পাহাড়ে ঘোরার ইচ্ছে রয়েছে, কিন্তু হাতে সময় কম? আবার দূরের পাহাড়ে যেতে খরচও করতে চাইছেন না? তাহলে আপনার জন্য হতে পারে সাধু পাহাড়। বীরভূমের একেবারে কাছেই ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার কারিপাড়ায় অবস্থিত এই অফবিট পাহাড়ি এলাকা। সাঁইথিয়া থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সপ্তাহান্তে বাইক বা গাড়ি নিয়ে সহজেই ঘুরে আসা যায়। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের সবুজ দৃশ্য, শীতের কুয়াশা এবং ঠান্ডা হাওয়া মিলিয়ে এখানে পাওয়া যায় অন্যরকম পাহাড়ি অনুভূতি।
কেন ‘মিনি দার্জিলিং’ নামে পরিচিত সাধু পাহাড়?
সাধু পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণ হল এর পাহাড়ের চূড়ার দৃশ্য। হিলটপে উঠে চারদিকে তাকালে চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ। পাহাড়ি হাওয়া ও নিরিবিলি পরিবেশ শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কয়েক ঘণ্টার জন্য মনকে সতেজ করে দিতে পারে।এই পাহাড়ি পরিবেশের জন্যই স্থানীয় পর্যটকদের মধ্যে জায়গাটি ‘মিনি দার্জিলিং’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। অবশ্য এটি দার্জিলিংয়ের বিকল্প নয়, বরং কম সময়ে কাছাকাছি পাহাড়ি আবহ উপভোগ করার একটি অফবিট গন্তব্য।
বর্ষায় মেঘ-বৃষ্টি, শীতে কুয়াশা-ঠান্ডা
ঋতু বদলের সঙ্গে সাধু পাহাড়ের সৌন্দর্যও বদলে যায়। বর্ষাকালে হালকা বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং সবুজে ভরা পাহাড়ি পরিবেশ জায়গাটিকে অন্যরকম করে তোলে।তবে শীতকালে এই এলাকার আবহাওয়া আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঠান্ডার দাপট থাকে। পাহাড়ি হাওয়া, কুয়াশা এবং শীতের পরিবেশ অনেকটা উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকার কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।
দার্জিলিংয়ের তুলনায় খরচ কম
উইকেন্ডে অল্প বাজেটে কোথাও ঘুরতে যেতে চাইলে সাধু পাহাড়কে তালিকায় রাখা যেতে পারে। দূরের পাহাড়ে যাওয়ার মতো দীর্ঘ যাত্রা বা অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন নেই। যাতায়াতের দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় একদিনের ছোট ট্রিপ হিসেবেও পরিকল্পনা করা যায়।বিশেষ করে বীরভূমের সাঁইথিয়া বা রামপুরহাটের আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য এটি সহজে পৌঁছনো একটি অফবিট ডেস্টিনেশন।
কীভাবে যাবেন সাধু পাহাড়?
সাঁইথিয়া কিংবা রামপুরহাট থেকে বাইক বা চারচাকা গাড়িতে সাধু পাহাড়ের দিকে যাওয়া যায়। সাঁইথিয়া থেকে জায়গাটির দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার।যাত্রাপথে মল্লারপুর অম্বা মোড় থেকে বাঁদিকে যেতে হবে। এরপর মল্লারপুর রেলগেট পার করে রাস্তার সাইনবোর্ড অনুসরণ করতে হবে। গুগল ম্যাপ ব্যবহার করেও গন্তব্যে পৌঁছনো সম্ভব।
উইকেন্ডে ছোট্ট পাহাড়ি বিরতি
দীর্ঘ ছুটির প্রয়োজন নেই। হাতে একটি সপ্তাহান্ত থাকলেই কাছেপিঠে পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করার পরিকল্পনা করা যায়। প্রকৃতি, নিরিবিলি পরিবেশ এবং শীতের কুয়াশার মেজাজ—সব মিলিয়ে সাধু পাহাড় হতে পারে বীরভূম ও সংলগ্ন এলাকার পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় অফবিট গন্তব্য।
দার্জিলিং বা সিকিম যাওয়ার সময় কিংবা বাজেট না থাকলে উইকেন্ডে ঘুরে আসতে পারেন বীরভূমের কাছের ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার সাধু পাহাড়ে। পাহাড়ি পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, কুয়াশা ও ঠান্ডার আমেজে জায়গাটি পর্যটকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে ‘মিনি দার্জিলিং’ নামে।












