পুজোর বাজারে ইলিশের আকাল! দিঘার ট্রলারে উঠছে না রুপোলি রানি, উৎসবের পাত কি থাকবে ইলিশশূন্য?

দুর্গাপুজোর আগে দিঘা মোহনায় ইলিশের জোগান কম। নিম্নচাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাহত মাছ ধরা। পুজোর বাজারে দিঘার ইলিশ মিলবে কি না, জানুন বিস্তারিত।

বাঙালির দুর্গাপুজো আর ইলিশ—এই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে এক গভীর আবেগের সম্পর্ক। পুজোর ছুটিতে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া হোক কিংবা পরিবারের সঙ্গে বিশেষ দিনের মধ্যাহ্নভোজ, পাতে ইলিশ থাকলে আনন্দ যেন আরও বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের পুজোয় সেই চেনা স্বাদ পাওয়া নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয়। পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা মোহনায় ইলিশের জোগান কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে মাছ ব্যবসায়ী ও ভোজনরসিকদের মধ্যে। তাহলে কি এবার পুজোর বাজারে দিঘার ইলিশের দেখা মিলবে না?

দিঘা মোহনায় ইলিশের জোগান তলানিতে

পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা মোহনা সামুদ্রিক মাছের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানকার নিলাম কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ পৌঁছে যায় রাজ্যের নানা বাজারে। কলকাতা-সহ বাংলার বহু জায়গায় দিঘার মাছের চাহিদা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই কেন্দ্রে ইলিশের জোগান কমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকেরা।চলতি মরশুমের শুরু থেকেই ইলিশের আশানুরূপ দেখা মেলেনি বলে দাবি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের। অগাস্টের প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা ইলিশ ধরা পড়লেও তার পর থেকে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। ফলে পুজোর আগে পর্যাপ্ত ইলিশ বাজারে পৌঁছনো নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

নিম্নচাপ ও দুর্যোগে ব্যাহত মাছ ধরার কাজ

এবার ইলিশের জোগান কম থাকার অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগরে পরপর নিম্নচাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। খারাপ আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। এর ফলে মাছ ধরার কাজে ব্যাঘাত ঘটে।দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পর ইলিশের জোগান বাড়বে বলে আশা করেছিলেন মৎস্যজীবীরা। কিন্তু সেই আশা এখনও পূরণ হয়নি। অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ কিছু পরিমাণে পাওয়া গেলেও ইলিশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেই জানিয়েছেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা।

পুজোর সময় দিঘার ইলিশ পাওয়ার আশা কতটা?

দিঘা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মরশুমের শুরু থেকে ইলিশের জোগান কম ছিল। অগাস্টে কিছু মাছ পাওয়া গেলেও পরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সমুদ্রে মাছ ধরার কাজ ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও ইলিশের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে।এই পরিস্থিতিতে পুজোর সময় দিঘার ইলিশ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ইলিশের জোগান ভবিষ্যতে বাড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছের জোগান নিয়েও উদ্বেগ

ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের জোগানও এ বছর আগের কয়েক বছরের তুলনায় কম বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ফলে মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকদের আর্থিক চাপ বাড়ছে। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার খরচের সঙ্গে যদি পর্যাপ্ত মাছ না মেলে, তাহলে লোকসানের আশঙ্কাও তৈরি হয়।অন্যদিকে, পুজোর বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় মাছের জোগান কম হওয়ার প্রভাব খুচরো বাজারেও পড়তে পারে। তবে ইলিশের দাম কতটা বাড়বে বা বাজারে ঠিক কত পরিমাণ মাছ পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে জোগানের পরিস্থিতির উপর।

দুর্গাপুজোর আগে দিঘা মোহনায় ইলিশের জোগান কম থাকায় চিন্তায় মৎস্যজীবী ও মাছ ব্যবসায়ীরা। চলতি মরশুমের শুরু থেকেই ইলিশের দেখা তেমন মেলেনি। অগাস্টের প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ে কিছু মাছ উঠলেও পরবর্তী সময়ে ট্রলারে ইলিশের জোগান কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি মৎস্যজীবীদের। বঙ্গোপসাগরে পরপর নিম্নচাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছিল। ফলে পুজোর বাজারে দিঘার ইলিশ কতটা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave a comment