বাড়িতে পোষ্য থাকলে তাদের সঙ্গে সময় কাটানো যেমন আনন্দের, তেমনই ঘর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি ঝামেলাও থাকে। বিশেষ করে কুকুর বা বিড়াল ভুল করে সোফা, বিছানা কিংবা ঘরের কোণে প্রস্রাব করে ফেললে দুর্গন্ধ সহজে দূর হতে চায় না। শুধু মেঝে মুছে দিলেই অনেক সময় সমস্যার সমাধান হয় না, কারণ প্রস্রাব গদি বা কাপড়ের গভীরে ঢুকে যেতে পারে। তবে কয়েকটি সহজ পরিষ্কারের কৌশল মেনে চললে ঘরের দুর্গন্ধ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বেকিং সোডা ব্যবহার করুন সাবধানে
ঘরের দুর্গন্ধ কমাতে বেকিং সোডা পরিচিত একটি ঘরোয়া উপাদান। প্রস্রাবের জায়গাটি প্রথমে পরিষ্কার কাপড় বা কাগজ দিয়ে চেপে অতিরিক্ত তরল শুষে নিন। এরপর জায়গাটি উপযুক্ত ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। গদি বা কার্পেটের মতো উপাদানে ব্যবহার করার আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করুন।কিছু ক্ষেত্রে শুকনো বেকিং সোডা গন্ধ শোষণে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি প্রস্রাবের সমস্ত উপাদান দূর করে না। ব্যবহার করলে পরে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়ো তুলে ফেলুন। পোষ্য যেন বেকিং সোডা চেটে না খায় বা শ্বাসের সঙ্গে গুঁড়ো টেনে না নেয়, তা নিশ্চিত করুন।
সাদা ভিনিগার ও জলের মিশ্রণ কি কাজে আসে?
সাদা ভিনিগার ও জল সমপরিমাণে মিশিয়ে কিছু শক্তপৃষ্ঠে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কাঠ, প্রাকৃতিক পাথর, নির্দিষ্ট ধরনের কাপড় বা রঙ করা আসবাবের ক্ষেত্রে ভিনিগার ক্ষতি করতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে পৃষ্ঠের উপাদান অনুযায়ী নির্দেশিকা দেখে নিন এবং প্রথমে চোখে পড়ে না এমন জায়গায় পরীক্ষা করুন।মনে রাখবেন, ভিনিগার সব ধরনের প্রস্রাবের গন্ধ পুরোপুরি দূর করতে পারে না। গদি বা সোফার গভীরে প্রস্রাব ঢুকে গেলে বিশেষ পোষ্য-উপযোগী ক্লিনার বেশি কার্যকর হতে পারে।সতর্কতা: ভিনিগারের সঙ্গে কখনও ব্লিচ মেশাবেন না। এতে বিপজ্জনক গ্যাস তৈরি হতে পারে।
পোষ্যদের প্রস্রাবের গন্ধ দূর করতে এনজাইমযুক্ত ক্লিনার
কুকুর-বিড়ালের প্রস্রাব পরিষ্কার করার জন্য তৈরি এনজাইমযুক্ত ক্লিনার অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর বিকল্প। এই ধরনের পণ্যের উপাদান প্রস্রাবের গন্ধ সৃষ্টিকারী জৈব অবশিষ্টাংশ ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে একই জায়গায় গন্ধ থেকে যাওয়ার সমস্যা কমতে পারে।ব্যবহারের সময় পণ্যের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময় অপেক্ষা করুন। গদি, কার্পেট বা সোফায় ব্যবহার করলে সেই উপাদানের জন্য পণ্যটি নিরাপদ কি না, তা দেখে নিন। পরিষ্কারের জায়গা শুকনো না হওয়া পর্যন্ত পোষ্যকে দূরে রাখুন।
বিড়ালের লিটার বাক্স নিয়মিত পরিষ্কার করুন
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধ ছড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে অপরিষ্কার লিটার বাক্স। তাই প্রতিদিন নিয়মিত মল ও জমে থাকা প্রস্রাব সরিয়ে ফেলুন। বাক্সের ভিতর ও চারপাশও পরিষ্কার রাখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী লিটার পরিবর্তন করুন এবং বাক্সটি এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে।কুকুরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রস্রাবের জায়গা থাকলে সেটিও নিয়মিত পরিষ্কার করুন। দুর্গন্ধ দূর করতে শুধু সুগন্ধি স্প্রে ব্যবহার না করে গন্ধের উৎস পরিষ্কার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্রাব পড়লে দ্রুত পরিষ্কার করুন
প্রস্রাব শুকিয়ে গেলে তার গন্ধ কাপড়, গদি বা মেঝেতে দীর্ঘক্ষণ থেকে যেতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব কাগজ বা শোষণক্ষম কাপড় দিয়ে জায়গাটি চেপে অতিরিক্ত তরল তুলে নিন। ঘষাঘষি করলে প্রস্রাব আরও ছড়িয়ে যেতে পারে, তাই জোরে ঘষবেন না।এরপর পৃষ্ঠের উপযোগী ক্লিনার ব্যবহার করুন এবং জায়গাটি ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ফ্যান বা ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে শুকনো পরিবেশ বজায় রাখতে পারেন।
ফিনাইল বা ব্লিচ ব্যবহার করার আগে সতর্ক হন
দুর্গন্ধ দূর করতে অনেকেই শক্তিশালী মেঝে পরিষ্কারক ব্যবহার করেন। কিন্তু সব পরিষ্কারক পোষ্যদের জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে ঘন রাসায়নিক, ব্লিচ বা সুগন্ধিযুক্ত পণ্য ব্যবহারের সময় লেবেলের নির্দেশ মেনে চলুন। একাধিক ক্লিনার একসঙ্গে মেশাবেন না।পরিষ্কার করার সময় কুকুর-বিড়ালকে অন্য ঘরে রাখুন এবং পৃষ্ঠটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পরই তাদের সেখানে যেতে দিন। পোষ্যদের জন্য উপযুক্ত বলে চিহ্নিত পণ্য বেছে নেওয়াই ভালো।
বারবার ঘরের ভিতরে প্রস্রাব করলে কারণ খুঁজুন
প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও পোষ্য যদি হঠাৎ ঘরের ভিতরে বারবার প্রস্রাব করতে শুরু করে, তাহলে বিষয়টি শুধু অভ্যাসের সমস্যা বলে ধরে নেবেন না। মূত্রনালির সংক্রমণ, অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা, উদ্বেগ কিংবা লিটার বাক্সের অসুবিধাও এর কারণ হতে পারে।বিশেষ করে প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়া, অল্প অল্প করে বারবার প্রস্রাব করা বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষত বিড়াল প্রস্রাব করার চেষ্টা করেও করতে না পারলে সেটি জরুরি পরিস্থিতি হতে পারে।
বাড়িতে কুকুর বা বিড়াল থাকলে অনেক সময় সোফা, গদি কিংবা ঘরের কোণে প্রস্রাবের দুর্গন্ধ থেকে যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে বা বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে সেই গন্ধ দূর করা কঠিন হয়ে পড়ে। বেকিং সোডা, উপযুক্ত ক্ষেত্রে সাদা ভিনিগার এবং পোষ্যদের জন্য তৈরি এনজাইমযুক্ত ক্লিনার ব্যবহার করে দুর্গন্ধ কমানো যেতে পারে। পাশাপাশি লিটার বাক্স নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং প্রস্রাবের জায়গা দ্রুত মুছে ফেলাও জরুরি। তবে পরিষ্কারের সময় পোষ্যের নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখতে হবে।













