গরম মশলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দারচিনি। চা, রান্না কিংবা বিভিন্ন ঘরোয়া ব্যবহারে এই মশলার কদর রয়েছে। কিন্তু বাজারে দারচিনি কিনতে গিয়ে অনেকেই আসল মশলার বদলে ক্যাসিয়া নিয়ে ফেলেন। দেখতে প্রায় একই হলেও দুটির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ক্যাসিয়ায় কুমারিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই বাজার থেকে দারচিনি কেনার আগে কয়েকটি সহজ বিষয় জেনে রাখা দরকার।
আসল দারচিনি চিনবেন কীভাবে?
ছালের স্তর ভালো করে দেখুন
আসল দারচিনির ছাল সাধারণত পাতলা এবং একাধিক সূক্ষ্ম স্তরে পেঁচানো থাকে। টুকরোটি ভালো করে দেখলে এই স্তরগুলি স্পষ্ট বোঝা যায়। অন্যদিকে ক্যাসিয়ার ছাল সাধারণত মোটা ও শক্ত হয়।
খুব মোটা ও শক্ত হলে সাবধান
আসল দারচিনি তুলনামূলকভাবে হালকা ও পাতলা। ক্যাসিয়া অনেক বেশি মোটা, শক্ত এবং খসখসে হতে পারে। তাই দোকানে গোটা দারচিনি কিনলে হাতে নিয়ে এর পুরুত্ব ও গঠন দেখে নেওয়া ভালো।
গুঁড়ো নয়, সম্ভব হলে গোটা দারচিনি কিনুন
গুঁড়ো অবস্থায় দারচিনি আসল নাকি অন্য কোনও ছালের সঙ্গে মেশানো, তা বোঝা কঠিন। তাই সম্ভব হলে গোটা দারচিনি কিনে বাড়িতে প্রয়োজনমতো গুঁড়ো করে ব্যবহার করুন। প্যাকেটজাত মশলা কিনলে লেবেল ও উপাদানের তালিকাও দেখে নিন।
গন্ধ ও স্বাদের দিকেও নজর দিন
আসল দারচিনির সুগন্ধ সাধারণত মিষ্টি, উষ্ণ ও প্রাকৃতিক ধরনের হয়। খুব তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ বা অস্বাভাবিক স্বাদ হলে সতর্ক হওয়া ভালো। তবে শুধু গন্ধ বা স্বাদের উপর নির্ভর করে নিশ্চিতভাবে আসল-নকল নির্ধারণ করা যায় না।
সিলন দারচিনি ও ক্যাসিয়ার পার্থক্য বুঝুন
সিলন দারচিনি এবং ক্যাসিয়া একই জিনিস নয়। বিশেষ করে কুমারিনের মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে। ক্যাসিয়ায় তুলনামূলক বেশি কুমারিন থাকে, আর সিলন দারচিনিতে তা অনেক কম। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত কুমারিন গ্রহণ করলে লিভারের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিয়মিত বেশি পরিমাণে দারচিনি খাওয়ার অভ্যাস এড়ানোই ভালো।
দারচিনি কীভাবে সংরক্ষণ করবেন?
গোটা দারচিনি শুকনো ও পরিষ্কার বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন। গ্যাসের পাশ, সিঙ্ক বা বাষ্প ও আর্দ্রতা রয়েছে এমন জায়গায় মশলার পাত্র রাখবেন না। আর্দ্রতা ঢুকে গেলে দারচিনির গন্ধ ও গুণমান দ্রুত কমে যেতে পারে।
বেশি দারচিনি খেলেই কি বেশি উপকার?
একেবারেই নয়। দারচিনি খাবারে স্বাদ ও সুগন্ধ যোগ করলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস ঠিক নয়। বিশেষ করে প্রতিদিন দারচিনি চা, দারচিনি জল বা বিভিন্ন ঘরোয়া টোটকার অংশ হিসেবে খেলে পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
বাজারে আসল দারচিনির পাশাপাশি ক্যাসিয়াও বিক্রি হয়, যা দেখতে অনেকটাই একই রকম। কিন্তু দুটির গঠন ও কুমারিনের মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে। তাই দারচিনি কেনার সময় ছালের স্তর, পুরুত্ব, গন্ধ ও ধরন দেখে আসল মশলা বেছে নেওয়া জরুরি।













