হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রের ধ্বনি, করতাল আর মৃদঙ্গের তালে ভোর থেকেই ভক্তিময় আবহ। গৌরপূর্ণিমা উপলক্ষে চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি ঘিরে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নবদ্বীপ মণ্ডল পরিক্রমা। দেশ-বিদেশ থেকে আগত হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে মায়াপুর ও নবদ্বীপ জুড়ে এখন উৎসবের আবহ।
গৌরপূর্ণিমায় আধ্যাত্মিক সূচনা
গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব গৌরপূর্ণিমা। এদিনই জন্মগ্রহণ করেন Chaitanya Mahaprabhu। তাঁর ৫৪০তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে সাতদিনের পরিক্রমা। ভোর থেকেই মায়াপুর প্রাঙ্গণে জমেছে ভক্তদের ঢল।
হরিনামে মুখরিত মায়াপুর
ISKCON মায়াপুর চত্বরে হাজারো কণ্ঠে ‘হরেকৃষ্ণ’ মহামন্ত্র ধ্বনিতে সূচনা হয় এই আধ্যাত্মিক যাত্রার। করতাল, মৃদঙ্গ ও শঙ্খধ্বনিতে এক অনন্য ভক্তিমূলক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কীর্তনের সুরে মুখর হয়ে ওঠে গোটা Mayapur।
দেশ-বিদেশের ভক্তদের সমাগম
ইসকন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার ভক্ত অংশ নিয়েছেন এবারের পরিক্রমায়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পুরো পরিক্রমাকে সাতটি দলে ভাগ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও প্রসাদের বিশেষ ব্যবস্থা
প্রতিটি দলে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভক্তের সঙ্গে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তারক্ষী। নির্দিষ্ট বিরতি স্থানে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে।
লীলাস্থান পরিভ্রমণে সাতদিন
আগামী সাত দিন ধরে ভক্তরা নবদ্বীপের বিভিন্ন লীলাস্থান পরিভ্রমণ করবেন। শাস্ত্র পাঠ, নামসংকীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা চলবে প্রতিদিন। পরিক্রমার মূল লক্ষ্য ভক্তদের আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করা এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রচার করা।
উৎসবের আবহ নবদ্বীপ জুড়ে
প্রতি বছরের মতো এবছরও পরিক্রমাকে কেন্দ্র করে নবদ্বীপ ও মায়াপুর এলাকায় উৎসবের রঙ লেগেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি, পর্যটন শিল্পেও পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব। ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
গৌরপূর্ণিমা ও Chaitanya Mahaprabhu-র ৫৪০তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে শুরু হলো সাতদিনব্যাপী নবদ্বীপ মণ্ডল পরিক্রমা। ISKCON-এর উদ্যোগে Mayapur থেকে হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে আধ্যাত্মিক যাত্রায় মুখরিত গোটা এলাকা।













