Malda Railway Hospital: দাঁত তুলতে হল না! জটিল সংক্রমণ ও ফোলা সারিয়ে ১৫ বছরের কিশোরীর দাঁত বাঁচাল মালদহ রেল হাসপাতাল

তীব্র সংক্রমণ ও ফোলা নিয়েও দাঁত তুলতে হল না ১৫ বছরের সানাবাক্ষীর। বিশেষ এন্ডোডন্টিক চিকিৎসায় দাঁত সংরক্ষণ করে নজির গড়ল মালদহ রেল হাসপাতাল।

দাঁতে গুরুতর সংক্রমণ হলেই দাঁত তুলে ফেলতে হবে—এমন ধারণা যে সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়, তারই নজির তৈরি হল মালদহে। তীব্র ব্যথা ও ফোলা নিয়ে হাসপাতালে আসা ১৫ বছরের এক কিশোরীর গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দাঁত না তুলে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে সেটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিশেষ এন্ডোডন্টিক চিকিৎসা এবং নির্দিষ্ট ওষুধের প্রয়োগে নিয়ন্ত্রণে এসেছে সংক্রমণ ও ফোলা।

কী হয়েছিল কিশোরীর?

মালদহ ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালের ডেন্টাল ওপিডিতে নীচের বাঁদিকের দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা ও ফোলার সমস্যা নিয়ে আসেন ১৫ বছরের সানাবাক্ষী কুমারী। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা দেখতে পান, নীচের দিকের একটি মোলার দাঁত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।শুধু দাঁতের ক্ষয় নয়, তার সঙ্গে ছিল সেলুলাইটিস এবং বাইরে ছড়িয়ে পড়া যন্ত্রণাদায়ক ফোলা। ফলে পরিস্থিতি বেশ জটিল ছিল।

দাঁত না তুলে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত

সানাবাক্ষীর বয়স মাত্র ১৫ বছর হওয়ায় চিকিৎসকেরা আক্রান্ত দাঁতটি তুলে ফেলার পরিবর্তে সেটি বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেন। ডেন্টাল বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সুতির্থা বোরালের তত্ত্বাবধানে বিশেষ এন্ডোডন্টিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু হয়।রুট ক্যানাল চিকিৎসার অংশ হিসেবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও আইডোফর্ম পেস্ট ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ফোলার সমস্যাও কমে যায়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসা?

কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী দাঁত সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও দাঁত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেই সেটি তুলে ফেলার পরিবর্তে উপযুক্ত ক্ষেত্রে সংরক্ষণের চেষ্টা করা যায়। মালদহ রেল হাসপাতালের এই চিকিৎসায় সেই দিকটিই সামনে এসেছে।রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সাফল্য হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগের আধুনিক ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা পরিষেবার সক্ষমতাকে তুলে ধরেছে।

চিকিৎসকদের সাফল্যে খুশি রেল কর্তৃপক্ষ

মালদহ ডিভিশনের ডিআরএম মনিশ কুমার গুপ্তা জানান, চিফ মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ অনুপা ঘোষের তত্ত্বাবধানে ডেন্টাল বিভাগ সানাবাক্ষীর চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিষ্ঠা এবং পেশাগত দক্ষতারই প্রতিফলন এই সাফল্য বলে জানান তিনি।

তীব্র দাঁতের ব্যথা, সংক্রমণ ও মুখের একাংশে ফোলা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল ১৫ বছরের সানাবাক্ষী কুমারী। অল্প বয়সের কথা মাথায় রেখে দাঁত তুলে না ফেলে বিশেষ এন্ডোডন্টিক চিকিৎসার মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে আক্রান্ত দাঁতটি সংরক্ষণ করল মালদহ ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগ।

Leave a comment