ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত ৫২তম জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্যপথের স্থিতিশীলতা, পশ্চিম এশিয়া সংকট এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জি৭ সম্মেলনের সময় একাধিক প্রকাশ্য বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে “শান্ত, কুল এবং শক্তিশালী নেতা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যতদিন তিনি প্রেসিডেন্ট থাকবেন, ততদিন হোয়াইট হাউসে ভারতের একজন দৃঢ় বন্ধু থাকবে। ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত বা প্রধানমন্ত্রী মোদির ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে তাঁর কাজের ধরণ মোদির থেকে আলাদা হলেও উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
জি৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বৈশ্বিক দায়িত্ব।
মোদি জানান, এই অঞ্চলে বহু ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়া সংকটের কারণে জ্বালানি, খাদ্য এবং সার সরবরাহ শৃঙ্খল গভীরভাবে প্রভাবিত হচ্ছে এবং এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বেশি পড়ছে।
জি৭ সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনা এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, এই সংকটের ফলে জ্বালানি, খাদ্য ও সার সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর ওপর পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দুর্বল দেশগুলোর ওপর সংকটের বোঝা এককভাবে চাপিয়ে না দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তা যৌথভাবে বহন করা। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধই এ ধরনের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার উপায়।
জি৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী চুক্তিকে স্বাগত জানান। তারা এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। চুক্তি বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশংসিত হয়।
জি৭ নেতাদের মতে, এই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত রাখতে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এর বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভর করবে।
জি৭ সম্মেলনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি একাধিক বৈশ্বিক নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনের সঙ্গে বৈঠক উল্লেখযোগ্য।
এই বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, সার্কুলার অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়।
এছাড়া মোদি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। আলোচনায় শিল্পোন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং সবুজ জ্বালানি বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
জি৭ সম্মেলনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি বস”, যার পর অন্যান্য নেতাদের হাসতে দেখা যায়। এ ধরনের মন্তব্যের মধ্যেও সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সংকট।
ট্রাম্প পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনের ইরান নীতির সমালোচনা করে বলেন, আগের চুক্তিগুলো ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অনুকূলে ছিল না।








