাম মেলে।

পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় এক কৃষি বিশেষজ্ঞ দেখালেন নতুন পথ—বাড়ির ছোট বাগানেই বিভিন্ন প্রজাতির Litchi চাষ করে বছরে লক্ষাধিক টাকার আয় সম্ভব। আধুনিক পদ্ধতি ও পরিকল্পনাই সাফল্যের চাবিকাঠি।

Leave a comment