বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্র সরকারের National Overseas Scholarship (NOS) একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য শিক্ষার্থীরা বিদেশে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য বিস্তৃত আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন, যাতে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
National Overseas Scholarship (NOS) কেন্দ্র সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃত্তি প্রকল্প, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিশ্বের স্বীকৃত ও খ্যাতনামা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান।
প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো এমন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা, যারা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক কারণে বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে সক্ষম নন। সরকারের লক্ষ্য, যোগ্য শিক্ষার্থীরা যেন বৈশ্বিক মানের শিক্ষা অর্জন করে নিজেদের কর্মজীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারেন এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন।
এই বৃত্তি বিশেষভাবে তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি জনজাতি (ST), ডি-নোটিফায়েড, যাযাবর ও অর্ধ-যাযাবর জনজাতি (DNT), ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক এবং ঐতিহ্যবাহী কারিগর পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য উপলব্ধ।
প্রকল্পের অধীনে আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। SC, DNT, ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক এবং ঐতিহ্যবাহী কারিগর শ্রেণির আবেদনকারীদের পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লাখ টাকার কম হতে হবে। অন্যদিকে ST শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ বার্ষিক আয়ের সীমা ৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া আবেদনকারীর বয়স আবেদনের সময় ৩৫ বছরের কম হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, শিক্ষার্থীর কাছে কোনো স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে শর্তহীন ভর্তি প্রস্তাবপত্র (Unconditional Offer Letter) থাকতে হবে।

National Overseas Scholarship-এর আওতায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসংক্রান্ত অধিকাংশ ব্যয় সরকার বহন করে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার জন্য মেইনটেন্যান্স অ্যালাউন্স, মেডিক্যাল ইনশুরেন্স, ভিসা ফি এবং বিদেশ যাতায়াতের জন্য ইকোনমি ক্লাস বিমান ভাড়ার ব্যয়।
এই আর্থিক সহায়তার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমানো, যাতে তারা সম্পূর্ণভাবে পড়াশোনা ও গবেষণার কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন। এ কারণেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
National Overseas Scholarship-এর জন্য আবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মাধ্যমে করা হয়। তফসিলি জাতি, DNT, ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক এবং ঐতিহ্যবাহী কারিগর শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সামাজিক ন্যায়বিচার ও অধিকারিতা মন্ত্রণালয় (MSJE)-এর পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
অন্যদিকে তফসিলি জনজাতি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া জনজাতীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের National Overseas Scholarship পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের যোগ্যতার মানদণ্ড, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসংক্রান্ত শর্তাবলি এবং আবেদনের শেষ তারিখ সম্পর্কে সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, National Overseas Scholarship বিদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে আগ্রহী কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই প্রকল্প উচ্চশিক্ষার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও উৎসাহিত করে।









