মোতিলাল ওসওয়াল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বাজারে পতনের প্রেক্ষাপটে Lenskart Solutions Limited‑এর ওপর আনুষ্ঠানিক কভারেজ শুরু করেছে এবং শেয়ারটির জন্য BUY রেটিং নির্ধারণ করেছে। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানটি ₹600 টার্গেট প্রাইস নির্ধারণ করেছে এবং কোম্পানির ব্যবসায়িক মডেল ও প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে।
এশীয় বাজার থেকে মিশ্র সংকেতের মধ্যে সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে ভারতীয় শেয়ারবাজার নিম্নমুখীভাবে খোলে। আইটি খাতে দুর্বলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেন। এই পরিস্থিতিতেই চশমা উৎপাদন ও বিক্রয়কারী Lenskart Solutions Limited‑এর ওপর কভারেজ শুরু করে মোতিলাল ওসওয়াল।
ব্রোকারেজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির ব্যবসায়িক কাঠামোতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং সংগঠিত প্রতিযোগিতা বর্তমানে সীমিত, ফলে দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণের সুযোগ বিদ্যমান। এই কারণেই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক কভারেজ শুরু করা হয়েছে।
মোতিলাল ওসওয়াল শেয়ারটির জন্য BUY রেটিং প্রদান করে ₹600 টার্গেট নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমান স্তর থেকে প্রায় 25 শতাংশ সম্ভাব্য উর্ধ্বগতির ইঙ্গিত দেয়। বৃহস্পতিবার শেয়ারটি ₹481‑এ বন্ধ হয়েছিল। গত এক মাসে শেয়ারটির মূল্য প্রায় 14 শতাংশ বেড়েছে এবং তিন মাসে 17 শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শেয়ারটি এখনও 52 সপ্তাহের সর্বোচ্চ ₹533 স্তরের নিচে লেনদেন করছে, যেখানে 52 সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর ছিল ₹355.70। বিএসই‑তে কোম্পানির বাজার মূলধন প্রায় ₹84,921 কোটি।
ব্রোকারেজের মতে বর্তমান মূল্যস্তরে মূল্যায়ন আকর্ষণীয় এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতের চশমা বাজার এখনও পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছায়নি। দেশের প্রায় 53 শতাংশ মানুষের দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, কিন্তু প্রেসক্রিপশন চশমা ব্যবহারকারীর অনুপাত প্রায় 35 শতাংশ। এর ফলে উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা এখনও সংগঠিত বাজারের বাইরে রয়েছে।
এই ব্যবধান পূরণের লক্ষ্যে Lenskart দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। সংগঠিত রিটেলের অংশীদারিত্ব বাড়লে কোম্পানি সরাসরি সুবিধা পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রোকারেজ জানিয়েছে যে চাহিদা বিদ্যমান এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে আগামী বছরগুলোতে বাজারের আকার বৃদ্ধি পেতে পারে।
কোম্পানির প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিবেদনে এর সমন্বিত ব্যবসায়িক মডেলের উল্লেখ করা হয়েছে। উৎপাদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত একাধিক প্রক্রিয়া একই সিস্টেমে নিয়ন্ত্রিত হয়, এবং যন্ত্রচালিত উৎপাদন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কোম্পানি নিজস্বভাবে ফ্রেম ও লেন্স উৎপাদন করে, যা মার্জিন ব্যবস্থাপনায় সহায়ক এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য সরবরাহের সুযোগ দেয়।
দেশের 435 শহরে 2,439 স্টোর এবং বিদেশে 705 স্টোরের নেটওয়ার্ক কোম্পানির উপস্থিতি সম্প্রসারিত করেছে। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওমনি‑চ্যানেল কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে গ্রাহকরা অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই ক্রয় করতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানি প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার করছে। চোখ পরীক্ষা করার ডিজিটাল সিস্টেম এবং নতুন স্টোর দ্রুত চালু করার সক্ষমতা পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে। ব্রোকারেজের হিসাব অনুযায়ী প্রতিটি নতুন স্টোর প্রায় 10 মাসে নিজস্ব ব্যয় পুনরুদ্ধার করে, যা খুচরা ব্যবসার জন্য নির্দেশক। দ্রুত পেব্যাক সময়সীমা নগদ প্রবাহ বজায় রাখতে এবং সম্প্রসারণের গতি ধরে রাখতে সহায়তা করে।
কোম্পানি বিভিন্ন আয়স্তরের গ্রাহকদের লক্ষ্য করে পৃথক ব্র্যান্ড কৌশল গ্রহণ করেছে, যার ফলে সাধারণ থেকে প্রিমিয়াম সেগমেন্ট পর্যন্ত পণ্যের পরিসর রয়েছে। সাশ্রয়ী চশমা থেকে প্রিমিয়াম ডিজাইনার ফ্রেম পর্যন্ত এই বৈচিত্র্য গ্রাহকভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়ক বলে ব্রোকারেজ উল্লেখ করেছে।










