Mandarmani Red Zone: মন্দারমণির সমুদ্রে লাল পতাকা, বাঁশ-দড়ির বেড়া! পুজোর আগে ২ কিমি এলাকায় কড়া নিষেধাজ্ঞা

দুর্গাপুজোর আগে মন্দারমণি সৈকতে বড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৩ নম্বর ঘাট থেকে ২ কিমি এলাকা রেড জোন, বাঁশ-দড়ির বেড়া ও লাল পতাকা। জানুন পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম।

দুর্গাপুজোর ছুটিতে দিঘা-মন্দারমণিতে পর্যটকের ঢল নামার সম্ভাবনা। তার আগেই সমুদ্রস্নান নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। মন্দারমণি সৈকতের বিপজ্জনক অংশ চিহ্নিত করে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটকদের ওই এলাকায় যাতে অসাবধানতাবশত ঢুকে পড়তে না পারেন, তার জন্য বাঁশ ও দড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ব্যারিকেড। সঙ্গে রয়েছে লাল পতাকা এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড।

পুজোর আগেই মন্দারমণিতে রেড জোন

দুর্গাপুজোর ছুটিতে মন্দারমণিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। সেই কথা মাথায় রেখেই আগেভাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে মন্দারমণি কোস্টাল থানা।মন্দারমণির ৩ নম্বর স্নানের ঘাট থেকে উপকূল বরাবর প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে রেড জোন তৈরি করা হয়েছে। ওই এলাকায় পর্যটকদের সমুদ্রে নামা আটকাতে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে ঘেরাও করা হয়েছে।

লাল কাপড় ও সাইনবোর্ডে সতর্কবার্তা

রেড জোনের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে লাল কাপড়ের পতাকা। পাশাপাশি পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য সাইনবোর্ডও বসানো হয়েছে।প্রশাসনের উদ্দেশ্য, সমুদ্রস্নানের সময় যাতে কেউ বিপজ্জনক অংশে ঢুকে না পড়েন। বিশেষ করে পুজোর ভিড়ে অসাবধানতাবশত কেউ রেড জোনে চলে গেলে যাতে দ্রুত বিপদের বিষয়টি বুঝতে পারেন, সেই জন্যই এই দৃশ্যমান সতর্কবার্তার ব্যবস্থা।

কেন এমন কড়া পদক্ষেপ?

সম্প্রতি মন্দারমণি এবং দিঘা সমুদ্র সৈকতে সমুদ্রে নেমে পর্যটকদের তলিয়ে যাওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্দারমণিতেও একসঙ্গে তিন পর্যটক তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।গত কয়েক মাসে একই ধরনের ঘটনা বারবার সামনে আসায় পুজোর মরশুমের আগে পর্যটকদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে প্রশাসন। বিপজ্জনক অংশগুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে সমুদ্রস্নান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাঁটুর বেশি জলে নামা যাবে না

পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, সমুদ্রে নামলেও পর্যটকদের হাঁটুর বেশি জলে যাওয়া যাবে না। বিপজ্জনক বা রেড জোন এলাকায় সমুদ্রস্নান সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।সমুদ্রের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই পর্যটকদের নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশ মেনে চলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা প্রচারও চালানো হচ্ছে।

মদ্যপানেও কড়া নিষেধাজ্ঞা

শুধু সমুদ্রস্নান নয়, সৈকত এলাকায় মদ্যপানের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। মদ্যপ অবস্থায় সৈকতে ঘোরাঘুরি বা সমুদ্রে নামার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।নিরাপত্তা এবং সৈকতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে পদক্ষেপ করা হবে বলেও সতর্ক করেছে প্রশাসন।

সৈকতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি

পুজোর আগে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার কথা মাথায় রেখে সৈকতে অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।রেড জোন এলাকায় পর্যটকদের ঢোকা আটকানো এবং বিপজ্জনক জায়গায় কেউ যাতে সমুদ্রে না নামেন, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

কী বলছে জেলা পুলিশ?

জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার বক্তব্য অনুযায়ী, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই মন্দারমণি সৈকতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৩ নম্বর স্নানের ঘাট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেটি বাঁশ ও দড়ি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।রেড জোনে পর্যটকদের না যাওয়ার জন্য সচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দুর্গাপুজোর আগে পর্যটকদের নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ মন্দারমণি সমুদ্র সৈকতে। ৩ নম্বর স্নানের ঘাট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ। বিপজ্জনক অংশে বাঁশ ও দড়ির ব্যারিকেড দেওয়ার পাশাপাশি লাগানো হয়েছে লাল পতাকা ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। ওই এলাকায় সমুদ্রে নামা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি পর্যটকদের হাঁটুর বেশি জলে না যাওয়ার নির্দেশ এবং মদ্যপানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

Leave a comment