মাইক্রোসফট QR কোড ফিশিং স্ক্যাম নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। ভুয়া ইমেল এবং জাল লগইন পেজের মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীদের লগইন তথ্য ও সংবেদনশীল ডেটা চুরি করার চেষ্টা করছে।
মাইক্রোসফটের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলাকারীরা পেশাদার মানের ভুয়া ইমেল এবং PDF ফাইল ব্যবহার করে QR কোডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জাল লগইন পেজে পাঠাচ্ছে। এই ধরনের স্ক্যামের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড, অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, সাইবার অপরাধীরা ইমেলের মধ্যে QR কোড পাঠিয়ে ব্যবহারকারীদের প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটে নিয়ে যাচ্ছে। এই ইমেলগুলো অনেক সময় HR বিভাগ, IT সাপোর্ট বা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের অফিসিয়াল বার্তার মতো দেখায়।
ইমেলগুলোতে অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়া, সিকিউরিটি আপডেট বা বাধ্যতামূলক কমপ্লায়েন্সের মতো বিষয় উল্লেখ করে ব্যবহারকারীদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চাপ দেওয়া হয়। ব্যবহারকারী QR কোড স্ক্যান করলেই তাকে একটি ভুয়া লগইন পেজে পাঠানো হয়, যেখানে তার লগইন তথ্য চুরি হতে পারে।
মাইক্রোসফটের নিরাপত্তা গবেষকদের মতে, এ ধরনের স্ক্যামে এখন পর্যন্ত ১৩,০০০ কোম্পানির ৩৫,০০০-এর বেশি ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করা হয়েছে। হামলাকারীরা শুধু পাসওয়ার্ড নয়, সেশন টোকেন এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্যও সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
কোম্পিটি জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু থাকা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টে প্রবেশের আশঙ্কা দেখা গেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, QR কোড সাধারণত নিরাপদ বলে মনে হওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী যাচাই না করেই এগুলো স্ক্যান করছেন, যার ফলে এই ধরনের স্ক্যাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের অজানা ইমেল বা বার্তায় পাওয়া QR কোড স্ক্যান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। কোনও লিঙ্ক বা লগইন পেজে যাওয়ার আগে প্রেরকের পরিচয় যাচাই করার পাশাপাশি তাড়াহুড়ো বা ভয় তৈরি করার উদ্দেশ্যে পাঠানো ইমেল সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ফোন এবং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট রাখার এবং সব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন।
যদি কোনও সন্দেহজনক QR কোড স্ক্যান হয়ে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং অ্যাকাউন্ট কার্যকলাপ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ডিভাইসকে ফ্যাক্টরি রিসেট করাও নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।









