নয়াদিল্লি: সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের পর বিজেপির নতুন জাতীয় টিমকে নিয়ে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল শনিবার। দিল্লিতে দলের সদর দফতরে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। সামনে একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তাই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের যোগাযোগ বাড়ানোই ছিল বৈঠকের অন্যতম মূল লক্ষ্য।
৬৫ সদস্যের টিমে ৫১ জনই নতুন মুখ
বিজেপির নতুন জাতীয় টিমের ঘোষণা করা হয়েছিল ১৭ অগস্ট। মোট ৬৫ জন জাতীয় পদাধিকারীর মধ্যে ৫১ জনই নতুন মুখ। শনিবার তাঁদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের প্রথম যৌথ বৈঠক হয়।নতুন টিমের পাশাপাশি আগের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং কয়েকটি রাজ্যের বিজেপি সভাপতিও বৈঠকে অংশ নেন। ফলে সাংগঠনিক পরিবর্তনের পর দলের আগামী দিনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়।
সামনে নির্বাচন, বুথস্তরেই জোর
দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে। শুধু রাজ্য বা জেলা স্তরে নয়, বুথ এবং একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও কাজের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দলের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও নিবিড় করার বিষয়ে নতুন জাতীয় টিমকে প্রয়োজনীয় দিশা দেওয়া হয়।
নতুন টিমে অভিজ্ঞ মুখও রয়েছেন
নতুন জাতীয় টিমে সংগঠন এবং সরকার—দুই ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন বেশ কয়েকজন নেতাকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, প্রাক্তন রাজস্থান মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এবং প্রাক্তন ত্রিপুরা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।এছাড়াও বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষ-সহ একাধিক প্রবীণ নেতা রয়েছেন নতুন কাঠামোয়। রাম মাধবকে জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল পেয়েছেন জাতীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব।
বৈঠকে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও প্রস্তাব
রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক আলোচনার পাশাপাশি বৈঠকে উঠে এসেছে ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গও। বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের প্রথম বৈঠকে গানটির সম্মানে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।এ বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি ও আবেগের সঙ্গে গানটির প্রসঙ্গ উঠে আসছে। বিজেপি এটিকে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।এই প্রসঙ্গের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। সম্প্রতি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলীয় কর্মসূচিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ১৯৩৭ সালের প্রস্তাব অনুযায়ী গানটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই অবস্থানের সমালোচনা করেছে বিজেপি।
মোদির বার্তা কী?
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সাংগঠনিক বৈঠকগুলি নতুন ভাবনা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করে। তাঁর মতে, এর মূল লক্ষ্য হল দলকে আরও শক্তিশালী।নতুন জাতীয় টিমের সঙ্গে এই বৈঠক তাই শুধুমাত্র পরিচয়পর্ব নয়। বরং সামনে থাকা নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজেপির সাংগঠনিক কৌশলেরও ইঙ্গিত মিলেছে এই বৈঠক থেকে।
বিজেপির নতুন জাতীয় টিমের সঙ্গে প্রথম বড় বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৬৫ সদস্যের এই টিমে ৫১ জনই নতুন মুখ। বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, বুথস্তরে সংগঠন মজবুত করা, সরকারি প্রকল্পের প্রচার এবং ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।











