আলিগড়ে নাম ও পরিচয় অপব্যবহারের অভিযোগে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের ছেলের FIR

আলিগড়ে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ কুমার নবমানের ছেলে নন্দপ্রকাশ নবমানের নামে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কথিত ভুয়ো অভিযোগ পাঠানোর অভিযোগে বান্নাদেবী থানায় FIR দায়ের হয়েছে। ডিআইজিপির নির্দেশে২ লাখ টাকা গুরুদক্ষিণার কথিত আত্মসাতের তদন্তের দাবিও করা হয়েছিল।
আলিগড়ে নাম ও পরিচয় অপব্যবহারের অভিযোগে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের ছেলের FIR
Photo Credit / Attribution: Google

আলিগড়ে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক প্রয়াত কৃষ্ণ কুমার নবমানের ছেলে নন্দপ্রকাশ নবমান তাঁর নাম ও পরিচয় কথিতভাবে অপব্যবহারের অভিযোগে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কোনও অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর নামে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি জাল অভিযোগ পাঠিয়েছেন। তিনি বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য এমন কোনও অভিযোগ করেননি। ডিআইজিপির নির্দেশের পর বান্নাদেবী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

নন্দপ্রকাশ নবমানের দাবি, কথিত অভিযোগটির বিষয়ে তিনি কোল এসডিএমের কার্যালয় থেকে জানতে পারেন। এরপর তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ডিআইজিপির কাছে অভিযোগ জানান এবং সম্পূর্ণ তদন্তের দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁর নামে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে এমন অভিযোগ ও দাবি করা হয়েছিল, যার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।

তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি সামনে আসার পর নন্দপ্রকাশ পুরো বিষয়টি জানতে পারেন বলে জানা গেছে। কথিত অভিযোগে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগে সংঘের সঙ্গে কথিতভাবে যুক্ত ভূমাফিয়া ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পদ থেকে সরিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৪২ লাখ টাকা গুরুদক্ষিণার কথিত আত্মসাতের তদন্তের দাবিও জানানো হয়।

নন্দপ্রকাশের অভিযোগ, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এ ধরনের কোনও অভিযোগ পাঠাননি। তাঁর দাবি, কোনও ব্যক্তি তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে অভিযোগটি তৈরি করে সরকারি ব্যবস্থার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, কোনও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে তাঁর নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে এভাবে ভুয়ো অভিযোগ তৈরি করা গুরুতর বিষয়। কে অভিযোগটি তৈরি করেছে, কোন মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং এর পিছনে কার উদ্দেশ্য ছিল, তদন্তের মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে আসা উচিত বলে তিনি দাবি করেছেন।

নন্দপ্রকাশ তাঁর প্রার্থনাপত্রে আরও অভিযোগ করেছেন, এর আগেও তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কথিতভাবে মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে যুক্ত করে দাবি করেছেন, তাঁর পরিবারকে ধারাবাহিকভাবে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা পুলিশের তদন্তের পরই নিশ্চিত হবে।

মামলায় প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণ কুমার নবমানের নামও সামনে এসেছে। নন্দপ্রকাশ অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও অতীতে অভিযোগ করা হয়েছিল। তিনি তাঁর বাবা এবং ভাই সত্যপ্রকাশ নবমানের মৃত্যুর উল্লেখ করে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এবং দাবি করেছেন, ধারাবাহিক অভিযোগ, কথিত হয়রানি ও মানসিক চাপ পরিবারকে প্রভাবিত করেছে। এই অভিযোগগুলির প্রকৃত অবস্থাও পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

ভুয়ো অভিযোগের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ এখন অভিযোগপত্র পরীক্ষা করবে। প্রথমে চিঠিটি আসলে কে তৈরি করেছিল, তা জানার চেষ্টা করা হবে। এরপর অভিযোগ পাঠানোর পদ্ধতি, ব্যবহৃত নথি, নাম ও পরিচয়-সংক্রান্ত বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হতে পারে।

পুলিশ কথিত অভিযোগে করা দাবিগুলির উৎসও পরীক্ষা করতে পারে। অভিযোগটি অনলাইন মাধ্যমে পাঠানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে চিঠিটি কোনও কার্যালয় বা ডাকের মাধ্যমে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট নথি ও রেকর্ডও পরীক্ষা করা যেতে পারে।

নন্দপ্রকাশের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর বিষয়টি আইনি তদন্তের আওতায় এসেছে। বান্নাদেবী থানার পুলিশ মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগটির পিছনে কারা থাকতে পারে এবং নন্দপ্রকাশের পরিচয় কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় বিজেপি ও সংঘের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ভুয়ো অভিযোগ করার দাবিও আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগপত্রে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। এফআইআর দায়ের হওয়া অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না। পুলিশের তদন্ত ও প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।

নন্দপ্রকাশ তাঁর পরিবারের জন্য পুলিশি নিরাপত্তারও দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ধারাবাহিক কথিত ভুয়ো অভিযোগের কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দোষী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে আরও জানান, তাঁর ছেলে ২০২২ সালে বিয়ে করেছেন এবং তিনি ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে গৌতম বুদ্ধ নগরে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে আলিগড়ে তাঁর নামে পাঠানো অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি পুলিশের কাছে ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের দাবি করেন।

পুরো ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, নন্দপ্রকাশ নবমানের নাম ব্যবহার করে অভিযোগটি কে পাঠিয়েছিল। পুলিশি তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে জাল নথি তৈরি করে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে, তাহলে আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

তদন্তে যদি কোনও রাজনৈতিক বিরোধ বা পারস্পরিক শত্রুতার বিষয় সামনে আসে, পুলিশ সেই দিকও খতিয়ে দেখতে পারে। অভিযোগে যেসব ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছে, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে, যাতে কথিত অভিযোগ তৈরির পিছনে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণ ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা যায়।

ঘটনাটি সামনে আসার পর আলিগড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের ছেলের অভিযোগের কারণে বিষয়টি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ভুয়ো অভিযোগটি কে তৈরি করেছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করাই এখন পুলিশের কাজ।

বর্তমানে বান্নাদেবী পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ নথি, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পরীক্ষা করবে। নন্দপ্রকাশের করা অভিযোগগুলির সত্যতাও তদন্তের সময়ই নির্ধারিত হবে। অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে কথিতভাবে ভুয়ো অভিযোগ তৈরি ও পরিচয় অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

Leave a comment