পর্দায় শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য পরিচিত নানা পাটেকরকে ঘিরে একটি খবর সামনে এসেছে, যা নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল। সেই রিপোর্টে হৃদ্রোগের উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই ধরনের সংবেদনশীল খবরের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের তথ্য যাচাই করা জরুরি। অভিনেতার মৃত্যু নিয়ে কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ রয়েছে—এমন তথ্য প্রদত্ত প্রতিবেদনে নেই।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গোয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের তৈরি চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ হিসেবে গুরুতর হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা CAD-এ আক্রান্ত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।তবে রিপোর্টের মূল নথি বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা না থাকায় এই তথ্যকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।
কী এই করোনারি আর্টারি ডিজিজ?
করোনারি আর্টারি ডিজিজ এমন একটি অবস্থা, যেখানে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিগুলি সরু হয়ে যেতে পারে। সাধারণত ধমনির দেওয়ালে চর্বি ও অন্যান্য পদার্থ জমে প্লাক তৈরি হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছনো বাধাগ্রস্ত হতে পারে।কখনও এই রোগের লক্ষণ আগে থেকে স্পষ্ট নাও হতে পারে। আবার বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অন্য উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তবে শুধু নিয়মিত শরীরচর্চা করা বা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর হয় না।
মৃত্যুর আগে বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন?
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবর রাতে নানা পাটেকর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমেয় নায়েককে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি অসুস্থ বোধ করার কথা জানান বলে দাবি করা হয়েছে।বন্ধুটি ভোরের দিকে সেই বার্তা দেখে অভিনেতার বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে করেতাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ CPR দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা নানা পাটেকরকে CPR দেন। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চেষ্টা চালানোর পরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।CPR বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন হল জরুরি পরিস্থিতিতে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকলাপ ও রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখার চেষ্টা। কারও অচেতন হয়ে যাওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে জরুরি পরিষেবায় যোগাযোগ করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ করা গুরুত্বপূর্ণ।
মৃত্যু ঘিরে ষড়যন্ত্রের কোনও প্রমাণ কি রয়েছে?
শিরোনামে মৃত্যুর স্বাভাবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, প্রদত্ত প্রতিবেদনে কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণের কথা বলা হয়নি। বরং ময়নাতদন্তের ফল এবং পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর কথা দাবি করা হয়েছে।তাই নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি বা পুলিশের নিশ্চিত বক্তব্য ছাড়া মৃত্যুকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। একইভাবে, মূল রিপোর্ট যাচাই না করে কোনও দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবেও ধরে নেওয়া উচিত নয়।
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, গোয়া মেডিকেল কলেজের ময়নাতদন্তে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে গুরুতর হৃদ্রোগের কথা উঠে এসেছে। সেখানে করোনারি আর্টারি ডিজিজেরও উল্লেখ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে অসুস্থ বোধ করে বন্ধুকে বার্তা পাঠানো থেকে শুরু করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া—অভিনেতার শেষ সময়ের কয়েকটি ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।









