নয়াদিল্লি: নতুন মোবাইল সিম নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এবার থেকে বেশ কিছু নতুন নিয়ম মাথায় রাখতে হবে। ভুয়ো সিম, পরিচয়পত্রের অপব্যবহার এবং সাইবার প্রতারণা ঠেকাতে টেলিকম পরিষেবায় গ্রাহকের পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কড়া করা হয়েছে। ২১ অগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু আধার কার্ডের ফটোকপি দিয়ে সিম নেওয়া যাবে না; গ্রাহকের লাইভ বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই করতে হবে।
শুধু আধার কার্ডের কপি দিলেই হবে না
আগে অনেক ক্ষেত্রেই পরিচয়পত্রের কপি দিয়ে সিমের আবেদন করা যেত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকের পরিচয় সরাসরি যাচাই করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।লাইভ ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, মুখের লাইভ ছবি বা প্রয়োজন অনুযায়ী আইরিস স্ক্যান ব্যবহার করা হতে পারে। উদ্দেশ্য একটাই—অন্যের নথি ব্যবহার করে ভুয়ো পরিচয়ে সিম নেওয়ার সুযোগ কমানো।
আধার থাকলে কীভাবে হবে e-KYC?
যাঁদের আধার রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক e-KYC-এর মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা যাবে। অর্থাৎ গ্রাহককে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক দিতে হবে।অন্যদিকে, কোনও ব্যক্তির আধার না থাকলে অথবা শারীরিক সমস্যা, আঘাত কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া সম্ভব না হলে বৈধ নথির ভিত্তিতে Digital KYC বা D-KYC-এর মাধ্যমে মুখের লাইভ স্ক্যান করা হতে পারে।ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পর গ্রাহকের কাছেও যাচাই সংক্রান্ত অ্যালার্ট পৌঁছতে পারে।
পুরনো সিম বদলালেও লাগবে বায়োমেট্রিক
নিয়মটি শুধুমাত্র নতুন সিম কেনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। পুরনো সিম রিপ্লেস বা আপগ্রেড করার সময়ও বায়োমেট্রিক যাচাই করতে হবে।এমনকী গ্রাহকের নাম, লিঙ্গ বা জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করলেও নতুন করে পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
ইচ্ছেমতো অন্যের নামে সিম ট্রান্সফার নয়
নতুন নিয়মে নিজের নামে থাকা চালু সিম যে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির কাছে ইচ্ছেমতো হস্তান্তর করার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিকট আত্মীয় বা আইনি উত্তরাধিকারীর কাছে সিম ট্রান্সফারের অনুমতি দেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাচাই করতে হবে।কোনও সংস্থা বা ব্যবসার নামে সিম নেওয়া হলে শুধু অনুমোদিত প্রতিনিধির তথ্য নয়, বাস্তবে যিনি নম্বরটি ব্যবহার করবেন, সেই ‘এন্ড ইউজার’-এর পরিচয়ও নথিভুক্ত করা হবে।
ভুয়ো তথ্য দিলে কী হতে পারে?
পরিচয় যাচাইয়ের সময় ভুল তথ্য দেওয়া, ভুয়ো নথি ব্যবহার করা বা নিয়ম ভেঙে সিম নেওয়ার চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংযোগ সাসপেন্ড বা ডিসকানেক্ট করা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে বিষয়টি পুলিশের কাছেও জানানো হবে।
দোকানদার আপনার বায়োমেট্রিক ডেটা রাখতে পারবেন না
নতুন নিয়মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষা। সিম বিক্রির Point of Sale বা দোকানে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য স্টোর করার অনুমতি নেই।
অর্থাৎ সিম নেওয়ার সময় দোকানে বায়োমেট্রিক যাচাই হলেও সেই তথ্য দোকানদারের ব্যক্তিগত সিস্টেমে জমা করে রাখার কথা নয়।
টেলিকম অপারেটরগুলিকেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের সিস্টেম আরও নিরাপদ ও আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন?
অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়ো সিম নেওয়া এবং সেই নম্বর দিয়ে সাইবার প্রতারণা চালানোর ঘটনা ঠেকানোই নতুন নিয়মের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। লাইভ বায়োমেট্রিক যাচাই চালু হলে শুধুমাত্র চুরি করা বা জাল নথি ব্যবহার করে সিম সক্রিয় করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে।
নতুন সিম কার্ড নিতে এখন শুধু আধার কার্ডের ফটোকপি জমা দিলেই হবে না। টেলিকম পরিষেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে লাইভ বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন সংযোগের পাশাপাশি সিম রিপ্লেসমেন্ট, নাম বা তথ্য সংশোধন এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সিম ট্রান্সফারের সময়ও এই যাচাই করতে হবে।









