সিনেমার পর্দায় কখনও সহ-অভিনেতা, আবার কখনও বাবা-মেয়ের সম্পর্ক—কিন্তু বাস্তব জীবনেও কি তৈরি হয়েছিল অন্য রকম এক সমীকরণ? নানা পাটেকর ও মনীষা কৈরালাকে ঘিরে বহু বছর ধরে এমনই চর্চা হয়েছে। দু’জনেই অভিনয়জগতে নিজেদের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। একসঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করার সুবাদে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়। বিচ্ছেদের পর মনীষাকে নিয়ে নানা পাটেকরের আবেগঘন মন্তব্যও আলোচনায় এসেছিল। সেই পুরনো অধ্যায়ের কোন কোন কথা উঠে এসেছিল সাক্ষাৎকারে?
‘অগ্নি সাক্ষী’ থেকে ‘খামোশি’—একসঙ্গে কাজের সূত্রপাত
নব্বইয়ের দশকে বলিউডের একাধিক ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর ও মনীষা কৈরালা। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অগ্নি সাক্ষী’ ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন নানা পাটেকর। ওই বছরই মুক্তি পায় সঞ্জয় লীলা বনশালীর পরিচালনায় ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’। এই ছবিতে মনীষার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নানা।পর্দায় বাবা-মেয়ের সম্পর্ক ফুটিয়ে তুললেও বাস্তব জীবনে তাঁদের ঘিরে অন্য রকম সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে দু’জনেই প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি।
মনীষার থেকে দূরত্ব কি কষ্ট দিয়েছিল নানা পাটেকরকে?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নানা পাটেকর ও মনীষা কৈরালার সম্পর্ক একটা সময় ভেঙে যায়। সেই বিচ্ছেদ নিয়ে নানা প্রকাশ্যে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইতেন না বলেই দাবি করা হয়েছে। তবে ১৯৯৭ সালের একটি সাক্ষাৎকারে মনীষার কথা উঠলে তাঁর আবেগের প্রকাশ ঘটেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।সেই সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর মনীষাকে মনে পড়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। সম্পর্কের যন্ত্রণা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, এমন কঠিন অভিজ্ঞতার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সহজ নয়। মনীষার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন, সেই ঘটনাও পরবর্তী সময়ে আলোচনায় এসেছে।
বিচ্ছেদের পরেও মনীষার প্রতিভার প্রশংসা করেছিলেন নানা
ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা থাকলেও মনীষা কৈরালার অভিনয়ক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন নানা পাটেকর। তাঁর কথায়, মনীষার মধ্যে সহজাত প্রতিভা রয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিনেত্রী।মনীষাকে অন্য কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন নানা। তাঁর মতে, অভিনেত্রীর নিজের প্রতিভা ও দক্ষতাই তাঁকে স্বতন্ত্র করে তুলতে পারে। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও মনীষার অভিনয়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল।
মনীষার কঠিন সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অভিনেতা
নব্বইয়ের দশকে ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কথা বহু বছর পরে নিজের আত্মজীবনীমূলক বই ‘হিলড’-এ লিখেছিলেন মনীষা কৈরালা। বইটিতে তিনি মানসিক চাপ সামলানোর জন্য মদ্যপানের আশ্রয় নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের সাক্ষাৎকারে মনীষার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নানা পাটেকর। অভিনেত্রীকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে দেখে তাঁরও কষ্ট হতো বলে জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে নানা স্বীকার করেছিলেন, মনীষার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার হয়তো তখন আর তাঁর ছিল না।
ব্যক্তিগত জীবনে দু’জনের পথ আলাদা হয়ে যায়
নানা পাটেকরের ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল নানা টানাপোড়েন। নীলকান্তি পাটেকরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁরা আলাদা থাকলেও তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।অন্যদিকে, ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দাহলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মনীষা কৈরালা। তবে সেই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; দু’বছরের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।দু’জনের ব্যক্তিগত জীবন সময়ের সঙ্গে আলাদা পথে এগোলেও তাঁদের একসঙ্গে অভিনীত ছবিগুলি এবং সেই সময়কার সম্পর্কের জল্পনা আজও দর্শকদের কৌতূহলের বিষয় হয়ে রয়েছে।
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর ও মনীষা কৈরালাকে ঘিরে একসময় নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল। ‘অগ্নি সাক্ষী’, ‘খামোশি’ ও ‘যুগ পুরুষ’-এর মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসে। ১৯৯৭ সালের একটি সাক্ষাৎকারে মনীষাকে নিয়ে আবেগপ্রবণ মন্তব্য করেছিলেন নানা। অভিনেত্রীর প্রতিভার প্রশংসা করার পাশাপাশি তাঁর কঠিন সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।








