বিদেশ থেকে মাদক পাচারের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে তদন্তকারী সংস্থাগুলো সতর্কতা বাড়িয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, গত দুই মাসে লখনউ বিমানবন্দরে পরিচালিত একাধিক অভিযানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। এর পর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আগত যাত্রীদের তল্লাশি আরও কঠোর করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে পর্যটকদের প্রলোভন বা প্রতারণার মাধ্যমে ড্রাগ কুরিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিদেশ থেকে ফেরার পর এসব যাত্রীকে বিমানবন্দরের বাইরে পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা গ্রহণ করত। তবে সব যাত্রী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং প্রতিটি ঘটনার পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ড থেকে আসা ফ্লাইটগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ, লাগেজ পরীক্ষা এবং যাত্রীদের প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একাধিক ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদের পর বড় চক্রগুলোর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া গেছে।
বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সংস্থা, কাস্টমস বিভাগ এবং মাদকবিরোধী দলের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পাচারের নতুন পদ্ধতি বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত ব্যবস্থা প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। লাগেজ স্ক্যানিংয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের গতিবিধির ওপরও নজরদারি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশ ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের অচেনা কারও লাগেজ বহন করা বা অতিরিক্ত অর্থের প্রলোভনে কোনো প্যাকেট সঙ্গে আনা থেকে বিরত থাকা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ অজান্তেই পাচারচক্রের অংশ হয়ে পড়ে এবং পরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়।
বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থাগুলো পুরো নেটওয়ার্কের বিভিন্ন যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে। কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক জব্দ অভিযানের পর একাধিক সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং আগামী দিনে এ মামলায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
মাদক পাচার ও জব্দ সংক্রান্ত এই তথ্যগুলো তদন্তকারী সংস্থা ও কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।







