ডুয়ার্স মানেই জঙ্গল, চা-বাগান, পাহাড়ের সবুজ আর বন্যপ্রাণী। তবে এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নতুন অভিজ্ঞতা। শালজঙ্গলের পরিবেশে বসছে এমন এক হাট, যেখানে একসঙ্গে পাওয়া যাবে স্থানীয় খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ পণ্য। পুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গে বেড়াতে গেলে জলদাপাড়ার এই ‘জঙ্গলের হাট’ পর্যটকদের জন্য হয়ে উঠতে পারে নতুন আকর্ষণ।
সোনাঝুরি হাটের আদলে ডুয়ার্সে ‘জঙ্গলের হাট’
শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের আদলে জলদাপাড়ায় এই নতুন হাটের সূচনা হয়েছে। ঘন সবুজ শালজঙ্গলের পরিবেশের মধ্যে রঙিন শাড়ি, হাতে তৈরি গয়না, কাঠের বন্যপ্রাণীর মডেল এবং স্থানীয় খাবারের সম্ভার নিয়ে সাজানো হয়েছে হাট।শুধু কেনাকাটার জায়গা হিসেবে নয়, উত্তরবঙ্গের স্থানীয় সংস্কৃতি ও লোকজ জীবনযাত্রাকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক হাটেই উত্তরবঙ্গের নানা সংস্কৃতির ছোঁয়া
ডুয়ার্সের এই হাটে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পোশাক ও সংস্কৃতির নানা নিদর্শন থাকছে। রাজবংশী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি রাভা ও নেপালি সম্প্রদায়ের পোশাক এবং বিভিন্ন ধরনের শাড়ির সম্ভারও মিলবে।ফলে পর্যটকেরা শুধু পছন্দের জিনিস কেনার সুযোগই পাবেন না, উত্তরবঙ্গের বৈচিত্র্যময় লোকসংস্কৃতি সম্পর্কেও জানতে পারবেন।
প্রায় ৩০টি স্টলে কী কী থাকছে?
প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০টি স্টল নিয়ে শুরু হয়েছে এই হাট। সেখানে রয়েছে—
হাতে তৈরি গয়না
রঙিন শাড়ি
শাল ও চাদর
স্থানীয় নুনিয়া চাল
মধু
বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য
গ্রামীণ সামগ্রী
কাঠের তৈরি নানা জিনিস
কাঠের বন্যপ্রাণীর মডেল
স্থানীয় হস্তশিল্প
জঙ্গল এলাকার মানুষের তৈরি সামগ্রীও এখানে জায়গা পেয়েছে। ফলে পর্যটকেরা ডুয়ার্সের স্থানীয় শিল্প ও কারুশিল্পের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
বোরোলির চচ্চড়ি থেকে পিঠে-পায়েস, খাবারের মেনুতেও চমক
শুধু শাড়ি, গয়না বা হস্তশিল্প নয়, ডুয়ার্সের নিজস্ব স্বাদও মিলবে এই হাটে। স্থানীয় মহিলাদের তৈরি পিঠে-পায়েস থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাছের পদ থাকছে খাবারের তালিকায়।বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে তোর্সা ও তিস্তা নদীর বোরোলি মাছের বিভিন্ন পদ। অর্থাৎ জঙ্গল ঘোরার পাশাপাশি ডুয়ার্সের স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও থাকছে পর্যটকদের।
স্থানীয় মহিলাদের স্বনির্ভর করার উদ্যোগ
এই হাটের সঙ্গে পর্যটন ছাড়াও স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। এলাকার মহিলাদের হাতে তৈরি সামগ্রী এবং স্থানীয় পণ্য সরাসরি পর্যটকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের আয় ও স্বনির্ভরতার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হাট পর্যটকদের স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ এবং মহিলাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
আগামী দিনে আরও বড় হবে হাট?
বর্তমানে প্রায় ৩০টি স্টল দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও আগামী দিনে এই হাটকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকও ভবিষ্যতে হাটটির উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।ফলে আগামী দিনে ‘ডুয়ার্সের সোনাঝুরি’ আরও বড় পরিসরে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
পুজোয় ডুয়ার্স গেলে কোথায় কী দেখবেন?
পুজোর ছুটিতে ডুয়ার্সে বেড়াতে গেলে সাধারণত পর্যটকদের মূল আকর্ষণ থাকে জঙ্গল সাফারি, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হল স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের এই নতুন অভিজ্ঞতা।শালগাছের ছায়ায় ঘুরে স্থানীয় হস্তশিল্প দেখা, পছন্দের শাড়ি বা গয়না কেনা এবং বোরোলির পদ বা পিঠে-পায়েসের স্বাদ নেওয়া—ডুয়ার্স ভ্রমণের তালিকায় নতুন সংযোজন হতে পারে এই হাট।
পুজোর মরশুমে ডুয়ার্সে পর্যটকদের জন্য যুক্ত হল নতুন আকর্ষণ। শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের আদলে জলদাপাড়ায় শুরু হয়েছে ‘জঙ্গলের হাট’। প্রায় ৩০টি স্টলে মিলছে উত্তরবঙ্গের স্থানীয় পোশাক, হাতে তৈরি গয়না, কাঠের সামগ্রী, কৃষিজ পণ্য, মধু এবং নানা স্থানীয় খাবার। বোরোলি মাছের পদ থেকে পিঠে-পায়েস—ডুয়ার্সের স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পর্যটকদের পরিচয় করানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।








