प्रधानমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদলের সংসদে সাক্ষাতের পর পাঞ্জাবের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সাক্ষাৎকে বিজেপি ও শিরোমণি অকালি দলের সম্ভাব্য জোটের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে দুই দলের পক্ষ থেকে কোনও নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
শিরোমণি অকালি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাক্ষাতের সময় পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি এবং রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দলের দাবি, রাজ্যের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
সাক্ষাতের পর রাজনৈতিক মহলে বিজেপি ও অকালি দলের মধ্যে সম্ভাব্য জোট নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। তবে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে দুই দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ঘোষণা করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সুখবীর সিং বাদলের সাক্ষাতের পর আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি ও অকালি দল কি আবার জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিজের পোস্টে কেজরিওয়াল দুই দলকে নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করেন এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রতিক্রিয়ার পর পাঞ্জাবের রাজনীতিতে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। তবে কেজরিওয়ালের বক্তব্যের বিষয়ে বিজেপি ও শিরোমণি অকালি দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বিজেপি ও শিরোমণি অকালি দল প্রায় ২৫ বছর পাঞ্জাবে সহযোগী দল হিসেবে ছিল। ২০২০ সালে কৃষি আইন এবং কৃষক আন্দোলনের সময় অকালি দল জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর দুই দল বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচন পৃথকভাবে লড়ে।
গত কয়েক সময় ধরে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন সময়ে দুই দলের ফের একসঙ্গে আসার আলোচনা হয়েছে। তবে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একাধিকবার জানিয়েছে, দল পাঞ্জাবে নিজেদের শক্তিতে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, অকালি দলও প্রকাশ্যে জোটের সম্ভাবনা অস্বীকার করে এসেছে।
পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে এখনও সময় রয়েছে। তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই নিজেদের কৌশল নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সুখবীর সিং বাদলের সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা বেড়েছে।
এই মুহূর্তে সাক্ষাতের ভিত্তিতে কোনও নতুন জোট বা নির্বাচনী সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। ফলে আগামী দিনে দুই দলের রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।









