IPL-এ ব্যর্থতা নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটই খুলে দিল দরজা! আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেকে বাজিমাত মানব সুথারের

আইপিএলে সীমিত সুযোগ পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের সাফল্যে ভারতীয় দলে সুযোগ পান মানব সুথার। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচেই ৩ উইকেট নিয়ে নজর কাড়লেন তরুণ স্পিনার।

ভারতীয় ক্রিকেটে এখন আইপিএলকে আন্তর্জাতিক দলে প্রবেশের অন্যতম বড় মঞ্চ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেই আলোচনায় উঠে এলেন মানব সুথার। আইপিএলে সীমিত সুযোগ পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পান তিনি। আর সুযোগ পেয়েই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে স্মরণীয় অভিষেক করে নজর কাড়লেন তরুণ ক্রিকেটার।

অভিষেক ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নাম

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন মানব সুথার। ম্যাচের প্রথম ওভারেই উইকেট শিকার করে তিনি বিরল এক কৃতিত্বের মালিক হন। ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে অভিষেক ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট নেওয়া অষ্টম বোলার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন তিনি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে ধাক্কা দেন।

গলির ক্রিকেট থেকে জাতীয় দলের জার্সি

নিজের ক্রিকেট সফরের কথা বলতে গিয়ে মানব জানান, ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা তাঁর পরিবারের থেকেই এসেছে। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে টিভিতে ম্যাচ দেখা থেকেই খেলাটির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে গলির ক্রিকেট খেলতে খেলতেই ব্যাটিং-বোলিংয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে তিনি পেশাদার ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন এবং কোচদের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন।

কঠিন প্রতিযোগিতার মাঝেও হার মানেননি

ভারতের মতো ক্রিকেটপাগল দেশে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া যে কতটা কঠিন, তা ভালভাবেই জানতেন মানব। তিনি জানান, অনেকেই তাঁকে পড়াশোনায় বেশি মন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কেউ কেউ ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের লক্ষ্যে অটল ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য এবং ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স তাঁকে নির্বাচকদের নজরে এনে দেয়।

আইপিএলে সীমিত সুযোগ, তবু থামেনি স্বপ্ন

মানব সুথারের আইপিএল যাত্রাও ছিল সংগ্রামের। ২০২৪ সালে Gujarat Titans-এর হয়ে অভিষেক হলেও মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ২০২৫ সালে কোনও ম্যাচই খেলতে পারেননি। ২০২৬ মরসুমে চারটি ম্যাচে সুযোগ মিললেও বড়সড় পারফরম্যান্স দেখা যায়নি। তবু তিনি হতাশ হননি। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন, যার ফলস্বরূপ জাতীয় দলের দরজা খুলে যায়।

ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব ফের প্রমাণিত

মানব সুথারের উত্থান আবারও দেখিয়ে দিল, শুধুমাত্র আইপিএল নয়, ঘরোয়া ক্রিকেট এখনও ভারতীয় দলের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। রঞ্জি ট্রফি, দুলিপ ট্রফি এবং ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সুযোগ এখনও পাওয়া যায়। মানবের সাফল্য দেশের বহু তরুণ ক্রিকেটারের কাছে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

আইপিএলে খুব বেশি সুযোগ পাননি, পারফরম্যান্সও ছিল না চোখধাঁধানো। তবু ঘরোয়া ক্রিকেট ও ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের ধারাবাহিক সাফল্যের জোরে ভারতীয় দলে সুযোগ পেলেন মানব সুথার। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচেই তিন উইকেট তুলে নিয়ে নিজের আগমনের বার্তা দিলেন তরুণ এই স্পিনার।

Leave a comment