Kachki Fish Cleaning Tips: কুচি সাইজের কাচকি মাছ বাছতে আর ল্যাজে-গোবরে নয়! এই সহজ কৌশলে মিনিটেই পরিষ্কার হবে কেজি-কেজি মাছ

কাচকি মাছ ছোট হওয়ায় পরিষ্কার করতে সমস্যা হয়? বড় পাত্রে জল, চাল ধোয়া জল, নুন-লেবু ও সবজি ধোয়ার ঝুড়ি ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত কাচকি মাছ পরিষ্কার করবেন, জেনে নিন।

কাচকি মাছের স্বাদ নিয়ে বাঙালির আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। কুড়মুড়ে কাচকি ভাজা হোক কিংবা মুসুর ডালে কাচকির ঝোল—পাতে পড়লেই ভাত শেষ হতে বেশি সময় লাগে না। কিন্তু এই মাছ কিনে আনার পর পরিষ্কার করাটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় ঝামেলা। ছোট আকারের কারণে প্রতিটি মাছ আলাদা করে বাছতে গেলে অনেক সময় চলে যায়। তাই একসঙ্গে কেজি-কেজি কাচকি দ্রুত পরিষ্কার করতে জেনে নিন কয়েকটি ঘরোয়া উপায়।

একসঙ্গে অনেক মাছ পরিষ্কার করবেন কীভাবে?

কাচকি মাছ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রথমেই একটি বড় পাত্র নিন। তাতে জল দিয়ে সব মাছ একসঙ্গে রাখুন। এরপর হাত দিয়ে খুব হালকা করে নাড়াচাড়া করুন। চাল বা ডাল পরিষ্কার করার সময় যেমন ময়লা আলাদা করা হয়, অনেকটা সেই পদ্ধতিতেই মাছের সঙ্গে থাকা ছোট শামুকের টুকরো, ঘাস-পাতা বা অন্যান্য আবর্জনা আলাদা হয়ে যাবে।জোরে ঘষাঘষি করার প্রয়োজন নেই। কাচকি মাছ অত্যন্ত ছোট ও নরম হওয়ায় বেশি চাপ দিলে মাছ ভেঙে যেতে পারে।

জল বারবার বদলালেই বেরিয়ে যাবে বালি-ময়লা

প্রথমবার ধোয়ার পর পাত্রের জল ফেলে দিন। অনেক সময় পাত্রের তলায় বালি বা সূক্ষ্ম ময়লা জমে থাকতে দেখা যায়। মাছগুলো অন্য পাত্রে তুলে নিয়ে নতুন জল দিন।এভাবে পরিষ্কার জল দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী ৪-৫ বার জল বদলে মাছ ধুতে পারেন। প্রতিবার ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গে ময়লা ও বালির পরিমাণ কমতে থাকবে। শেষে পরিষ্কার জলে মাছ ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

হাত দিয়েই করা যায় কাচকির প্রাথমিক পরিষ্কার

কাচকি মাছের ক্ষেত্রে সাধারণত বঁটি বা ছুরি দিয়ে কাটার প্রয়োজন হয় না। হাতে ধরে মাছের পেটের অংশে খুব হালকা চাপ দিলে ভিতরের ময়লা বের করে দেওয়া যায়।প্রয়োজনে লেজও হাত দিয়ে আলাদা করা যায়। তবে মাছ ছোট ও নরম হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। এতে মাছের দেহ ছিঁড়ে যেতে পারে।

চাল ধোয়া জলের ব্যবহার করতে পারেন

কাচকি মাছ পরিষ্কারের আরও একটি ঘরোয়া পদ্ধতি হল চাল ধোয়া জল। চাল ধোয়া জলে মাছ প্রায় ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে পারেন।এরপর অন্তত দু'বার জল পরিবর্তন করে মাছ ধুয়ে নিলে মাছের গায়ে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সুবিধা হতে পারে। তবে মাছ ভিজিয়ে রাখার পর রান্নার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

নুন ও লেবুর রসে কমতে পারে আঁশটে ভাব

মাছ পরিষ্কার করার আগে অল্প পরিমাণ নুন ও লেবুর রস দিয়ে কাচকি মাছ হালকা করে মাখিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দেওয়া যায়। এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।এই পদ্ধতিতে মাছের পিচ্ছিল ভাব ও আঁশটে গন্ধ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে কাচকি অত্যন্ত নরম মাছ হওয়ায় নুন-লেবু মাখানোর সময় বা পরে জোরে ঘষা ঠিক নয়।

সবজি ধোয়ার ঝুড়িও হতে পারে কাজে

কাচকি মাছ একসঙ্গে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে ছিদ্রযুক্ত সবজি ধোয়ার ঝুড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঝুড়ির মধ্যে মাছ নিয়ে পরিষ্কার জলের নীচে হালকা হাতে নাড়াচাড়া বা ঘষে নিন।ঝুড়ির ছিদ্র দিয়ে জল বেরিয়ে যাওয়ার সময় মাছের সঙ্গে থাকা ময়লা আলাদা হতে সাহায্য করবে। তবে মাছ যাতে ছিঁড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কাচকি মাছ পরিষ্কারের সময় যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন

ছোট মাছ পরিষ্কার করার সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।

মাছ খুব জোরে ঘষবেন না।

প্রথম ধোয়ার পর পাত্রের তলায় বালি জমেছে কি না দেখে নিন।

পরিষ্কার পানিতে কয়েকবার মাছ ধুয়ে নিন।

চাল ধোয়া জল বা নুন-লেবুর মতো ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করলেও শেষে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

পরিষ্কার করার পর দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে না রেখে দ্রুত রান্না করুন বা উপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করুন।

কাচকি মাছ আকারে ছোট হওয়ায় একে একে বাছা ও পরিষ্কার করা বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললে একসঙ্গে অনেকটা কাচকি মাছ দ্রুত পরিষ্কার করা সম্ভব। বড় পাত্রে জল দিয়ে ধোয়া, চাল ধোয়া জলে ভিজিয়ে রাখা, নুন-লেবুর রস ব্যবহার কিংবা ছিদ্রযুক্ত সবজি ধোয়ার ঝুড়ির সাহায্য নেওয়ার মতো কয়েকটি পদ্ধতিতে কাচকি মাছের ময়লা, বালি ও আঁশটে ভাব অনেকটাই কমানো যায়।

Leave a comment