আজকাল মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করছেন অনেকেই। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই অন্যের পরামর্শে বা আগের রিটার্ন দেখে ফান্ড বেছে নেন। ফলাফল—কখনও ভালো লাভ, কখনও বড় হতাশা। আসলে সফল বিনিয়োগের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ Mutual Fund Ratio-র মধ্যে। এই রেশিওগুলো বুঝে নিলে বিনিয়োগ আর আন্দাজের খেলা থাকে না, হয়ে ওঠে হিসেবি সিদ্ধান্ত।

রিস্ক ও রিটার্নের আসল হিসেব
মিউচুয়াল ফান্ড মানেই ঝুঁকি ও রিটার্নের সমন্বয়। শুধু বেশি রিটার্ন দেখলে চলবে না, সেই রিটার্ন পেতে কতটা ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে—সেটাও বোঝা জরুরি। এখানেই রেশিওগুলোর গুরুত্ব।
শার্প রেশিও
এই রেশিও দেখায় ঝুঁকির তুলনায় ফান্ড কতটা ভালো রিটার্ন দিচ্ছে। শার্প রেশিও ১-এর উপরে হলে সেই ফান্ডকে সাধারণত ভালো বলে ধরা হয়।
সার্টিনো রেশিও
এটি মূলত ক্ষতির দিকটি বিশ্লেষণ করে। বাজার পড়লেও ফান্ড কতটা স্থিতিশীল ছিল, তার ধারণা দেয়। ২-এর উপরে সার্টিনো রেশিও মানে তুলনামূলক নিরাপদ ফান্ড।

বিটা রেশিও
ফান্ড বাজারের ওঠানামার সঙ্গে কতটা তাল মিলিয়ে চলে, তা বোঝায় বিটা।
বিটা = ১ → বাজারের মতোই ওঠানামা
বিটা < ১ → তুলনামূলক কম ঝুঁকি
স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন
ফান্ডের রিটার্ন কতটা স্থির বা অস্থির, তা জানায় এই রেশিও। ১৫–২০-এর মধ্যে থাকলে মাঝারি ঝুঁকির ফান্ড হিসেবে ধরা হয়।

আলফা রেশিও
ফান্ড ম্যানেজারের দক্ষতার আসল পরীক্ষা।
পজিটিভ আলফা → ম্যানেজার বেঞ্চমার্কের চেয়ে ভালো কাজ করছেন
নেগেটিভ আলফা → প্রত্যাশা পূরণ হয়নি
ইনফরমেশন রেশিও
ঝুঁকি সামলে ফান্ড বেঞ্চমার্ককে কতটা ধারাবাহিকভাবে হারাচ্ছে, সেটাই জানায়। ০.৫-এর উপরে হলে ফান্ডের উপর ভরসা রাখা যায়।
ট্রেনর রেশিও
প্রতি ইউনিট ঝুঁকির বদলে কতটা রিটার্ন মিলছে—এই হিসেবটাই ট্রেনর রেশিও দেয়। ঝুঁকি বনাম পুরস্কারের স্পষ্ট ছবি মেলে।
ফামা রেশিও
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ইউজিন ফামার তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে তৈরি। স্টকের রিটার্ন কোন কোন ফ্যাক্টরের জন্য হচ্ছে, তা বিশ্লেষণে এই রেশিও ব্যবহৃত হয়।

এক্সপেন্স রেশিও
ফান্ড চালাতে যে খরচ কাটা হয়, সেটাই এক্সপেন্স রেশিও। যত কম, তত বেশি লাভ—বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে।
আর-স্কোয়ার্ড রেশিও
ফান্ড তার বেঞ্চমার্ককে কতটা অনুসরণ করছে, তা বোঝায়। ৯০-এর উপরে থাকলে ফান্ডের পারফরম্যান্স খুবই নির্ভরযোগ্য ধরা হয়।

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে শুধু রিটার্ন দেখলেই হবে না, বুঝতে হবে ঝুঁকির অঙ্কও। শার্প, বিটা, আলফা থেকে শুরু করে এক্সপেন্স রেশিও—এই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ রেশিও জানলে সঠিক ফান্ড বাছাই অনেক সহজ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় সম্পদ গড়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।













