General Knowledge: গোল গোল লাল, দামে ৪০০ টাকা কেজি! একটুতেই মুখে আগুন, পাহাড়ের এই লঙ্কা চিনতে পারছেন?

কালিম্পংয়ের জনপ্রিয় ডাল্লে খুরসানি বা ডলো লঙ্কা কী? প্রায় ৪০০ টাকা কেজি দরের এই গোল লাল পাহাড়ি লঙ্কার ঝাল, ব্যবহার ও আচার তৈরির পদ্ধতি জেনে নিন।

পাহাড়ের বাজারে গেলেই চোখে পড়বে নানা রকম টাটকা শাকসবজি। কিন্তু সবুজের ভিড়ে যদি হঠাৎ চেরির মতো দেখতে টুকটুকে লাল গোল গোল লঙ্কা নজরে আসে, তাহলে সেটি হতে পারে কালিম্পংয়ের জনপ্রিয় ডাল্লে খুরসানি। আকারে ছোট হলেও ঝালের তীব্রতায় বেশ পরিচিত এই পাহাড়ি লঙ্কা। মোমোর গরম স্যুপ থেকে ভাতের সঙ্গে নানা পদ—বিভিন্ন খাবারে ঝাঁজ বাড়াতে এর ব্যবহার রয়েছে।

গোলগাল লাল লঙ্কাটির নাম কী?

কালিম্পংয়ের বাজারে স্থানীয়ভাবে এই লঙ্কাকে ডলো লঙ্কা বা ডাল্লে খুরসানি বলা হয়। উজ্জ্বল লাল রঙ এবং গোলগাল আকৃতির কারণে দূর থেকেই এটি আলাদা করে নজরে পড়ে।

অনেক জায়গায় এটি ‘ফায়ারবল চিলি’ নামেও পরিচিত। আকারে ছোট হলেও ঝালের তীব্রতার জন্য এই লঙ্কার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

৪০০ টাকা কেজি, তবুও চাহিদায় ভাটা নেই

বর্তমানে কালিম্পংয়ের বিভিন্ন বাজারে প্রায় ৪০০ টাকা কেজি দরে ডাল্লে খুরসানি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য সাধারণ কাঁচা লঙ্কার তুলনায় দাম বেশি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহ কমেনি।পাহাড়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বেড়াতে আসা পর্যটকরাও এই লাল লঙ্কা কিনে সমতলে নিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ি বাজারের টাটকা সবজির সঙ্গে পর্যটকদের কেনাকাটার তালিকাতেও জায়গা করে নিচ্ছে ডাল্লে খুরসানি।পাহাড়ি খাবারে ঝাল ও ঝাঁজ বাড়াতে ডাল্লে খুরসানির ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে গরম মোমোর স্যুপে এই লঙ্কা দিলে স্বাদে আলাদা ঝাঁজ আসেএছাড়া ভাতের সঙ্গে বিভিন্ন তরকারি বা স্থানীয় খাবারেও কাঁচা লঙ্কাটি ব্যবহার করা হয়। অল্প পরিমাণেই খাবারে তীব্র ঝালের স্বাদ যোগ করতে পারে এই ছোট্ট লঙ্কা।

কাঁচা লঙ্কার পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে আচার-চাটনিও

বাজারে শুধু টাটকা ডাল্লে খুরসানি নয়, এই লঙ্কা দিয়ে তৈরি আচার ও চাটনিও পাওয়া যাচ্ছে। ঝালপ্রেমীদের কাছে এগুলিরও যথেষ্ট আকর্ষণ রয়েছে।অনেকে আবার বাজার থেকে কাঁচা লঙ্কা কিনে বাড়িতেই আচার তৈরি করেন। প্রতিবেদনে দেওয়া ঘরোয়া পদ্ধতিতে ২৫০ গ্রাম ডালো লঙ্কার সঙ্গে সর্ষের তেল, পাঁচফোড়ন গুঁড়ো, সর্ষে গুঁড়ো, হলুদ, নুন ও ভিনেগার মিশিয়ে রোদে রেখে আচার তৈরির কথা বলা হয়েছে।তবে ঘরে আচার বানানোর ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং শুকনো, পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করা জরুরি।

পাহাড়ি খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে এই লঙ্কা

ডাল্লে খুরসানি শুধু ঝাল বাড়ানোর উপকরণ হিসেবেই পরিচিত নয়। কালিম্পং ও পাহাড়ি এলাকার খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গেও এর যোগ রয়েছে।মেঘ-কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি পরিবেশে স্থানীয় বাজারে এই লাল লঙ্কার উপস্থিতি এখন পর্যটকদের কাছেও আলাদা আকর্ষণ তৈরি করছে। ফলে রান্নাঘরের উপকরণ হওয়ার পাশাপাশি এটি পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয় খাবার ও বাজার সংস্কৃতিরও একটি পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছে।

পর্যটকদের ব্যাগেও যাচ্ছে পাহাড়ের এই লাল লঙ্কা

কালিম্পংয়ে বেড়াতে এসে অনেক পর্যটক স্থানীয় শাকসবজি ও বিশেষ খাবারের উপকরণ কিনে নিয়ে যান। সেই তালিকায় ডাল্লে খুরসানিও জায়গা করে নিয়েছে।টকটকে লাল রং, গোল আকৃতি এবং তীব্র ঝালের কারণে দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই পাহাড়ি খাবারের স্মৃতিও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে এই লঙ্কা।

কালিম্পংয়ের পাহাড়ি বাজারে এখন নজর কাড়ছে টকটকে লাল, গোলগাল এক বিশেষ লঙ্কা। স্থানীয়ভাবে ‘ডলো লঙ্কা’ বা ‘ডাল্লে খুরসানি’ নামে পরিচিত এই লঙ্কার ঝাল বেশ তীব্র। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে এর দাম প্রায় ৪০০ টাকা কেজি। কাঁচা লঙ্কার পাশাপাশি এর আচার ও চাটনিরও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

Leave a comment