গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো আমের স্বাদে মজে থাকা। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের কাছে এই ফল নিয়ে দ্বিধা বরাবরই রয়েছে। কারণ আমে প্রাকৃতিক শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। ফলে অনেকেই মনে করেন, ডায়াবেটিস থাকলে আম সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সঠিক নিয়ম মেনে খেলে ডায়াবেটিস রোগীরাও আমের স্বাদ উপভোগ করতে পারেন।
ডায়াবেটিস রোগীরা কি আম খেতে পারবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেই আম খাওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়।যদি কোনও ব্যক্তির রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং নিয়মিত ওষুধ বা চিকিৎসার মাধ্যমে সুগার ম্যানেজ করা যায়, তাহলে সীমিত পরিমাণে আম খাওয়া নিরাপদ হতেপারে। তবে প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা আলাদা হওয়ায় পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দিনে কতটা আম খাওয়া নিরাপদ?
পুষ্টিবিদদের মতে, বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগীর জন্য দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম আম খাওয়া নিরাপদ বলে ধরা হয়।
এটি সাধারণত একটি মাঝারি আকারের আমের সমান হতে পারে। তবে কারও ব্লাড সুগার বেশি থাকলে বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা থাকলে এই পরিমাণ আরও কমানো প্রয়োজন হতে পারে।
কোন অবস্থায় আম এড়িয়ে চলা উচিত?
যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত ওঠানামা করে বা নিয়ন্ত্রণে নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে আম খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে আম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
অনিয়ন্ত্রিত টাইপ-২ ডায়াবেটিস
বারবার হাই ব্লাড সুগারের সমস্যা
সাম্প্রতিক সময়ে HbA1c বেশি থাকা
ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা দেখা দেওয়া
আম খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি?
শুধু পরিমাণ নয়, আম খাওয়ার সময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস রোগীদের কখনও খালি পেটে আম খাওয়া উচিত নয়। খালি পেটে আম খেলে শরীরে দ্রুত শর্করা শোষিত হতে পারে, যার ফলে হঠাৎ ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রধান খাবারের পরে অল্প পরিমাণ আম খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ।
আমের রস না আস্ত আম— কোনটি ভালো?
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আমের রসের তুলনায় আস্ত আম অনেক বেশি উপকারী।
কারণ ফলের রস তৈরির সময় ফাইবারের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শরীরে শর্করা দ্রুত প্রবেশ করে। অন্যদিকে ছোট ছোট টুকরো করে আম খেলে ফাইবার বজায় থাকে এবং শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হয়।
কীভাবে খেলে কমবে ব্লাড সুগার বাড়ার ঝুঁকি?
পুষ্টিবিদরা আমের সঙ্গে প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
যেমন—
টক দই
কাঠবাদাম
আখরোট
চিয়া সিড
অল্প পরিমাণ ভাজা ছোলা
এসব খাবার শর্করার শোষণ ধীর করে এবং রক্তে গ্লুকোজের হঠাৎ বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত পাকা আম কেন এড়িয়ে চলবেন?
অতিরিক্ত পাকা আমে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ব্লাড সুগার দ্রুত বাড়তে পারে।
তাই খুব বেশি নরম বা অতিরিক্ত মিষ্টি আমের পরিবর্তে মাঝারি পাকা আম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্লাড সুগার মনিটরিং কেন জরুরি?
আম খাওয়ার পর শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া করছে, তা বোঝার জন্য নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কারণ একই পরিমাণ আম একজনের ক্ষেত্রে নিরাপদ হলেও অন্যজনের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
আমের মৌসুমে ডায়াবেটিস রোগীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— আম খেলে কি রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে? পুষ্টিবিদদের মতে, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলে পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া যায়। তবে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে সতর্কতা জরুরি। সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে আম খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।








