ঝাড়খণ্ডের দুই ও মিজোরামের এক রাজ্যসভা আসনে আজ ভোটগ্রহণ

চ্ছে। ঝাড়খণ্ডে বৈদ্যনাথ রাম, প্রণব ঝা ও বিজেপি-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, আর মিজোরামে জেডপিএম ও এমএনএফ মুখোমুখি হয়েছে। বিজেপি ও কংগ্রেস মিজোরামে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঝাড়খণ্ড ও মিজোরামের তিনটি রাজ্যসভা আসনের জন্য বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঝাড়খণ্ডের দুটি এবং মিজোরামের একটি আসনে হওয়া এই নির্বাচন স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি শাসক ও বিরোধী দলগুলির কৌশলেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঝাড়খণ্ডে একটি আসনে শাসক জোটের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হলেও দ্বিতীয় আসনটি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, মিজোরামে শাসক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্পষ্ট সুবিধা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

ঝাড়খণ্ডের দুটি রাজ্যসভা আসনের জন্য তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শাসক জোটের পক্ষ থেকে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (ঝামুমো) বৈদ্যনাথ রামকে প্রার্থী করেছে, আর কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রণব ঝাকে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানিও দ্বিতীয় আসনের জন্য লড়াই করছেন।

বর্তমান বিধানসভা সমীকরণ অনুযায়ী, ইন্ডিয়া জোটের কাছে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সেই কারণে ঝামুমো প্রার্থী বৈদ্যনাথ রামের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় আসনে কংগ্রেস প্রার্থী এবং বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় আসনের ফলাফল বিধায়কদের ঐক্য এবং সম্ভাব্য ক্রস ভোটিংয়ের উপর নির্ভর করতে পারে।

ক্রস ভোটিং রোধে রাজনৈতিক দলগুলি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। রাজ্যসভা নির্বাচনে গোপন ব্যালট না থাকলেও শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়াতে তাদের বিধায়কদের একত্রে রাখার চেষ্টা করছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) তাদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে রেখেছে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোট ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন বিধানসভা প্রাঙ্গণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিস্তৃত প্রস্তুতি নিয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের একমাত্র রাজ্যসভা আসনের জন্যও বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হচ্ছে। সেখানে শাসক জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (জেডপিএম) এবং প্রধান বিরোধী দল মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)-এর মধ্যে সরাসরি লড়াই হচ্ছে। জেডপিএম তাদের মুখপাত্র কে. লালতলুয়াংকিমাকে প্রার্থী করেছে, আর এমএনএফ প্রার্থী করেছে আইনজীবী ও লেখিকা জোথানসাঙ্গি হামারকে।

৪০ সদস্যের বিধানসভায় জেডপিএম-এর ২৭ জন বিধায়ক রয়েছে, যেখানে এমএনএফ-এর সদস্য সংখ্যা ১০। বিজেপির ২ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন বিধায়ক রয়েছেন।

মিজোরাম নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় দলই ভোটদান থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেস বিধায়ক সি. ন্গুনলিয়ানচুঙ্গা দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে ভোটগ্রহণে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা করেছেন। একইভাবে বিজেপিও তাদের দুই বিধায়ককে ভোটদান থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে জেডপিএম-এর অবস্থান আরও শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। মিজোরাম বিধানসভা সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ভোটগ্রহণ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এবং ভোটগণনা শুরু হবে বিকেল ৫টায়। ঝাড়খণ্ডেও ভোটগ্রহণ ও ভোটগণনার জন্য সমস্ত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

Leave a comment