রক্ষাবন্ধন উপলক্ষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবোঝাই একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাসের চালক বাথরুমে যাওয়ার জন্য হঠাৎ রাস্তার পাশে বাসটি থামান। সেই সময় পিছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক বাসটিকে জোরালোভাবে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর বাসের ভিতরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।
বাসের যাত্রীরা রক্ষাবন্ধনের উৎসব উপলক্ষে নিজেদের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। উৎসবের কারণে বাসে যাত্রীর সংখ্যাও বেশি ছিল। দীর্ঘ সময় পর বাড়ি পৌঁছে ভাই-বোনদের সঙ্গে রক্ষাবন্ধন উদযাপনের প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার পর কয়েকটি পরিবারের উৎসবের পরিবেশ শোকে পরিণত হয়েছে।
যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে স্বাভাবিক গতিতে চলছিল। পরে চালকের বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে দেন। চালক বাস থেকে নামার পর পিছন দিক থেকে আসা ট্রাকটি বাসটিকে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের শব্দে বাসের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন যাত্রী আসন থেকে পড়ে যান এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। বাসের আশপাশে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়া অন্য যানবাহনও থামতে শুরু করে। স্থানীয়রা পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সকে দুর্ঘটনার খবর দেন।
দুর্ঘটনায় তিনজন যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ মৃতদেহগুলি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পুলিশ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দুর্ঘটনার খবর জানানোর ব্যবস্থা করেছে। উৎসবের দিনে স্বজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারগুলিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজন আহতের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসক দলের সদস্যরা তাঁদের চিকিৎসা শুরু করেছেন। গুরুতর আহত যাত্রীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহনগুলি রাস্তা থেকে সরানোর কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ ও এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ যানবাহনগুলি রাস্তার পাশে সরিয়ে দিয়ে পথ পরিষ্কার করে, যাতে পিছন থেকে আসা যানবাহনের সঙ্গে আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়েতে বাস থামানো এবং পিছন থেকে আসা ট্রাকের ধাক্কাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করছে। ট্রাকটির গতি কত ছিল, বাসটি ঠিক কোথায় থামানো হয়েছিল এবং বাসের পিছনে পর্যাপ্ত সংকেত বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক্সপ্রেসওয়েতে কোনো যানবাহন হঠাৎ থামানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে দ্রুতগতির যান চলাচলের রাস্তায় পিছন থেকে আসা গাড়ির চালকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনটি শনাক্ত করতে সময় লাগতে পারে। পিছন থেকে আসা যানবাহনের গতি বেশি হলে চালকের কাছে ব্রেক করা বা দিক পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় নাও থাকতে পারে। এতে সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ে।
রক্ষাবন্ধনের কারণে এই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস, ট্রেন এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে বাড়ির দিকে যাতায়াত করেন। দূরবর্তী শহর থেকে বহু মানুষ নিজেদের গ্রাম ও শহরে পৌঁছান। ফলে এই সময় এক্সপ্রেসওয়ে ও হাইওয়েতে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যায়।
এই দুর্ঘটনায়ও যাত্রীদের যাত্রা শুরু হয়েছিল উৎসবের প্রত্যাশা নিয়ে। পরিবারের সদস্যরা ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য রক্ষাবন্ধনের দিনটি একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে থাকবে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরিজনরা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের দিকে রওনা দেন। হাসপাতালে পৌঁছানো পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের অবস্থা জানার জন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। মৃতদের পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ শনাক্তকরণ ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজে যুক্ত হন।
পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও ট্রাক নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় বাসটি কোন লেনে ছিল এবং ট্রাকটি কোন দিক থেকে আসছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়েতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেলে তা থেকেও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে সহায়তা মিলতে পারে।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও ট্রাকের কারণে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। দুটি যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে উত্তরপ্রদেশের অন্যতম প্রধান এক্সপ্রেসওয়ে এবং এখানে সাধারণ সড়কের তুলনায় যানবাহনের গতি অনেক বেশি থাকে। এই কারণে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন থামানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে যান থামাতে হলে নিরাপদ স্থান এবং নির্ধারিত পার্কিং বা জরুরি লেন ব্যবহার করা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। যারা দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন, তাঁদের কাছেও ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ। বাসে থাকা যাত্রীরা সংঘর্ষের পরের পরিস্থিতি এবং আহত সহযাত্রীদের দেখতে পান। দুর্ঘটনার পর অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।
বাসে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন এবং দুর্ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন, পুলিশ এখন তা-ও তদন্ত করছে। মৃত ও আহতের সঠিক সংখ্যা পুলিশ রেকর্ড এবং হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট হবে। পরিজনদের খবর দেওয়া এবং সব যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
বাসটি কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে থামানো হয়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাসটি কোনো নিরাপদ স্থানে না থামানো হয়ে থাকলে তা তদন্তের অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাকচালকের গতি এবং তাঁর প্রতিক্রিয়াও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হবে। পুলিশ উভয় পক্ষের বক্তব্য ও পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
রক্ষাবন্ধনের দিনে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় কয়েকটি পরিবার তাঁদের স্বজনদের হারিয়েছে। যেসব পরিবারে উৎসবের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন শোকের পরিবেশ। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের কাছে দিনটি একটি বেদনাদায়ক ঘটনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতা অবলম্বনের আবেদন করা হয়। এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চালানোর সময় নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া যানবাহন না থামানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো কারণে যানবাহন থামাতে হলে নিরাপদ স্থান বেছে নেওয়া এবং পিছন থেকে আসা যানবাহনকে সংকেত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
বর্তমানে পুলিশ দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ বিষয়টি তদন্ত করছে। তিনজনের মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারগুলিতে শোকের পরিবেশ রয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ট্রাকচালকের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
রক্ষাবন্ধনের দিনে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাড়ি ফেরার পথে বাসটি থামার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি কোন পরিস্থিতিতে থামানো হয়েছিল, ট্রাকচালক সময়মতো ব্রেক করতে পারেননি কেন এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পরিস্থিতিগুলি কী ছিল, পুলিশি তদন্তে তা স্পষ্ট হবে।










