ভারতীয় বায়ুসেনার নেতৃত্বে এবার নতুন দায়িত্ব পেতে চলেছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত। বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিংয়ের অবসরের পর তাঁর হাতে উঠবে দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দেশীয় যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। বিশেষ করে তেজস-সহ দেশীয় বিমান প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৮৬ সালে বায়ুসেনায় যোগ, দীর্ঘ চার দশকের অভিজ্ঞতা
এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত ১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার স্ট্রিমে কমিশন পান। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি, বাংলাদেশের ডিফেন্স স্টাফ সার্ভিস কলেজ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের প্রাক্তনী তিনি। ফলে সামরিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মিরাজ থেকে তেজস, উড়েছেন একাধিক বিমানে
আকাশে তাঁর অভিজ্ঞতার পরিধিও যথেষ্ট বিস্তৃত। বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ও সামরিক বিমানে ৩,৫০০ ঘণ্টারও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে আশুতোষ দীক্ষিতের।তাঁর উড়ানো বিমানের তালিকায় রয়েছে Mirage-2000, MiG-এর বিভিন্ন সংস্করণ, Kiran, Jaguar, IL-78, Hawk এবং LCA Tejas। ফলে পুরনো প্রজন্মের যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে আধুনিক দেশীয় যুদ্ধবিমান—বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
শুধু পাইলট নন, Experimental Test Pilot-ও
আশুতোষ দীক্ষিতের সামরিক পরিচয়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তিনি একজন Experimental Test Pilot এবং Qualified Flying Instructor। অর্থাৎ বিমান চালনার পাশাপাশি নতুন বা পরিবর্তিত বিমান ব্যবস্থার পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।এই অভিজ্ঞতা দেশীয় যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একাধিক সামরিক অভিযান ও মহড়ায় যুক্ত
দীর্ঘ কর্মজীবনে আশুতোষ দীক্ষিত একাধিক সামরিক অভিযান ও মহড়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে অপারেশন সাগর, অপারেশন রক্ষক এবং অপারেশন সিঁদুর-এর নাম উল্লেখযোগ্য।ফলে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বাস্তব সামরিক অভিযান ও অপারেশনাল পরিস্থিতিতেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আশুতোষ দীক্ষিতের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি Jaguar এবং MiG-27 যুদ্ধবিমানের দেশীয় আপগ্রেড প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করেছেন।এছাড়াও Medium Multi Role Combat Aircraft বা MMRCA প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং ফিল্ড ট্রায়ালের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
২০২৩ সালে পেলেন Ati Vishisht Seva Medal
সামরিক ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে আশুতোষ দীক্ষিতকে Ati Vishisht Seva Medal প্রদান করা হয়।তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং অপারেশনাল জ্ঞান মিলিয়ে বায়ুসেনার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তেজস ও দেশীয় বিমান প্রকল্পে বড় দায়িত্ব
ভারতীয় বায়ুসেনার সামনে আগামী দিনে দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই জায়গায় LCA Tejas-সহ বিভিন্ন দেশীয় বিমান প্রকল্পের সঙ্গে আশুতোষ দীক্ষিতের অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কাজে লাগতে পারে।বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিংয়ের অবসরের পর নতুন প্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে চলেছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার পরবর্তী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ সামরিক জীবনে বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও সামরিক বিমানে ৩,৫০০ ঘণ্টার বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বাংলাদেশের ডিফেন্স স্টাফ সার্ভিস কলেজ, ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের প্রাক্তনী দীক্ষিত একাধিক সামরিক অভিযান, বিমান পরীক্ষা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।











