চুনো মাছের নাম শুনলেই কি জিভে জল চলে আসে? তার সঙ্গে যদি থাকে কচকচে শাপলার ডাঁটা, কালোজিরের ফোড়ন আর কাঁচালঙ্কার ঝাঁজ, তা হলে তো কথাই নেই! উত্তরবঙ্গের ঘরোয়া রান্নায় শাপলা দিয়ে পুঁটি মাছের তরকারি বেশ পরিচিত একটি পদ। বাজারে শাপলা সহজলভ্য থাকায় বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন এই সুস্বাদু চচ্চড়ি। কীভাবে তৈরি করবেন? জেনে নিন সহজ রেসিপি।
পুজোর মরশুমে বাজারে শাপলার চাহিদা
পুজোর মরশুমে জলপাইগুড়ির দিনবাজার-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে টাটকা শাপলা। তিস্তা নদীর আশপাশের এলাকা এবং বিভিন্ন জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সাইকেল কিংবা টোটোয় করে বাজারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এই জলজ উদ্ভিদ। শাপলা বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তিস্তাপাড়ের বহু মানুষ।বাজারে ২০ টাকায় তিন আঁটি শাপলা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তাই কম খরচে ঘরোয়া রান্নায় নতুন স্বাদ আনতে চাইলে শাপলা হতে পারে ভালো বিকল্প।
শাপলা দিয়ে পুঁটি মাছের চচ্চড়ি বানাতে কী কী লাগবে?
এই পদ তৈরির জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে থাকা সাধারণ মশলা দিয়েই বানিয়ে নিতে পারবেন সুস্বাদু শাপলা-পুঁটি মাছের তরকারি।
উপকরণ:
- পুঁটি মাছ – ২৫০ গ্রাম
- শাপলার ডাঁটা – ২ আঁটি
- সর্ষের তেল – পরিমাণমতো
- কালোজিরে – আধ চা-চামচ
- হলুদ গুঁড়ো – পরিমাণমতো
- কাঁচালঙ্কা – ২–৩টি
- নুন – স্বাদমতো
ধাপে ধাপে জেনে নিন রান্নার পদ্ধতি
মাছ পরিষ্কার করে ভেজে নিন
প্রথমে পুঁটি মাছ ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর মাছের গায়ে নুন ও হলুদ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে মাছগুলি হালকা মুচমুচে করে ভেজে তুলে রাখুন।
শাপলা তৈরি করুন
শাপলার ডাঁটার বাইরের শক্ত আঁশ ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। এরপর পরিষ্কার জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। রান্নার আগে শাপলার কালচে বা ময়লাযুক্ত অংশ থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন।
ফোড়ন দিয়ে কষিয়ে নিন
এবার কড়াইতে সামান্য সর্ষের তেল গরম করে কালোজিরে ফোড়ন দিন। ফোড়নের সুগন্ধ বেরোলে কেটে রাখা শাপলার টুকরোগুলি দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। শাপলা কিছুটা নরম হয়ে এলে হলুদ গুঁড়ো ও স্বাদমতো নুন মিশিয়ে দিন।
মিশিয়ে দিন ভাজা পুঁটি মাছ
শাপলা ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে এলে আগে থেকে ভেজে রাখা পুঁটি মাছ কড়াইতে দিয়ে দিন। সঙ্গে চেরা কাঁচালঙ্কা যোগ করুন। অল্প জল দিয়ে ঢেকে কিছুক্ষণ রান্না করুন, যাতে মাছ ও শাপলার মধ্যে মশলার স্বাদ ভালোভাবে মিশে যায়।
তৈরি মাখোমাখো চচ্চড়ি
জল শুকিয়ে ঝোল ঘন হয়ে এলে এবং শাপলা নরম হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করে দিন। খেয়াল রাখবেন, নাড়াচাড়া করার সময় পুঁটি মাছ যেন অতিরিক্ত ভেঙে না যায়। তৈরি হয়ে গেল শাপলা দিয়ে পুঁটি মাছের চচ্চড়ি। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলেই জমে যাবে দুপুরের খাওয়াদাওয়া।
শাপলা দিয়ে আরও কী কী পদ বানানো যায়?
পুঁটি মাছের চচ্চড়ি ছাড়াও শাপলা দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের সুস্বাদু পদ। সর্ষে-পোস্ত বাটা, নারকেল কোরা ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে বানানো যায় শাপলা সর্ষে-পোস্ত ভাপা। আবার বেসন, কালোজিরে ও মশলার ব্যাটারে ডুবিয়ে শাপলা ভাজা তৈরি করা যায়। শাপলার ফুলের পাপড়ি দিয়ে বানানো বড়াও বিকল্প হিসেবে বেশ আকর্ষণীয়।
পুজোর মরশুমে বাজারে সহজেই মিলছে টাটকা শাপলা। এই শাপলা দিয়ে ভাজা, বড়া কিংবা সর্ষে-পোস্ত ভাপার পাশাপাশি বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু পুঁটি মাছের চচ্চড়ি। অল্প কয়েকটি মশলা আর ঘরোয়া উপকরণেই তৈরি করা যায় এই গ্রামবাংলার পরিচিত পদ। গরম ভাতের সঙ্গে শাপলা ও পুঁটি মাছের এই মাখোমাখো রান্না দুপুরের খাবারে এনে দেবে অন্য রকম স্বাদ।













