অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট

মধ্যপ্রদেশ হাইরি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে। বিজেপি নেতা আকাশ বিজয়বর্গীয়ের দায়ের করা মানহানির মামলায় আদালত আবেদন খারিজ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চালানোর পথ উন্মুক্ত করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট থেকে স্বস্তি পাননি। আদালত ভোপালের বিশেষ আদালত কর্তৃক জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে। বিজেপি নেতা আকাশ বিজয়বর্গীয় দায়ের করা মানহানির মামলায় এই রায় দেওয়া হয়েছে, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের একক বেঞ্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন খারিজ করে তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ তুলে দেয়। বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের বেঞ্চ জানিয়েছে, পরোয়ানার কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনও বিচারিক স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে না। আদালতের এই নির্দেশের ফলে মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে এই অন্তর্বর্তী স্বস্তি কার্যকর থাকায় বিশেষ আদালতের জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। হাই কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট আদালত এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবে।

মামলাটি ২০২১ সালে দায়ের হওয়া একটি মানহানির অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগকারী আকাশ বিজয়বর্গীয়, যিনি প্রবীণ বিজেপি নেতা এবং বর্তমান মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের পুত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আকাশ বিজয়বর্গীয়কে উদ্দেশ করে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।

ওই মন্তব্যকে ভিত্তি করে ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। শুনানির সময় আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর বিরুদ্ধে তিনি হাই কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানান। আবেদন দায়েরের পর পরোয়ানার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি হয়েছিল।

মামলার সর্বশেষ শুনানির সময় আদালত আবেদনকারী পক্ষের অনুপস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুনানির সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধ নথিপত্রের ভিত্তিতে শুনানি এগিয়ে নিয়ে রায় প্রদান করে।

হাই কোর্টের এই স্বস্তি প্রত্যাহারের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে সীমিত আইনি বিকল্প রয়েছে। তিনি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর বিচারিক মঞ্চে আবেদন করতে পারেন অথবা সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন। আদালতের নির্দেশের ফলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর থাকা স্থগিতাদেশ এখন আর কার্যকর নেই এবং মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে রাজনৈতিক ও আইনি মহলের নজর রয়েছে।

 

Leave a comment